Bartaman Logo
২৯ জুলাই, ২০২৬
Advertisement
বর্তমান / রাজ্য

বন্ধকী ঋণ পেতে সমবায় ব্যাঙ্কে নকল সোনা, ধৃত দম্পতি

ঘাটাল মহকুমাজুড়ে জালিয়াতির জাল ক্রমেই বিস্তৃত হচ্ছে। এবার দাসপুর থানা এলাকায় এক স্বর্ণশিল্পীর বিরুদ্ধেই উঠল জালিয়াতির অভিযোগ।

বন্ধকী ঋণ পেতে সমবায় ব্যাঙ্কে নকল সোনা, ধৃত দম্পতি
  • ১৮ এপ্রিল, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

সংবাদদাতা, ঘাটাল: ঘাটাল মহকুমাজুড়ে জালিয়াতির জাল ক্রমেই বিস্তৃত হচ্ছে। এবার দাসপুর থানা এলাকায় এক স্বর্ণশিল্পীর বিরুদ্ধেই উঠল জালিয়াতির অভিযোগ। স্ত্রীর বিয়ের গয়না বন্ধক রেখে সমবায় ব্যাঙ্ক থেকে ঋণ নিতে গিয়ে ধরা পড়লেন এক দম্পতি। বৃহস্পতিবার বিকেলের এই ঘটনায় তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে সোনাখালি এলাকায়। সমবায়ের কাছ থেকে অভিযোগ পেয়ে  পুলিশ দম্পতিকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করেছে। পুলিশ জানিয়েছে, দম্পতির বাড়ি দাসপুর থানারই হরেকৃষ্ণপুরে। তাদের কথাবার্তার মধ্যে চরম অসঙ্গতি রয়েছে।

Advertisement

তদন্তকারীদের সূত্রে জানা গিয়েছে, তমলুক-ঘাটাল সেন্ট্রাল কো-অপারেটিভ ব্যাঙ্কের সোনাখালি শাখায় ৬৮ গ্রাম ওজনের ‘সোনার’ গয়না নিয়ে ঋণের আবেদন জানিয়েছিলেন ওই দম্পতি। ওই সময়বায়ের ডিরেক্টর তথা ঘাটাল মহকুমার ইনচার্জ কৌশিক কুলভী বলেন, নিয়ম মেনে ব্যাঙ্কের পক্ষ থেকে সেই গয়না পরীক্ষা করতেই চক্ষুচড়কগাছ আধিকারিকদের। দেখা যায়, যে গয়নাগুলিকে খাঁটি সোনা বলে দাবি করা হয়েছিল, সবটাই নকল। বিষয়টি জানাজানি হতেই দ্রুত খবর দেওয়া হয় দাসপুর থানায়। পুলিশ এসে রাতেই ওই দম্পতিকে আটক করে।
জেরার মুখে যুবক দাবি করেছেন, তিনি জানতেনই না যে ওই গয়নাগুলি নকল। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, বিয়ের সময় তাঁর শ্বশুরমশাই মেয়েকে এই গয়নাগুলি উপহার দিয়েছিলেন। পরিবারের একটি কাজের জন্য তিনি স্ত্রীর ওই গয়নাগুলি ব্যাঙ্কে বন্ধক রাখতে এসেছিলেন। প্রতারণা করার কোনো উদ্দেশ্য তার ছিল না। তাহলে তিনি স্ত্রীকে সঙ্গে নিয়ে যেতেন না। কিন্তু পুলিশি তদন্তে উঠে আসছে অন্য এক মোড়। এক জন পেশাদার স্বর্ণশিল্পী হয়েও তিনি গয়নার সত্যতা যাচাই করতে পারেননি! এই যুক্তি মানতে নারাজ তদন্তকারীরা। পুলিশের প্রাথমিক অনুমান, শ্বশুরমশাই নিজের মেয়েকে নকল সোনা দিয়ে সাজিয়ে দেবেন, এই তত্ত্ব বিশ্বাসযোগ্য নয়। এর পিছনে বড় কোনো চক্র কাজ করছে কি না, তা খতিয়ে দেখছেন অফিসাররা। কৌশিকবাবু বলেন,   সাম্প্রতিককালে ঘাটাল মহকুমার বিভিন্ন প্রান্তে নকল সোনা দিয়ে ব্যাঙ্ক থেকে ঋণ নেওয়ার প্রবণতা লক্ষ্য করা যাচ্ছে। ইতিপূর্বেও একাধিক রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাঙ্কে গয়না বন্ধক রাখতে গিয়ে ভুয়ো সোনা ধরা পড়েছে। বারংবার এই ধরনের ঘটনা ঘটায় ব্যাঙ্কের নিরাপত্তা ও পরীক্ষা পদ্ধতি নিয়ে আরও কড়াকড়ি শুরু হয়েছে। ওই দম্পতিকে জিজ্ঞাসাবাদ করে জালিয়াতির শিকড় পর্যন্ত পৌঁছতে চাইছে পুলিশ। গয়নাগুলি সত্যিই শ্বশুরবাড়ি থেকে পাওয়া কি না, তা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনে ওই বধূর বাপের বাড়ির সদস্যদেরও তলব করা হতে পারে বলে জানানো হয়েছে। 

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ