নিজস্ব প্রতিনিধি, বারাসত: তৃণমূল নেতা দেবরাজ চক্রবর্তী ও তাঁর স্ত্রী অদিতি মুন্সির বিরুদ্ধে বুধবার বারাসত আদালতে তিন নম্বর চার্জশিট জমা দিল পুলিশ। দেড় হাজারের বেশি পাতার চার্জশিট। তোলাবাজি, প্রোমোটারকে হুমকি, প্রতারণা, জোর করে জমি দখল এবং সংগঠিত অপরাধের অভিযোগের পাশাপাশি চার্জশিটে রয়েছে বিপুল আর্থিক লেনদেন ও সম্পত্তির নথি। তদন্তকারীদের দাবি, সব মিলিয়ে প্রায় ১০০ কোটি টাকার সম্পত্তি সংক্রান্ত ও আর্থিক অনিয়মের তথ্য সামনে এসেছে। আর এই সূত্রেই উঠে এসেছে অভিষেকের ‘লিপস অ্যান্ড বাউন্ডস’-এর নাম।
চার্জশিটে তদন্তকারীদের দাবি, বাগুইআটি ও কেষ্টপুর এলাকায় বিভিন্ন সূত্রে টাকা জমা পড়ত যুব তৃণমূলের একটি ব্যাংক অ্যাকাউন্টে। সেই অ্যাকাউন্ট থেকেই পরে প্রায় ১০ কোটি টাকা চলে যায় ‘লিপস অ্যান্ড বাউন্ডস’-এর অ্যাকাউন্টে। টাকা ঢোকা এবং বেরিয়ে যাওয়ার একাধিক তথ্য চার্জশিটে রয়েছে বলে পুলিশ সূত্রে খবর। এই লেনদেনে দেবরাজের ভূমিকাও উল্লেখ করেছে পুলিশ। তদন্তকারীদের দাবি, যুব তৃণমূলের ওই ব্যাংক অ্যাকাউন্টের ‘অথরাইজড সিগনেটরি’ ছিলেন দেবরাজ। তাঁর অনুমোদনেই ওই টাকা স্থানান্তর করা হয়েছিল বলে চার্জশিটে উল্লেখ করা হয়েছে। তোলাবাজি, প্রোমোটারদের হুমকি, প্রতারণা এবং জোর করে জমি দখলের অভিযোগে তাঁকে গ্রেপ্তার করেছিল বাগুইআটি থানার পুলিশ। মামলা চলছে বারাসত আদালতে। এর আগে দু’টি চার্জশিট জমা পড়েছিল। বুধবার জমা পড়ল তৃতীয়টি। এবার তদন্তের পরিধিতে এসেছেন দেবরাজের স্ত্রী অদিতি মুন্সিও। চার্জশিটে দু’জনের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অভিযোগের তথ্যপ্রমাণ রয়েছে। রয়েছে ইলেকট্রনিক নথিও।
তদন্তকারীদের দাবি, সম্পত্তির নথি, ব্যাংক লেনদেন এবং অন্যান্য তথ্য মিলিয়ে আর্থিক অনিয়মের অঙ্ক প্রায় ১০০ কোটি টাকা। নির্বাচনের আগে সম্পত্তি সরানোর চেষ্টা হয়েছে বলে অভিযোগ। মামলার সরকারি আইনজীবী বিভাস চট্টোপাধ্যায় বলেন, ‘সিন্ডিকেট ও তোলাবাজির টাকা একাধিক প্রভাবশালী ব্যক্তি এবং গুরুত্বপূর্ণ ব্যাংক অ্যাকাউন্টে স্থানান্তরিত হয়েছে। সেই টাকার গতিপথ খুঁজতে ভারতীয় ন্যায় সংহিতার নির্দিষ্ট ধারায় তদন্তের জন্য আদালতের কাছে আবেদন করা হয়েছে। প্রায় ১০০ কোটি টাকার অনিয়মের তথ্য সামনে এসেছে। সবদিক খতিয়ে দেখা হচ্ছে।’