Bartaman Logo
৫ জুন, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

প্রশ্নপত্রের মধ্যেই ছাপা সঠিক উত্তর! অবাক কাণ্ড পলিটেকনিক পরীক্ষায়, নেতৃত্বের অভাবে ভুগছে রাজ্যের কারিগরি শিক্ষা

কলকাতায় পলিটেকনিক পরীক্ষায় প্রশ্নপত্রে সঠিক উত্তর ছাপা! শিক্ষার মান নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। বিস্তারিত পড়ুন।

প্রশ্নপত্রের মধ্যেই ছাপা সঠিক উত্তর! অবাক কাণ্ড পলিটেকনিক পরীক্ষায়, নেতৃত্বের অভাবে ভুগছে রাজ্যের কারিগরি শিক্ষা
  • ৫ জুন, ২০২৬ ০৪:০০

অর্পণ সেনগুপ্ত, কলকাতা; রাজ্যজুড়ে বৃহস্পতিবার পলিটেকনিকের ইলেকট্রিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের ইলেকট্রিক্যাল টেস্টিং অ্যান্ড কমিশনিং বিষয়ের পরীক্ষা ছিল। ষষ্ঠ সেমেস্টারের ছাত্রছাত্রীরা এই পরীক্ষায় বসেন। তবে, প্রশ্নপত্র হাতে পেয়েই তাঁরা অবাক। ১ নম্বরের ৪ নম্বর দাগের এমসিকিউ প্রশ্নের চারটি বিকল্পের পরে এর সঠিক উত্তরটিও লেখা রয়েছে প্রশ্নপত্রে! এ, বি, সি, ডি বিকল্পের মধ্যে সঠিক উত্তরটি হবে ‘বি’। সেটিরও উল্লেখ করা রয়েছে সেখানে!

Advertisement

বিভিন্ন সর্বভারতীয় পরীক্ষায় প্রশ্নফাঁস এবং মূল্যায়ন নিয়ে যখন দেশজুড়ে তুলকালাম চলছে, সেই পরিস্থিতিতে এই ঘটনা বেশ তাৎপর্যপূর্ণ। দায়সারা প্রশ্নপত্র দেখে ব্যাপক ক্ষুব্ধ পরীক্ষার্থী, শিক্ষক সকলেই। শিক্ষকদের একাংশের দাবি, পূর্বতন সরকারের ঘনিষ্ঠ আধিকারিকদের মদতেই এই অন্তর্ঘাত! বাস্তবে ভুগছেন ছাত্রছাত্রীরা। প্রশ্নের মুখে পড়ছে রাজ্যের কারিগরি শিক্ষার মানও।
স্কিল এডুকেশনকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়ার কথা বলেছিল পূর্বতন সরকার। উপযুক্ত নেতৃত্বের অভাবে সেটি উপেক্ষিতই হয়েছিল। দপ্তরের মন্ত্রী এবং সংশ্লিষ্ট সংসদের চেয়ারম্যান নিয়োগের ক্ষেত্রে ঘটেছিল একের পর এক পরীক্ষামূলক পরিবর্তন! এমন ব্যক্তিদের দায়িত্ব দেওয়া হয়, যাঁদের কারিগরি শিক্ষা সম্পর্কে কোনো জ্ঞানই ছিল না। এস এন ব্যানার্জি রোড থেকে দপ্তরের কাজকর্ম নিউটাউনে কারিগরি দপ্তরে চলে গেলে যেন কফিনে শেষ পেরেক পোঁতা হয়। মন্ত্রী বা চেয়ারম্যান কেউই আর সেখানে যেতে চাইতেন না। গায়ক বিধায়ক ইন্দ্রনীল সেন ছিলেন দপ্তরের শেষ স্বাধীন দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রতিমন্ত্রী। এই ব্যাপারে তাঁর ভূমিকাও ভালো ছিল না। মন্ত্রী কেন দপ্তরে আসেন না, এই প্রশ্ন তুলে ফেসবুক পোস্ট করায় ভুগতে হয় তৎকালীন শাসক-ঘনিষ্ঠ অধ্যাপক সংগঠনের সর্বোচ্চ নেতা বিক্রম চট্টোপাধ্যায়কেও। তাঁর সেই পোস্ট মন্ত্রীর নজরে আনেন বিরোধী লবির কেউ। কয়েকদিনের মধ্যেই হুগলির ব্যান্ডেল থেকে ইসলামপুরে বদলি করে দেওয়া হয় তাঁকে। বর্তমানে তিনি সেখানেই কর্মরত।
নজরদারির অভাবে যা হওয়ার সেটাই হয়েছে। গুটিকয়েক আমলা-আধিকারিকই দপ্তর চালানোর নামে যথেচ্ছাচার করেছেন। পরীক্ষা এবং মূল্যায়ন পদ্ধতি পরিবর্তন করা হয়েছে খেয়ালখুশি। অধ্যাপকদের ছুটি কমানো হয়েছে। এনিয়ে ছাত্রছাত্রী থেকে শুরু করে অধ্যাপকরা বারবার আন্দোলন করেছেন। তাতে নেতৃত্ব দিয়েছে তৃণমূলপন্থী ছাত্র এবং শিক্ষক সংগঠনই। শুধু টনক নড়েনি অদ্ভুত শাসকের। কারিগরি শিক্ষক ও ছাত্রসমাজ আজকের এই পরিস্থিতির জন্য এই ভয়াবহ অনাচারকেই দায়ী করেন।

সম্পর্কিত সংবাদ