সংবাদদাতা, লালবাগ: মুর্শিদাবাদ বিধানসভার দু’টি পুরসভায় কর্মী নিয়োগ, আবাস প্রকল্প এবং সুলভ শৌচাগার নিয়ে অনিয়মের অভিযোগ তুলে সরব হলেন বিজেপি বিধায়ক গৌরীশঙ্কর ঘোষ। বিশেষ করে মুর্শিদাবাদ পুরসভার দিকে অভিযোগের আঙুল তুলেছেন তিনি। গৌরীশঙ্করবাবু বলেন, গত কয়েক বছরে মুর্শিদাবাদ পুরসভায় স্থায়ী ও অস্থায়ী কর্মী নিয়োগে ব্যাপক অনিয়ম হয়েছে। টাকার বিনিময়ে চাকরি বিক্রি করা হয়েছে। শুধু পুরসভায় নিয়োগের ক্ষেত্রেই অনিয়ম হয়েছে তা নয়, পুর কর্মচারীরা আবাস ও সুলভ শৌচাগার নিয়েও অনিয়ম করেছে অর্থাৎ পুরসভায় কাজের থেকে অকাজ বেশি হয়েছে। এর ফলে যোগ্যরা বিভিন্ন সরকারি প্রকল্প থেকে বঞ্চিত হয়েছেন। অথচ তৃণমূল নেতা-কর্মী, তাদের বাড়ির লোকজন এবং যারা লক্ষ লক্ষ টাকা দিতে পেরেছেন তাদেরই চাকরি হয়েছে। কাজেই বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই স্বজনপোষণ হয়েছে। মেধা বা যোগ্যতার ভিত্তিতে চাকরি হয়নি। আর হয়নি বলেই প্রাক্তন দমকল মন্ত্রী সুজিত বসু গ্রেপ্তার হয়েছে। আমার বিধানসভায় মুর্শিদাবাদ ও জিয়াগঞ্জ-আজিমগঞ্জ এই দু’টি পুরসভা রয়েছে। আমি চাইব দুটো পুরসভাতেই নিয়োগ সংক্রান্ত বিষয় নিয়ে ভিজিলেন্স টিম আবার তদন্ত শুরু করুক। যে চাকরিগুলি হয়েছে সেগুলির ক্ষেত্রে কতটা নিয়ম মানা হয়েছে বা অনিয়ম হয়েছে তা খতিয়ে দেখতে সংশ্লিষ্ট দপ্তরের কাছে আবেদন জানাব। তিনি আরও বলেন, পুর কর্মচারীরা (স্থায়ী বা অস্থায়ী) আবাস যোজনায় কেউ পাঁচটি আবার কেউ সাতটি বাড়ি নিয়েছে। সুলভ শৌচাগারের ক্ষেত্রে একই ঘটনা হয়েছে। মুর্শিদাবাদ পুরসভার কর্মী নিয়োগ থেকে প্রতিটি ক্ষেত্রে অনিয়ম হয়েছে। তৃণমূল সরকার ছিল সেই কারণে তাদের নেতা-কর্মীদের দুর্নীতি এমন পর্যায়ে পৌঁছেছিল যে মানুষ সর্বস্বান্ত হয়ে গিয়েছে। তাঁরা কোনো পরিষেবা পাননি। যারা যেটুক পেয়েছেন, তা কাটমানির ভিত্তিতে পেয়েছেন। বাকিরা স্বজনপোষণের ভিত্তিতে পেয়েছেন। স্বাভাবিকভাবেই খুব শীঘ্রই দুই পুরসভার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত চাইছি। যেভাবে সুজিত বসু গ্রেপ্তার হয়েছে এখানেও তদন্ত হলে দুই পুরসভার অনেকের জন্য জেলযাত্রা অপেক্ষা করে রয়েছে। এই বিষয়ে মুর্শিদাবাদ পুরসভার চেয়ারম্যান ইন্দ্রজিৎ ধর বলেন, বিধায়কের অভিযোগ সম্পূর্ণ অসত্য ও ভিত্তিহীন। আমরাও চাইছি তদন্ত হোক। পুরসভা পাশে থেকে তদন্তে সার্বিকভাবে সাহায্য করবে।



