সংবাদদাতা, বারুইপুর: এক সময় ফ্যান তৈরির কারখানায় কাজ করতেন সত্তর বছরের সন্ন্যাসী কর্মকার। কিন্তু লকডাউনের সময় সেই কাজ চলে যায়। পরিবারে স্ত্রী ছাড়া আর কেউ নেই সন্ন্যাসীবাবুর। অনটনের কারণে খাওয়া জুটত না তাঁদের। এই পরিস্থিতি সহ্য করতে না পেরে শনিবার আত্মহত্যার চেষ্টা করলেন দম্পতি। বারুইপুর স্টেশনে থেকে বিষ কিনে খেয়ে নেন তাঁরা। খানিক বাদে দু’জনেই অসুস্থ হয়ে পড়লে বারুইপুর জিআরপি তাঁদের উদ্ধার করে নিয়ে আসে বারুইপুর মহকুমা হাসপাতালে। সেখানেই মৃত্যু হয় সন্ন্যাসীবাবুর স্ত্রী ৬৫ বছরের ঝর্ণা কর্মকারের। আশঙ্কাজনক অবস্থায় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন বৃদ্ধ স্বামী সন্ন্যাসী কর্মকার। বারুইপুর থানার পুলিস ও জিআরপি ঘটনার তদন্ত শুরু করছে। পুলিস দেহটি ময়নাতদন্তের জন্য পাঠিয়েছে। হাসপাতালে শুয়ে সন্ন্যাসী কর্মকার বলেন, তাঁদের বাড়ি ডায়মন্ডহারবার পুরসভার ১০ নম্বর ওয়ার্ডে। আত্মীয়দের সঙ্গে তাঁদের যোগাযোগ নেই। কাজ চলে যাওয়ার পর অর্থকষ্ট শুরু হয়। আর সংসার চালাতে পারছিলাম না। তাই আত্মহত্যার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম। জানা গিয়েছে, শনিবার সকালে তাঁরা ডায়মন্ডহারবার থেকে ট্রেনে করে বারুইপুর স্টেশনে আসেন। সারাদিন স্টেশনের ৪ নম্বর প্ল্যাটফর্মেই তাঁরা কাটিয়ে দেন। এরপর সন্ধ্যার পর স্টেশন থেকে বেরিয়ে রেলগেটের কাছে গিয়ে বিষ কিনে খেয়ে নেন। ওই অবস্থায় ফিরে আসেন ৪ নম্বর প্ল্যাটফর্মে। তারপর গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন। স্টেশনে উপস্থিত লোকজন ওই অবস্থা দেখে বারুইপুর জিআরপিতে খবর দেন। পুলিস তড়িঘড়ি এসে তাঁদের উদ্ধার করে বারুইপুর মহকুমা হাসপাতালে নিয়ে আসেন। সেখানেই মারা যান ঝর্ণা কর্মকার। পুলিস তাঁদের আত্মীয়দের খোঁজ চালাচ্ছে। ঠিক কী কারণে এই পরিণতি, তা জানতে প্রতিবেশীদের সঙ্গেও কথা বলবে পুলিস।



