নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: আলোকসজ্জার গেটে কোনও অবস্থাতেই এবার খোলা তার থাকবে না। মঙ্গলবারের দুর্যোগে জলবন্দি কলকাতা শহরে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে ৮ জনের মৃত্যুর পরদিনই বাহিনীকে এই নির্দেশ দিলেন কলকাতার পুলিস কমিশনার মনোজ ভার্মা। বুধবার দুপুরে আলিপুর বডিগার্ড লাইন্সে আসন্ন দুর্গাপুজোর নিরাপত্তা সংক্রান্ত এক ঘরোয়া বৈঠকে একথা বলেন তিনি।
উল্লেখ্য, অতীতের মতো এবার পুজোতেও চতুর্থীর দিন থেকেই কলকাতা পুলিস রাস্তায় নামবে। আলিপুর বডিগার্ড লাইন্সে এদিনের প্রায় সোয়া ঘণ্টার বৈঠকে উপস্থিত নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কলকাতা পুলিসের এক সূত্র জানাচ্ছে, বক্তব্য রাখতে গিয়ে সিপি এদিন বলেন, এবার পুজোতে বৃষ্টির পূর্বাভাষ রয়েছে। তাই প্যান্ডেল থেকে শুরু করে আলোকসজ্জার গেট—কোথাও ‘নেকেড’ বা খোলা তার থাকবে না। বিষয়টি সবাইকে লক্ষ্য রাখতে হবে। উৎসবের দিনে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে মর্মান্তিক মৃত্যুর পুনরাবৃত্তি এড়াতেই বাহিনীকে এমন নির্দেশ বলে মনে করছেন বাহিনীর একাংশ।
গত কয়েক বছরের অভিজ্ঞতা থেকে কলকাতা পুলিসের কর্তারা লক্ষ্য করেছেন, মুচিপাড়া থানার সন্তোষ মিত্র স্কোয়ার, নিউ আলিপুরের সুরুচি সংঘ এবং চেতলা অগ্রণীর পুজো প্যান্ডেলে সন্ধ্যা থেকেই জনতার ঢল নামে। এই প্রসঙ্গে সংশ্লিষ্ট ডিভিশনের ডিসিদের সিপি নির্দেশ দেন, এবারও তেমন পরিস্থিতি তৈরি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। তেমন পরিস্থিতি তৈরি হলে, যান নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি দক্ষতার সঙ্গে ভিড় সামাল দিতে হবে। কাগজে কলমে এবার বর্ষা এখনও বিদায় নেয়নি। তাই এদিনের বৈঠকে পুলিশ কমিশনার সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে সব থানার ওসিদের বলেছেন, পুজো প্যান্ডেল সংলগ্ন এলাকায় ম্যানহোলের নিকাশি লাইন যেন পরিষ্কার থাকে, সেদিকে নজর রাখতে। এরজন্য কলকাতা পুরসভার সঙ্গে যোগাযোগ রাখতে হবে।
বৈঠকে উপস্থিত ট্রাফিক পুলিসের পদস্থ অফিসারদের সিপি বলেন, পুজোর দিনগুলিতে চেষ্টা করতে হবে যাতে শহরে যানজট না হয়। প্রতিবারই দেখা যায়, ‘স্ট্যান্ড ডাউন’ (পুলিসের ডিউটি শেষ হলে) হওয়ার পরও প্যান্ডেল দর্শক সমাগম বন্ধ হয় না। ওই সময়ে স্থানীয় থানাকে পরিস্থিতির দিকে লক্ষ্য রাখতে হবে।