শ্রীকান্ত পড়্যা, তমলুক: তমলুক শহরের দাপুটে তৃণমূল নেতা চঞ্চল খাঁড়াকে গ্রেপ্তারের পর কোমরে দড়ি বেঁধে পুরসভা অফিসে নিয়ে গিয়েছিল পুলিশ। সেই ঘটনায় তমলুক থানার আইসি পবিত্র গঙ্গোপাধ্যায় এবং তিনজন সাব ইন্সপেক্টর তথা তদন্তকারী অফিসারকে ডেকে পাঠিয়ে ভর্ৎসনা করলেন বিচারক। শুক্রবার আইসি সহ মোট চার অফিসারকে ডেকে পাঠিয়েছিলেন পূর্ব মেদিনীপুরের সিজেএম। পুরসভা অফিসে কেন চঞ্চলের মুখ না ঢাকা অবস্থায় কোমরে দড়ি বেঁধে নিয়ে যাওয়া হল, সেই প্রশ্ন করে আদালত। জবাবে থানার আইসি জানান, পুরসভার কাছে রাস্তায় খুব যানজট থাকে। সেকারণে রাস্তায় নামিয়ে হাঁটিয়ে অফিসে নিয়ে যেতে হয়েছিল। যদিও পুলিশের এই যুক্তি মানতে নারাজ আদালত। এই ঘটনায় সুপ্রিম কোর্টের রায় লঙ্ঘিত হয়েছে বলে আইনজীবীদের একাংশের দাবি।
গত ১জুন তমলুক থানার পুলিশের হেপাজতে থাকা তৃণমূল কংগ্রেস নেতা তথা পুরসভার কাউন্সিলার চঞ্চল খাঁড়াকে পুরসভা অফিসে নিয়ে যাওয়া হয়। তাঁর সঙ্গে ছিলেন তমলুক থানার সাব ইন্সপেক্টর প্রভাকর নায়েক, আফরোজা খাতুন ও দীনবন্ধু বেরা। তাঁদের মধ্যে প্রভাকরবাবু চঞ্চল খাঁড়ার দু’টি কেসের তদন্তকারী অফিসার। আফরোজা এবং দীনবন্ধুবাবু একটি করে কেসের তদন্তকারী অফিসার। তমলুক থানার আইসির সঙ্গে ওই তিনজনকেও ডেকে পাঠিয়েছিল পূর্ব মেদিনীপুর সিজেএম কোর্ট। তাঁদেরও সতর্ক করা হয়।
তমলুক পুরসভা অফিসের সামনে রাস্তায় পুলিশের গাড়ি থেকে চঞ্চল খাঁড়াকে নামানো হয়। তাঁর কোমরে মোটা দড়ি বাঁধা ছিল। একজন পুলিশকর্মী ওই তৃণমূল কংগ্রেস নেতার পিছনে সেই দড়ি ধরে নিয়ে যাচ্ছিলেন। পুরসভা অফিসের সিঁড়ি বেয়ে দোতলায় চেয়ারম্যানের ঘরে নিয়ে যাওয়া হয় ধৃত নেতাকে। তখনও কোমরে দড়ি বাঁধা ছিল। চেয়ারম্যান বৈদ্যনাথ সিনহা অফিসে ছিলেন। গতবছর নভেম্বর মাসে পুরসভার দায়িত্বপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান হয়েছিলেন চঞ্চল। সেই সংক্রান্ত তথ্য জোগাড় করার জন্য পুলিশ ধৃত নেতাকে সঙ্গে নিয়ে পুরসভা অফিসে চেয়ারম্যানের ঘরে হাজির হয়েছিল।
চেয়ারম্যানের ঘর থেকে নামিয়ে আনার পর রাস্তায় বেশ খানিকটা হাঁটিয়ে তাঁকে পুলিশের গাড়িতে তোলা হয়েছিল। রাস্তার দু’ধারে লোকজন ওই দৃশ্য প্রত্যক্ষ করেন। এদিকে, গ্রেপ্তারির পর অভিযুক্তদের কোমরে দড়ি বেঁধে ঘোরানোর ঘটনায় হাইকোর্ট রাজ্য সরকারকে ভর্ৎসনা করেছে। সেইসঙ্গে চার সপ্তাহের মধ্যে রাজ্যের কাছ থেকে রিপোর্ট চেয়েছে হাইকোর্ট। পূর্ব মেদিনীপুরে দু’জন নেতার কোমরে দড়ি বেঁধে ঘোরানো হয়েছে। তমলুক শহরের চঞ্চল ছাড়াও হলদিয়ার ডাকসাইটে তৃণমূল নেতা শেখ আমির আলি ওরফে আরমান ভোলার কোমরেও দড়ি বেঁধে রাস্তায় ঘোরানো হয়েছে। এধরনের ঘটনায় ওই ব্যক্তিদের সম্মানহানি হচ্ছে বলে আদালতের পর্যবেক্ষণ। ইচ্ছাকৃতভাবে এমনটা যাতে না হয় সেই নির্দেশও দেওয়া হয়েছে।
গত ২৯মে তমলুক থানার পুলিশ ধৃত তৃণমূল কংগ্রেস নেতা চঞ্চলকে নিয়ে শহরে তাঁর বাড়িতে নিয়ে যায়। সেদিন কোমরে দড়ি বাঁধা ছিল না। তবে, ১জুন পুরসভা অফিসে নিয়ে যাওয়ার সময় তাঁর কোমরে দড়ি বাঁধা ছিল। এব্যাপারে তমলুক থানার আইসি পবিত্র গঙ্গোপাধ্যায় বলেন, বিষয়টি তদন্তের একটা অংশ। এনিয়ে সংবাদ মাধ্যমে কিছু বলতে চাই না।