এলাহাবাদ: সংবিধান নয়, পুলিশ সরকারের অনুগত! সম্প্রতি এক মামলার শুনানিতে যোগীরাজ্যের পুলিশের প্রতি এমনই পর্যবেক্ষণ এলাহাবাদ হাইকোর্টের। হাইকোর্টের বিচারপতি জাস্টিস বিনোদ দিবাকরের অভিযোগ, পুলিশ কেবলমাত্র ক্ষমতাশীন রাজনৈতিক দলের তাঁবেদারি করতেই ব্যস্ত। বদলির ভয়ে কিংবা প্রমোশনের লোভে নেতাদের খুশি করছেন অনেকে। ‘রাজেন্দ্র ত্যাগী বনাম উত্তরপ্রদেশ সরকার’ মামলায় তাঁর ৩১ পৃষ্ঠার রায়ে বিচারপতি বিনোদ দিবাকর একথা বলেন।
বিতর্কের কেন্দ্রে গাজিয়াবাদের একটি পরিবারের বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া উত্তরপ্রদেশ সরকারের গ্যাংস্টার আইনের মামলা। যা খারিজ করে এই পর্যবেক্ষণ করেছে আদালত। বিচারপতি জানান, এফআইআর দায়েরের পরদিন গ্রেপ্তার করা হয় গৃহবধূ ললিতা ত্যাগীকে। অথচ তাঁর বিরুদ্ধে কোনো প্রত্যক্ষ অপরাধমূলক প্রমাণ তখন পুলিশের কাছে ছিল না। আদালতের মতে, এটি পুলিশের ক্ষমতার অতিরিক্ত প্রয়োগের উদাহরণ। শুধু এই মামলাই নয়, রাজ্যের সামগ্রিক আইনশৃঙ্খলা ব্যবস্থার প্রসঙ্গ টেনে আদালত বলে, ‘এনকাউন্টার হত্যা, বেছে বেছে অভিযান এবং বিশেষ কিছু ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে গ্যাংস্টার আইনের ব্যবহার বিচারব্যবস্থার নজরে এসেছে।’ বিচারপতি দিবাকর সাফ জানান, পুলিশে যাঁদের ‘অনুগত’ বলে মনে করা হয়, তাঁরা গুরুত্বপূর্ণ ও লাভজনক জেলায় পোস্টিং পান। অন্যদিকে স্বাধীনভাবে কাজ করা আধিকারিকদের গুরুত্বহীন পদে বদলি করা হয়। আক্ষেপের সুরে তিনি বলেন, এই কারণে রাজ্য প্রশাসনের বহু আধিকারিক আইনের শাসনকে সাংবিধানিক দায়িত্ব হিসাবে নয়, বরং প্রশাসনিক অসুবিধা হিসাবে দেখেন। গ্রেপ্তারির ক্ষেত্রে আইনি প্রক্রিয়া উপেক্ষা করা, উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে এফআইআর দায়ের বা আসল ঘটনা চাপা দেওয়ার অভিযোগও তুলে ধরে আদালত। এছাড়া রাজ্যের স্বরাষ্ট্রসচিবের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছে আদালত। রায়ে বলা হয়েছে, সরকারের নীতি নিরপেক্ষভাবে বাস্তবায়নের সাংবিধানিক দায়িত্ব পালন করার পরিবর্তে কিছু স্বরাষ্ট্রসচিব ব্যক্তিস্বার্থ রক্ষার মাধ্যম হিসাবে কাজ করেছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। এই পর্যবেক্ষণের মাধ্যমে উত্তরপ্রদেশের প্রশাসনিক ও পুলিশি কাঠামোর নিরপেক্ষতা এবং আইনের শাসন নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন তুলল এলাহাবাদ হাইকোর্ট।