সামশেরগঞ্জে ক্লাসরুমে রান্না, বারান্দায় গবাদি পশু! ভাঙনের সময় আশ্রয় নেওয়া ২২টি পরিবারের ঠাঁই স্কুলেই
  • ৩ নভেম্বর, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

সবুজ বিশ্বাস, জঙ্গিপুর: যে শ্রেণিকক্ষ ছাত্রছাত্রীদের পড়াশোনার শব্দে মুখর হওয়ার কথা, সেখানে এখন চলছে রান্না। স্কুলের বারান্দায় শুয়ে থাকছে গবাদি পশু! শৌচাগারে বহিরাগতরা যাতায়াত করছে। এমন পরিস্থিতিতে সামশেরগঞ্জের প্রতাপগঞ্জ প্রাথমিক বিদ্যালয় ও লাগোয়া প্রতাপগঞ্জ জুনিয়র হাইস্কুলে পড়াশোনা শিকেয় উঠেছে। পড়ুয়া ও শিক্ষকদের অভিযোগ, তাঁরা যেন নিজেদের স্কুলেই ‘বহিরাগত’।

Advertisement

সামশেরগঞ্জের প্রতাপগঞ্জে চারবছর আগে ভয়াবহ ভাঙনের জেরে বহু পরিবারকে এই স্কুলে অস্থায়ীভাবে আশ্রয় দিয়েছিল প্রশাসন। এরপরেও ভাঙনে ভিটেমাটি হারিয়ে অনেকে স্কুলে আশ্রয় নিয়েছিলেন। কিছু পরিবার জমির পাট্টা ও আর্থিক সহায়তা পেয়ে স্কুল ছেড়ে চলে গিয়েছে। কিন্তু, ২২টি পরিবারের প্রায় ১০০জন এখনও ওই স্কুলে রয়েছেন। তাঁদের অনেকেই চারবছর আগে ভাঙনের সময় এখানে এসেছিলেন। অভিযোগ, অনেক পরিবারকেই প্রশাসনের তরফে জমির পাট্টা ও আর্থিক সহায়তা দেওয়া হয়েছে। তা সত্ত্বেও তারা স্কুল জবরদখল করে রেখে দিয়েছে। এই ঘটনায় শিক্ষামহলে ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। প্রশাসনের নাকের ডগায় কীভাবে এমন অরাজকতা চলছে-তাঁরা সেই প্রশ্ন তুলেছেন।
এই চরম অব্যবস্থার কথা শুনে হতবাক প্রশাসনও। জঙ্গিপুরের মহকুমা শাসক সুধীরকুমার রেড্ডি বলেন, এই অচলাবস্থার কথা আমার আগে জানা ছিল না। তবে বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তিনি স্পষ্ট বলেন, যদি এর আগে ওই সমস্ত ভূমিহীন পরিবারকে সরকারিভাবে জমি ও আর্থিক সহায়তা দেওয়া হয়ে থাকে, তবে তারা স্কুলের শ্রেণিকক্ষ দখল করে রাখতে পারবে না। বিদ্যালয়ে স্বাভাবিক পঠনপাঠন নিশ্চিত করতে অবিলম্বে ওই সমস্ত পরিবারকে সেখান থেকে সরিয়ে দেওয়া হবে।
প্রাথমিক বিদ্যালয় চত্বর ও সমস্ত ক্লাসরুম ভাঙনে ক্ষতিগ্রস্তদের দখলে রয়েছে। মাত্র একটি অফিসরুম ও একচিলতে বারান্দায় পড়াশোনা চলছে। খুব ছোট জায়গায় গাদাগাদি করে খুদে পড়ুয়াদের বসাতে বাধ্য হচ্ছেন শিক্ষকরা। প্রধান শিক্ষক চন্দন সাহা আক্ষেপ করে বলেন, আমাদের স্কুলে প্রায় ২০০ পড়ুয়া রয়েছে। অথচ এই অবস্থার কারণে মাত্র ৭৫জন পড়ুয়া স্কুলে আসছে। নিরাপত্তার কথা ভেবে অনেক অভিভাবক ছেলেমেয়েদের স্কুলে পাঠাচ্ছেন না। স্কুলের প্রাঙ্গণটিও আর পড়ুয়াদের উপযুক্ত নয়। শুধু তাই নয়, শৌচাগারও শিশুরা আর ব্যবহার করতে পারছে না। চন্দনবাবু জানান, বিডিও এবং স্কুল পরিদর্শককে বিষয়টি লিখিতভাবে জানানো হয়েছিল। স্কুল পরিদর্শক জবরদখলকারীদের স্কুল ছাড়তে নোটিসও জারি করেছিলেন। কিন্তু, সেই নির্দেশকে তুড়ি মেরে উড়িয়ে দখলকারীরা রয়ে গিয়েছেন।
আরও গুরুতর অভিযোগ তুলেছেন জুনিয়র হাইস্কুলের শিক্ষকরা। এই স্কুলের একটি অফিসরুম, একটি শ্রেণিকক্ষ ও মিড-ডে মিল রান্নার ঘর ছাড়া সমস্ত কক্ষই বেদখল হয়েছে। স্কুলের শিক্ষকরা জানান, উপায় না থাকায় একটিমাত্র শ্রেণিকক্ষে পঞ্চম থেকে অষ্টম শ্রেণির ছাত্রছাত্রীদের পড়ানো হচ্ছে। এর জেরে অনেক পড়ুয়া অন্য স্কুলে ভরতি হয়েছে। বহু পড়ুয়া স্কুলছুটও হয়েছে। অর্থাৎ, স্কুল জবরদখল হয়ে যাওয়ায় শেষ পর্যন্ত তারা পড়াশোনাও ছেড়ে দিয়েছে। সেকারণে অবিলম্বে বিদ্যালয় দখলমুক্ত করার দাবি তুলেছে শিক্ষামহল। স্কুলে থাকা স্বাধীন সরকার, প্রতিমা সরকার বলেন, আমাদের অনেকটা দূরে জমি দেওয়া হয়েছে। ওই এলাকা বসবাসযোগ্য নয়। সেকারণে আমরা যেতে পারিনি। আমাদের কাছাকাছি নতুন জায়গা দেওয়া হোক। -নিজস্ব চিত্র