নিজস্ব প্রতিনিধি, বারাকপুর: চার দিনের পুলিস হেফাজত শেষে শনিবার বারাকপুর আদালতে পেশ করা হয় টিটাগড় বিস্ফোরণ-কাণ্ডে ধৃত তৃণমূল কাউন্সিলার আরমান মণ্ডলকে। আদালতে তোলার সময় তিনি দাবি করেন, ‘আমাকে ফাঁসানো হয়েছে। তবে দল আমার সঙ্গে আছে।’ তবে পুলিস তাঁর বিরুদ্ধে অতিরিক্ত ধারা যুক্ত করেছে। আগে যেসব ধারায় তাঁর বিরুদ্ধে মামলা হয়েছিল, তার সঙ্গে এদিন বিস্ফোরণ আইনের ৫ নম্বর ধারা যুক্ত করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন সরকারি আইনজীবী সত্যব্রত নাগ। এদিন ধৃত কাউন্সিলারের জামিনের আবেদন করেন তাঁর আইনজীবীরা। বিচারক রাহুল ভট্টাচার্য আরমান মণ্ডল এবং অন্য দুই ধৃত আরশাদ খান ও মহম্মদ শাহরুখকে ১০ দিনের জেল হেফাজতের নির্দেশ দিয়েছেন। আগামী ৩ জুন তিনজনকে ফের আদালতে পেশ করা হবে।
প্রসঙ্গত, গত সোমবার সাতসকালে টিটাগড়ের বাঁশবাগান এলাকার একটি বহুতলে ভয়াবহ বিস্ফোরণে পাঁচতলার ছাদের ফাঁকা ঘরের দেওয়ালের একাংশ উড়ে যায়। ছাদের ঘরের শৌচাগারে মজুত করে রাখা বোমা বিস্ফোরণের ফলেই এই ঘটনা বলে প্রাথমিকভাবে মনে করেন তদন্তকারীরা। ওই বিল্ডিংয়ের প্রোমোটার অনিল গুপ্তা স্থানীয় কাউন্সিলার আরমান মণ্ডলের বিরুদ্ধে ফ্ল্যাটটি তিন বছর ধরে জবরদখল করে রাখার অভিযোগ করেন টিটাগড় থানায়। বর্তমানে ফ্ল্যাটটি আরমানের ‘দখলে’ থাকায় তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাঁর দুই সঙ্গীকেও পাকড়াও করে পুলিস। মঙ্গলবার তাঁদের আদালতে পেশ করা হলে চারদিনের পুলিস হেফাজতের নির্দেশ দিয়েছিলেন বিচারক। সেই মেয়াদ শেষ হওয়ায় শনিবার ফের তিনজনকে আদালতে তোলা হয়। দল পাশে আছে বলে ধৃত কাউন্সিলার দাবি করলেও তৃণমূলের জেলা সভাপতি পার্থ ভৌমিক পরিষ্কার জানিয়ে দিয়েছেন, দল কাউকে প্রশ্রয় দেয় না। অন্যায় করলে সাজা পেতে হবে।