Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

পুজোয় পরস্পরকে ‘ভালো উপহার’ দিতেই চারলাখি বাইক চুরি যুগলের

আগেই বন্ধ হয়ে গিয়েছে তাদের নিজস্ব সংস্থা। কিন্তু ততদিনে তারা বিলাসবহুল জীবনযাপনে অভ্যস্ত হয়ে উঠেছিল। জীবনযাত্রার সেই মান ধরে রাখার ক্ষেত্রে প্রধান অন্তরায় হয়ে উঠেছিল টাকা।

পুজোয় পরস্পরকে ‘ভালো উপহার’ দিতেই চারলাখি বাইক চুরি যুগলের
  • ২২ সেপ্টেম্বর, ২০২৫ ১৯:০৯
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, বারাসত: আগেই বন্ধ হয়ে গিয়েছে তাদের নিজস্ব সংস্থা। কিন্তু ততদিনে তারা বিলাসবহুল জীবনযাপনে অভ্যস্ত হয়ে উঠেছিল। জীবনযাত্রার সেই মান ধরে রাখার ক্ষেত্রে প্রধান অন্তরায় হয়ে উঠেছিল টাকা। এই অবস্থায়ও পুজোয় প্রেমিক-প্রেমিকা একে-অপরকে ‘ভালো উপহার’ দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল। কিন্তু পছন্দসই উপহার দেওয়ার টাকা কোথায়! সেই ব্যবস্থা করতেই যুবক শিবনাথ দাস ও তার প্রেমিকা মোনালিসা অধিকারী তাদের আবাসনের এক বাসিন্দার চারলাখি স্পোর্টস বাইক চুরির পরিকল্পনা করে। সেই সঙ্গে যুবকের উপর ঋণের বোঝাও রয়েছে। ধৃত দুই অভিযুক্তকে জেরা করে এমনটাই জানতে পেরেছে পুলিশ।

Advertisement

শুক্রবার বারাসতের নবপল্লি এলাকা থেকে শিবনাথ দাস ও মোনালিসা অধিকারীকে গ্রেফতার করে বারাসত থানা। ঘটনা হল, গত ১৪ সেপ্টেম্বর বারাসতের লারিকা এলাকার একটি  আবাসন থেকে বাইক চুরি হয়। ওই আবাসনেই ফ্ল্যাট ভাড়া নিয়ে থাকত কলেজ পড়ুয়া মোনালিসা। সঙ্গে থাকত তাঁর এক বান্ধবীও। মোনালিসার প্রেমিক শিবনাথ বারাসতের নবপল্লিরই অন্য একটি আবাসনে থাকে। এমবিএ পাশ করার পর একটি কোম্পানি খোলে সে। এ ব্যাপারে তাকে সহযোগিতা করে তার প্রেমিকা মোনালিসা। শিবনাথের বাড়ি আদতে নদীয়ার নবদ্বীপে। আর মোনালিসার বাড়ি বাঁকুড়ার কোতুলপুরে। সম্প্রতি শিবনাথের কোম্পানি বন্ধ হয়ে যাওয়ায় তাদের বিলাসবহুল জীবনযাপনে ভাটা পড়ে। সেই জীবনযাত্রা বজায় রাখতেই তারা চুরির পরিকল্পনা করে বলে দাবি পুলিশের। মোনালিসা যে আবাসনে থাকত, সেখানে একটি বাইক দীর্ঘদিন ধরে পড়েছিল। সেটিকেই ‘টার্গেট’ করে সে। এরপর প্রেমিকের সঙ্গে আলোচনা করে অনলাইনের মাধ্যমে এক বাইক মিস্ত্রিকে ডেকে পাঠায়। তারা বলে, তাদের একটি বাইকের চাবি হারিয়ে গিয়েছে। তাই লক ভেঙে মেরামত করে দিতে হবে বাইকটি। সেই মতো দু’জন মিস্ত্রি আবাসনে এলে মোনালিসা তাদের বাইকটি দেখিয়ে দেয়। তবে, সেই সময় মোনালিসার মুখে মাস্ক ছিল। লক ভেঙে মেরামতির পর সেই বাইক শিবনাথ নিজের আবাসনে নিয়ে গিয়ে রাখে। গাড়ির মালিক দু’দিন পর আবাসনে এসে বাইক খুঁজে না পেয়ে থানায় অভিযোগ করেন। পাঁচদিনের পুলিশ হেফাজতে রয়েছে দুই ধৃত। তদন্তকারীদের সূত্রে জানা গিয়েছে, এখন তারা দু’জনেই ওই ঘটনার জন্য আক্ষেপ করছে। মোনালিসার ফ্ল্যাটের মালিক শান্তনু মণ্ডল বলেন, ‘এটা শোনার পর সত্যি অবাক লাগছে। কীভাবে একজন পড়ুয়া এভাবে অপরাধ জগতে নিজেকে নামিয়ে ফেলল, ভাবতেই পারছি না।’ রবিবার খোয়া যাওয়া বাইকটি উদ্ধার করেছে পুলিশ। আজ তা আসল মালিকের হাতে তা তুলে দেওয়া হবে।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ