অম্বরীশ চট্টোপাধ্যায়, কলকাতা: রবিবার সকাল। ইস্ট বেঙ্গল মাঠে উপস্থিত সমর্থকদের জটলায় একটাই আলোচনা, সিনিয়র দলের কোনও ফুটবলার কি ডার্বির প্র্যাকটিসে যোগ দেবেন? অনুশীলন শুরু হতেই স্পষ্ট হল ছবিটা। আকাশ, মনোতোষ, বিক্রমের মতো ঘরোয়া লিগের ফুটবলারদের নিয়েই প্রস্তুতি সারলেন বিনো জর্জ। অনুমান করাই যায়, মর্যাদার লড়াইয়ে তাঁদের উপরেই ভরসা রাখছে লাল-হলুদ ব্রিগেড। অপরাজিত থেকে সুপার সিক্সে পা রেখেছে ইস্ট বেঙ্গল। প্রিয় দলের প্রায় সব ম্যাচেই হাজির থাকেন প্রাক্তন ফুটবলার বিকাশ পাঁজি। বললেন, ‘দুরন্ত টিম স্পিরিট এই দলের সম্পদ। ফুটবলারদের উপর ভরসা আছে।’ লিগে ১০ ম্যাচে আপাতত ২৬ পয়েন্ট ইস্ট বেঙ্গলের। ডার্বিতেও অপরাজিত তকমা বজায় রাখতে বদ্ধপরিকর তারা। বারাসতে লাল-হলুদ ডেরায় মাঠ ভরাতে তৈরি সমর্থকরাও।
ডার্বি মানেই নার্ভের লড়াই। তার উপর মনবীর, সাহালের মতো সিনিয়রদের মাঠে নামাতে পারে মোহন বাগান। তাই অভিজ্ঞতায় বেশ পিছিয়ে লাল-হলুদ ব্রিগেড। কোচ বিনো অবশ্য তরতাজা তরুণদের নিয়েই বাজিমাত করতে চান। ডার্বিতে নিজেদের প্রমাণ করতে আকাশ হেমব্রম, মহম্মদ বিলাল, অঙ্কন ভট্টাচার্যরাও মরিয়া। গোলের জন্য লাল-হলুদের বড় ভরসা আকাশ হেমব্রম। পরপর দু’টি ম্যাচে জাল কাঁপিয়ে ফুটছেন। গত ম্যাচে ইউনাইটেড কলকাতার বিরুদ্ধে হ্যাটট্রিকও করেছিলেন তরুণ উইং হাফ। এদিনের অনুশীলনেও তাঁকে বেশ আত্মবিশ্বাসী দেখাল। বাড়ি ফেরার পথে আকাশ বললেন, ‘গ্রাম থেকে বাবা-দাদারা আসবে খেলা দেখতে। প্রথমবার ডার্বি দেখবে ওরা। তাই সেরাটা উজাড় করে দিতে চাই। তাছাড়া কোচ বলেছেন নিজের খেলায় মন দিতে। সেটাই করব।’ এদিন সকালে ঘরের মাঠে চূড়ান্ত অনুশীলনে অনন্থুর সঙ্গে আলোচনা করতে দেখা গেল বিনোকে। ফিটনেস ট্রেনিংয়ের পর দীর্ঘক্ষণ সিচুয়েশন প্র্যাকটিস করলেন মনোতোষ চাকলাদাররা। ম্যাচে ডিফেন্সিভ থার্ড জমাট রাখাই লক্ষ্য। বিপক্ষে কিয়ান, সায়ন, মনবীরদের রোখাটাই রক্ষণের বড় পরীক্ষা। কেরালাইট সাহালের জন্য জোনাল মার্কিংয়ের ভাবনা রয়েছে। পাশাপাশি রক্ষণ মজবুত রেখে দ্রুত প্রতি-আক্রমণে বিপক্ষ দুর্গে ফাটল ধরাতে চায় মশাল বাহিনী। সম্মানের ডার্বিতে তরুণদের কাঁধেই বড়ো দায়িত্ব।
বারাসতে ম্যাচ শুরু বিকেল পাঁচটায়।
সম্প্রচার নাম্বার টেন স্পোর্টস অ্যাপে।