নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: উত্তর ২৪ পরগনার টাকি পুরসভা বিপুল আর্থিক দুর্নীতিতে কাঠগড়ায় তৃণমূল পরিচালিত পুর বোর্ডের চেয়ারম্যান সোমনাথ মুখোপাধ্যায়। চেয়ারম্যানের পাশাপাশি জালিয়াতিতে যুক্ত তৎকালীন সাব অ্যাসিস্ট্যান্ট ইঞ্জিনিয়ার দীপঙ্কর দাস এবং দায়িত্বপ্রাপ্ত হিসাবরক্ষক শুভ্র কুমার দাস। হাইকোর্টে জমা পড়া হলফনামায় উঠে এল এমনই চাঞ্চল্যকর তথ্য।
২০১৮ - ২২ অর্থ বর্ষের টেন্ডার দুর্নীতি, সরকারি তহবিল নয়ছয়, আর্থিক দুর্নীতি সহ একাধিক অভিযোগে জনস্বার্থ মামলা দায়ের করেন টাকি পুরসভার সদ্য ইস্তফা দেওয়া তৃণমূল কাউন্সিলার প্রদ্যুৎ দাস। তাঁর অভিযোগ ছিল, জঙ্গল ও ড্রেন পরিষ্কারের জন্য ২০১৮-২২ অর্থবর্ষে ৭২ লক্ষ ৭২ হাজার টাকা খরচ হয়েছে বলে মামলায় অভিযোগ। একই সঙ্গে, উম-পুন ত্রাণ তহবিলের প্রায় ৪৭ লক্ষ টাকা দুর্নীতি হয়েছে বলে অভিযোগ। পাশাপাশি, একাধিক টেন্ডার দুর্নীতির অভিযোগ তোলা হয়েছিল জনস্বার্থ মামলায়। ওই টাকা টাকি পুরসভার প্রাক্তন ভাইস চেয়ারম্যানের অ্যাকাউন্ট ও ‘ফ্রেন্ড কনস্ট্রাকশন’-এর অ্যাকাউন্টে ঢুকেছিল বলেও অভিযোগ। যা নিয়ে বিস্ময় প্রকাশ করে পে মাস্টারের কাছে হলফনামা তলব করেছিল প্রদান বিচাপিতির ডিভিশন বেঞ্চ।
সেই মামলাতেই হলফনামা দিয়ে তৎকালীন পুরসভার ‘পে মাস্টার’ প্রবীর চট্টোপাধ্যায় জানিয়েছেন, ওই তিনজনের নির্দেশে মতোই তিনি আর্থিক বেনিয়ম করেছেন। হলফনামাতে আরো উল্লেখ, তাঁকে ক্রমাগত ভয় দেখানো, জোরজবরদস্তি এবং অন্যায্য চাপের মুখে ফেলা হয়েছিল। যদি তিনি না তাঁদের নির্দেশ না মেনে চলেন, তাহলে গুরুতর পরিণতির হুমকি দেওয়া হয়েছিল। তাঁর বক্তব্য, কর্মজীবন ও চাকরির ওপর বিরূপ প্রভাব পড়ার আশঙ্কায় ভয় ও চাপের মুখে পড়ে তিনি একাজ করতে বাধ্য হয়েছেন বলে আদালতে জানিয়েছেন। যদিও আগেই এনিয়ে তদন্ত শুরু করেছে রাজ্যের পুর ও নগর উন্নয়ন দপ্তরের ‘ডিরেক্টর অব লোকাল বডি’। মামলার পরবর্তী শুনানিতে বিষয়টি নিয়ে তাঁকে হলফনামা আকারে বিস্তারিত রিপোর্ট জমা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে আদালত। দু’সপ্তাহ পর মামলার পরবর্তী শুনানি।