


নিজস্ব প্রতিনিধি, নয়াদিল্লি: গত ১ জুলাই থেকে ট্রেনের তৎকাল টিকিট বুকিংয়ে নতুন নিয়ম চালু করেছে রেলমন্ত্রক। ফলে আইআরসিটিসির ইউজার আইডির সঙ্গে আধার সংযুক্ত না থাকলে কোনও ব্যক্তিই তৎকাল টিকিট কাটতে পারছেন না। পাশাপাশি, ট্রেনের তৎকাল টিকিট বুকিং উইন্ডো খোলার প্রথম ৩০ মিনিট কোনও এজেন্ট তা কাটতে পারছেন না। কিন্তু এহেন বজ্র আঁটুনিরও কি ফাঁকফোকর বের করে ফেলেছে এক শ্রেণির অসাধু চক্র? আপাতত এই প্রশ্নকে কেন্দ্র করেই তীব্র জল্পনার সৃষ্টি হয়েছে। কারণ অভিযোগ উঠেছে, আধার নম্বর যাচাই করা আইআরসিটিসির ইউজার আইডি বিক্রি হচ্ছে ৩৫০ টাকায়। বিশেষ কয়েকটি সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্মে এহেন একটি চক্র সক্রিয় হয়ে উঠেছে। ট্রেনের তৎকাল টিকিট বুকিংয়ে নয়া নিয়ম চালুর মাত্র দিনচারেকের মাথায় দুর্নীতির নতুন এবং অভিনব অভিযোগে রীতিমতো চাঞ্চল্য রেলমন্ত্রকে। বিষয়টি নিয়ে সরগরম রেলভবনের অন্দরমহলও।
আধিকারিকদের একটি বড় অংশের দাবি, এই অভিযোগ সত্যি হলে অবিলম্বে ওই অসাধু চক্রকে চিহ্নিত করে কড়া পদক্ষেপ গ্রহণ জরুরি। নাহলে যে কারণে এই নয়া নিয়ম চালু করা হয়েছে, সেটিই ব্যর্থ হয়ে যাবে। ফের টিকিট পেতে সমস্যায় পড়তে হবে সাধারণ রেল যাত্রীদের।
তৎকাল টিকিট বুকিংয়ে আধার যাচাই বাধ্যতামূলক হওয়ার পর আপাতত ‘অ্যাভেলেবল’ আসনই মিলছে বলে দাবি রেলযাত্রীদের একাংশের। রেল সূত্রে খবর, সাড়ে তিনশো টাকায় আধার যাচাই করা আইআরসিটিসির ইউজার আইডি বিক্রির বিষয়টি খতিয়ে দেখতে ইতিমধ্যে আরপিএফ এবং মন্ত্রকের প্রযুক্তিবিদদের নিয়ে একটি টিম তৈরির সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তারা পুরো বিষয়টি সম্পর্কে নিশ্চিত হয়ে তারপর প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ করবে।
এর জন্য সমস্ত সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্মে কড়া নজরদারির বন্দোবস্তও করা হচ্ছে। এমনকী স্ক্যানারের তলায় রাখা হচ্ছে রেল এবং আইআরসিটিসির (ইন্ডিয়ান রেলওয়ে কেটারিং অ্যান্ড ট্যুরিজম কর্পোরেশন) নথিভুক্ত এজেন্টদের একাংশকেও। স্বাভাবিকভাবেই যাবতীয় ঘটনাক্রমকে যথেষ্ট উদ্বেগজনক বলে মনে করছে রেল বিশেষজ্ঞ মহল। সূত্রের খবর, কোনও সাধারণ ব্যক্তিবিশেষের মাধ্যমে নয়, ওই অসাধু চক্র প্রধানত আইআরসিটিসির নথিভুক্ত এজেন্টদের মাধ্যমেই ইউজার আইডি বিক্রির চেষ্টা চালাচ্ছে। এক্ষেত্রে লগ-ইন করবেন এজেন্টরাই। কিন্তু রেলের সিস্টেমে তা ‘পার্সোনাল’ আইডি হিসেবেই ‘শো’ করবে। ফলে ওই আইডিতে কোনও নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হবে না। নামপ্রকাশে অনিচ্ছুক রেলমন্ত্রকের এক শীর্ষ কর্তা জানিয়েছেন, যে কোনও দুর্নীতির ক্ষেত্রে আমরা প্রথম থেকেই ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি নিয়েছি। যদি দেখা যায়, কোনও ইউজার আইডি থেকে স্বাভাবিকের তুলনায় বেশি তৎকাল টিকিট বুকিং হচ্ছে, আমরা তা ‘ব্লক’ করে দেব। সবই আতস কাচের তলায় রয়েছে।