Bartaman Logo
২৪ জুলাই, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

দুর্নীতির অভিযোগ, তৃণমূলের প্রাক্তন মন্ত্রী ও বিধায়ক সহ ১৫০ নেতার তালিকা তৈরি, ধরপাকড় শীঘ্রই

দুর্নীতির অভিযোগে তৃণমূলের ১৫০ জন নেতা-মন্ত্রীকে ধরপাকড়ের জন্য তালিকা তৈরি হয়েছে। রাজ্য পুলিশ শীঘ্রই অভিযান শুরু করবে। বিস্তারিত পড়ুন।

দুর্নীতির অভিযোগ, তৃণমূলের প্রাক্তন মন্ত্রী ও বিধায়ক সহ ১৫০ নেতার তালিকা তৈরি, ধরপাকড় শীঘ্রই
  • ৪ জুন, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

শুভ্র চট্টোপাধ্যায়, কলকাতা: নানা দুর্নীতির অভিযোগে বিদ্ধ সদ্য ক্ষমতা হারানো তৃণমূল নেতাদের এবার আষ্টেপৃষ্টে আইনের বাঁধনে আবদ্ধ করতে চাইছে রাজ্য পুলিশ প্রশাসন। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দলের কমবেশি ১৫০ জন প্রাক্তন মন্ত্রী ও প্রাক্তন বিধায়ক-নেতারা এবার শুভেন্দুর প্রশাসনের ‘স্ক্যানারে’। তাঁদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন জেলার থানার পাহাড়প্রমাণ অভিযোগ জমা পড়েছে। আগামী দিনে এর পরিমাণ আরও বাড়বে বলেই মনে করছে প্রশাসন। এই পরিপ্রেক্ষিতে ঝাড়াইবাছাই করে প্রায় ১৫০ জনের একটি তালিকা তৈরি করা হয়েছে বলে রাজ্য প্রশাসন সূত্রে খবর। শীঘ্রই তাঁদের ধরপাকড় শুরু হবে বলে নবান্ন সূত্রে ইঙ্গিত মিলেছে।

Advertisement

তৃণমূলের নেতা, প্রাক্তন মন্ত্রী. বিধায়কদের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগের বিরাম নেই। পালাবদলের পর এই অভিযোগই সামনে আসছে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দলের নেতা-প্রাক্তন মন্ত্রী-বিধায়করা দুর্নীতির টাকায় সম্পত্তি করেছেন। একাধিক গাড়ি কিনেছেন।  রিয়েল এস্টেট ব্যবসায়ে টাকা লগ্নি করেছেন। এমনকী বিদেশে বাংলো, শপিং মল পর্যন্ত কিনেছেন বলে প্রশাসন সূত্রে খবর। ক্ষমতা যেতেই এই নিয়ে মুখ খুলছেন সাধারণ মানুষ থেকে শুরু করে তৃণমূলের একটা বড় অংশ। শুভেন্দুর প্রশাসন তৃণমূলের এই দুর্নীতিগ্রস্থ নেতা-মন্ত্রী-বিধায়কদের সামান্যতম রেয়াত করতে রাজি নয়। জেলার সমস্ত থানায় নির্দেশ গিয়েছে, তৃণমূলের এইসব রাঘব বোয়ালদের গ্রেপ্তার করতে হবে। রাজ্য প্রশাসনের নজরে এসেছে, জেলার বিভিন্ন থানার ওসি বা আইসি এবং পুলিশ কর্তাদের একটা অংশ তৃণমূলের এই অংশের প্রতি সহানুভূতিশীল। অভিযোগ, তৃণমূল নেতাদের তোলাবাজির ভাগ পুলিশের একাংশের কাছে গিয়েছে। তাই তৃণমূলের জেলা সভাপতি, প্রাক্তন মন্ত্রী, বিধায়ক বা প্রাক্তন বিধায়কদের বিরুদ্ধে সরাসরি অভিযোগ এলেও তাঁদের নাম এফআইআরে রাখা হচ্ছে না। আবার তাঁদের শাগরেদদের জেরা করে সংশ্লিষ্টদের তদন্তের আওতায় আনা হচ্ছে না। সেই কারণে প্রশাসনের স্পষ্ট নির্দেশ, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দলের দুর্নীতিগ্রস্ত নেতাদের কোনওভাবেই ছাড়া যাবে না। রাজ্য পুলিশ সূত্রে খবর জেলায় জেলায় তৃণমূল নেতাদের বিরুদ্ধে জোর করে জমি দখল. সিন্ডিকেট চালানো, সরকারি প্রকল্পের টাকা নয়ছয়, একশো দিনের কাজের টাকা আত্মসাৎ, মাটি চুরি, গোরু, কয়লা, বালি ও পাথরের অবৈধ ব্যবসা চালানোর অভিযোগ এসেছে বিভিন্ন থানায়। এর সঙ্গে স্কুল কলেজ, পুরসভা সহ বিভিন্ন জায়গায় চাকরি দেওয়ার নাম করে লক্ষ লক্ষ টাকা তোলার অভিযোগ জমা পড়েছে। প্রাক্তন মন্ত্রী-বিধায়ক এবং নেতারা টিম তৈরি করে এই তোলাবাজি চালিয়েছেন ১৫ বছর ধরে। এই সমস্ত নেতাদের ধরপাকড় শীঘ্রই শুরু করার জন্য জেলায় জেলায় নির্দেশ গিয়েছে বলে খবর।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ