সাহারানপুর: এ যেন ঠিক কেঁচো খুঁড়তে কেউটে। গরমিল হয়েছিল কয়েক লক্ষ টাকার। আর সেই ঘটনার তদন্তে নেমে উদ্ধার হল কয়েক কোটি টাকার জাল নোট। তাও আবার রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকের চেস্টে! টাকার অঙ্ক প্রায় ১৭ কোটি। বিষয়টি সামনে আসতেই শোরগোল পড়েছে উত্তরপ্রদেশের সাহারানপুরে। এই ঘটনায় ব্যাংকের তিন কর্তা ও এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের করেছে পুলিশ। তদন্তের জন্য গঠন করা হয়েছে সিট।
ঘটনার সূত্রপাত ওই রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকের হিসাব মেলানোর সময়। তখনই খোঁজ মিলল বড়ো কেলেঙ্কারির। জানা গিয়েছে, পাঞ্জাব ন্যাশনাল ব্যাংকের (পিএনবি) একটি কারেন্সি চেস্ট থেকে রিজার্ভ ব্যাংকে পাঠানো নগদের হিসাব খতিয়ে দেখার সময় দেখা যায়, ৪ লক্ষ ৩৬ হাজার টাকার ঘাটতি রয়েছে। কীভাবে ঘাটতি হল? তা নিয়ে শুরু হয় তদন্ত। তখনই দেখা যায়, ব্যাংকের কারেন্সি চেস্ট বা নগদ মজুত রাখার ভল্টে জমা রয়েছে প্রায় ১৭ কোটি টাকার জাল নোট! পিএনবির চিফ ডেপুটি ম্যানেজার নিশা সিং জানিয়েছেন, গত ১০ আগস্ট আরবিআইকে পাঠানো টাকার হিসাব মেলানোর সময় ৪ লক্ষ ৩৬ হাজার টাকার ঘাটতি ধরা পড়ে। তখনই এই গরমিলটি প্রথম সামনে আসে। তড়িঘড়ি তদন্তে নামে পুলিশ। আসল নোটের বদলে কীভাবে জাল নোট ব্যাংকের চেস্টে এল। ব্যাংকের কোন কোন কর্মী এই ঘটনায় জড়িত, তা নিয়ে শুরু হয় তদন্ত। নিশা সিং বলেন, ‘তদন্ত চলছে। তা শেষ হলে এই ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে সমস্ত তথ্যপ্রমাণ প্রকাশ্যে আনা হবে।’ বিষয়টি নিয়ে সদর থানায় অভিযোগ দায়ের করেছেন পিএনবির নোডাল অফিসার অরুণকুমার চৌবে। প্রাথমিকভাবে সন্দেহভাজনের তালিকায় তিনজনের নাম উল্লেখ করেছেন তিনি। সেই তালিকায় রয়েছেন সিনিয়র ডিভিশনাল ম্যানেজার রবি কুমার, কারেন্সি চেস্ট ম্যানেজার সুশীল শর্মা ও অমিত কুমার। পাশাপাশি, পৃথক একটি অভিযোগে হাউসকিপার বিশাল কুমারের বিরুদ্ধেও অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে।
সাহারানপুরের ডিআইজি অভিষেক জানান, এই ঘটনায় জড়িতদের চিহ্নিত করতে বিশেষ তদন্তকারী দল গঠন করা হয়েছে। ব্যাংক লেনদেনের যাবতীয় রেকর্ড, অডিট লেজার, কারেন্সি চেস্টের সিসি ক্যামেরা ফুটেজ পরীক্ষা করে দেখা হচ্ছে। এত নিরাপত্তার মধ্যেও কীভাবে আসল নোটগুলি বদলানো হয়েছিল, জাল নোটগুলি কতদিন ধরে অশনাক্ত অবস্থায় পড়ে ছিল, সবকিছুই খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তদন্তকারীদের সন্দেহ, গোটা বিষয়টি একটি সুপরিকল্পিত ঘটনা হতে পারে। এই ঘটনায় আর কেউ জড়িত রয়েছে কি না, তার খোঁজ চলছে।