


সংবাদদাতা, কান্দি: বাড়ির মেঝেয় পড়ে স্ত্রীর রক্তাক্ত দেহ। আর ওই বাড়ির চিলেকোঠায় ঝুলছেন স্বামী। রবিবার সাত সকালের ওই দৃশ্য দেখা গেল বড়ঞা থানার পছিপাড়া গ্রামে। পুলিশ জানিয়েছে, মৃতরা হলেন স্ত্রী তাপসী দাস(৪২) ও স্বামী তাপস দাস (৫১)। উভয়ের বাড়ি পছিপাড়া গ্রামে। এই ঘটনার পর বড়ঞা থানার পুলিশ দেহ দুটি উদ্ধার করে ময়না তদন্তের জন্য পাঠিয়েছে। ঘটনায় জড়িত সন্দেহে পুলিশ এক বৃদ্ধাকে আটক করেছে। মৃতার পরিবারের দাবি, পারিবারিক অশান্তির জেরে স্ত্রীকে খুন করে আত্মঘাতী হয়েছেন স্বামী।
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, ওই দম্পত্তির প্রায় ২০ বছর আগে বিয়ে হয়। তাঁদের দুটি কন্যা সন্তানও রয়েছে। দিন মজুরের কাজ করতেন তাপসবাবু। তবে বিয়ের পর থেকে খুঁটিনাটি বিষয়ে সংসারে অশান্তি লেগেই থাকত। তেমনই শনিবার সন্ধ্যায় ফের একবার ওই বাড়িতে অশান্তি লক্ষ্য করা গিয়েছিল। গভীর রাত পর্যন্ত চলে অশান্তি। তারপর সব চুপচাপ হয়ে পড়ে।
মৃতার ভাই শুভেন্দু দাস বলেন, বিয়ের পর থেকেই দিদির সংসারে অশান্তি লেগে থাকত। জামাইবাবু প্রতিদিন নেশা করে দিদিকে মারধর করতেন। যে কারনেই এই অশান্তি। এই অশান্তির জেরে জামাইবাবু এদিন রাতে দিদিকে খুন করে আত্মঘাতী হয়েছেন। পরে সকাল হলে ঘটনার কথা জানতে পারি। প্রত্যাক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, এদিন সকালে প্রতিবেশিদের সন্দেহ হওয়ায় তাঁরা ওই বাড়িতে পৌঁছন। সেখানে দেখা যায়, একটি ঘরের মেঝেয় পড়ে রয়েছে তাপসীর রক্তাক্ত দেহ। তাঁর মাথায় ও গলায় একাধিক ধারাল অস্ত্রের কোপ মারা রয়েছে। রক্তে ভেসে গিয়েছে ঘরের মেঝে। পাশেই পড়ে রয়েছে বাড়ির সবজি কাটার বটি।
এরপর ওই বাড়ির দোতলার চিলেকোঠায় তাপসবাবুর ঝুলন্ত দেহ দেখতে পাওয়া যায়। মৃতার বোন শিলা দাস বলেন, দিদিকে খুন করার পর জামাইবাবু আত্মহত্যা করেছেন। এমনকি খুনের ঘটনার পিছনে আরও অনেকে জড়িত থাকতে পারে। আমরা চাই পুলিশ ঘটনার তদন্ত করে উপযুক্ত ব্যবস্থা নিক।
যদিও বড়ঞা থানার পুলিশ জানিয়েছে, জোড়া মৃত্যুর ঘটনার তদন্ত শুরু হয়েছে। প্রাথমিক অনুমান সাংসারিক অশান্তির জেরেই মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে। একজনকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। তাপসবাবুর কাকা মদন দাস বলেন, এটা পরিষ্কার যে পারিবারিক অশান্তির জেরে খুনের ঘটনা ও পরে আত্মহত্যার ঘটনা ঘটেছে। ব্যাপারটি চরম হতাশাজনক।