নিজস্ব প্রতিনিধি, আরামবাগ: গ্রিন সিটি মিশনে দুর্নীতির অভিযোগে ধৃত আরামবাগ পুরসভার প্রাক্তন চেয়ারম্যান স্বপন নন্দীকে সোমবার চুঁচুড়ায় জেলা আদালতে তোলে পুলিশ। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, তাঁকে ১৪ দিন পুলিশ হেপাজতের নির্দেশ দিয়েছেন বিচারক। পুলিশের এক আধিকারিক বলেন, প্রাক্তন চেয়ারম্যানকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে। নথি উদ্ধারের চেষ্টা চালানো হবে।
এদিন চুঁচুড়া জেলা আদালতে তোলার সময় স্বপনবাবু সংবাদমাধ্যমে জানান, তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ মিথ্যা। পাশাপাশি তিনি বলেন, আমি আরামবাগে কাজ করে গিয়েছি। করোনার সময় আড়াই বছর কাজ হয়নি। আরামবাগে মেডিকেল কলেজ হয়েছে। বৃদ্ধাশ্রম, ভবঘুরে ভবন হয়েছে। হুগলি জেলার কোন শহরে হেলিপ্যাড হয়েছে? আরামবাগে হয়েছে। ভিত্তিহীন অভিযোগ করা হয়েছে। আমার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করা হয়েছে। যেভাবে এরা মিথ্যা কথা বলছে, ঈশ্বর তাদের ঠিক ব্যবস্থা করবে। আমি চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে গিয়েছিলাম। সবাইকে বলে গিয়েছি।
উল্লেখ্য, আরামবাগ পুরসভার গ্রিন সিটি মিশন প্রকল্পে সাত কোটির বেশি টাকা দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। ২০১৭ সাল নাগাদ এই মিশনের বাস্তবায়নের সময় পুরসভার চেয়ারম্যান ছিলেন তৃণমূলের স্বপন নন্দী। বর্তমানে তিনি পুরসভার ৬ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলারও রয়েছেন। তবে গ্রিন সিটি মিশনে দুর্নীতি নিয়ে আরামবাগ পুরসভার বর্তমান চেয়ারম্যান তৃণমূলেরই সমীর ভাণ্ডারি গত ১৫মে আরামবাগ থানায় লিখিত অভিযোগ জানান। প্রাক্তন চেয়ারম্যান সহ সাতজনের বিরুদ্ধে অভিযোগ হয়। ইতিমধ্যেই পুলিশ স্বপনবাবুকে ছাড়াও আরও তিনজনকে পুলিশ গ্রেপ্তার করেছে। স্বপনবাবুকে কেরল থেকে পুলিশ গ্রেপ্তার করে সোমবার আরামবাগে নিয়ে এলে তাঁকে হেনস্তা করা হয়। তাঁর জামা ছিঁড়ে দেওয়া হয়। কালি ছেটানোর পাশাপাশি তাঁকে লক্ষ্য করে ডিম ছোড়া হয়। ঘটনায় ব্যাপক উত্তেজনা ছড়িয়েছিল।