Bartaman Logo
২৯ আগস্ট, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

৭ দিনে জমা পড়ল কয়েক কোটির দুর্নীতির অভিযোগ, তদন্ত শুরু করল রাজ্য সরকার গঠিত কমিশন

পশ্চিমবঙ্গে প্রাতিষ্ঠানিক দুর্নীতির অভিযোগ খতিয়ে দেখার জন্য কমিশন গঠন করেছে রাজ্য। মাত্র সাতদিনেই কোটি কোটি টাকার দুর্নীতির অভিযোগ জমা পড়ল সেই কমিশনের কাছে।

৭ দিনে জমা পড়ল কয়েক  কোটির দুর্নীতির অভিযোগ, তদন্ত শুরু করল রাজ্য সরকার গঠিত কমিশন
  • ২৯ আগস্ট, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

প্রীতেশ বসু, কলকাতা: পশ্চিমবঙ্গে প্রাতিষ্ঠানিক দুর্নীতির অভিযোগ খতিয়ে দেখার জন্য কমিশন গঠন করেছে রাজ্য। মাত্র সাতদিনেই কোটি কোটি টাকার দুর্নীতির অভিযোগ জমা পড়ল সেই কমিশনের কাছে। স্বরাষ্ট্র দপ্তর গত ১০ জুলাই কলকাতা হাইকোর্টের অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতির নেতৃত্বাধীন এই কমিশন গঠন সংক্রান্ত গেজেট প্রকাশ করে। নূন্যতম পরিকাঠামো তৈরি করে গত সপ্তাহ থেকে পুরোমাত্রায় অভিযোগ জমা নেওয়া শুরু করেছে কমিশন। তাতে দেখা যাচ্ছে, নির্দিষ্ট ই-মেলের মাধ্যমে ৩৮টি অভিযোগ জমা পড়েছে। আর সরাসরি কমিশনের অফিসে ৭০টির বেশি অভিযোগ জমা পড়েছে। কিছু ব্যক্তিগত স্তরের দুর্নীতির অভিযোগ বাদ দিলে অধিকাংশ প্রাতিষ্ঠানিক দুর্নীতি সংক্রান্ত অভিযোগই কোটি টাকার বেশি। 

Advertisement

সূত্রের খবর, বহু অভিযোগ জমা পড়েছে পুর বিষয়ক এবং শিক্ষাক্ষেত্রে হওয়া প্রাতিষ্ঠানিক দুর্নীতি নিয়ে। বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাক্তন ভাইস চ্যান্সেলররা পর্যন্ত এসে অভিযোগ জানিয়েছেন। কলকাতা পুরসভা ছাড়াও অভিযোগ এসেছে রাজ্যের অন্যান্য পুরসভা নিয়ে। এছাড়াও পূর্বতন সরকারের আমলে সেচ এবং অন্যান্য একাধিক দপ্তরের নানা বিষয় নিয়ে প্রাতিষ্ঠানিক দুর্নীতির অভিযোগ জমা পড়েছে। তালিকায় আছে তথ্য ও সংস্কৃতি বিভাগও। 
সাত দিন আগে চালু হয়েছে কমিশনের পোর্টাল inst. [email protected]। পোর্টাল চালুর আগে থেকেই অবশ্য অভিযোগ আসতে শুরু করেছিল কমিশনের কাছে। ব্যক্তিগতভাবে দেখা করে অনেকে নথিসহ অভিযোগপত্র জমা দিয়ে গিয়েছেন। পোর্টাল খুলতেই বেড়ে গিয়েছে অভিযোগ আসার সংখ্যা। অনেকেই নিজেদের নাম গোপন রেখেও অভিযোগ জমা দিচ্ছে। অভিযোগ পেয়েই তথ্য সংগ্রহে নেমে পড়েছে কমিশন। মাঠে নামতে শুরু করেছেন কমিশনের সদস্য সচিব কে জয়রামন। প্রাতিষ্ঠানিক দুর্নীতির ক্ষেত্রে অভিযোগ পাওয়ার পর কোন কোন বিষয় দেখছে কমিশন? ধরা যাক, একটি পুরসভার বিরুদ্ধে অবৈধ নির্মাণে প্রশ্রয় দেওয়ার অভিযোগ হয়েছে। সেক্ষেত্রে এই অবৈধ নির্মাণের অনুমতি দেওয়ায় কারা জড়িত ছিল এবং কারা লাভবান হয়েছেন, তা চিহ্নিত করা হবে। শিক্ষাক্ষেত্রে দুর্নীতি হলে তার লাভ কারা পেয়েছেন এবং অনৈতিকভাবে কাদের ব্যাংক ব্যালেন্স বেড়েছে, সবই খুঁটিয়ে পরীক্ষা করে রাজ্যকে অন্তর্বর্তী রিপোর্ট দেবে কমিশন। প্রয়োজনে এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট বা ইকনমিক অফেন্স উইংকে কাজে লাগানোর পরামর্শ দিতে পারে কমিশন। কমিশনের অন্তর্বর্তী রিপোর্টের ভিত্তিতে পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ করবে রাজ্য। 
কমিশনের চেয়ারম্যান তথা অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি বিশ্বজিৎ বসু বলেন, ‘রাজ্য সরকার কমিশনকে যথেষ্ট গুরুত্ব দিচ্ছে। কর্মী সংখ্যাও বাড়ছে। পুজোর আগেই কমিশনের সক্রিয়তা বুঝতে পারবে সবাই।’ উল্লেখ্য, আগের সরকার একটি বণিক সংগঠনকে বাণিজ্য সম্মেলন আয়োজনের জন্য ৩০০ কোটি টাকা দিয়েছিল বলে সম্প্রতি জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। সেই বিষয়টিও এই কমিশন পর্যন্ত গড়ায় কি না, সেদিকে নজর রয়েছে ওয়াকিবহাল মহলের। 

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ