Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

সাজাপ্রাপ্ত জেএমবি জঙ্গি বোমা মিজানকে পৃথক মামলায় ৮ বছর কারাদণ্ডের নির্দেশ

বর্ধমানের খাগড়াগড় বিস্ফোরণ মামলায় কলকাতার বিচারভবন জেএমবি জঙ্গি জাহিদুল ইসলাম ওরফে কওসর ওরফে বোমা মিজানকে আগেই ২৯ বছরের কারাদণ্ড দিয়েছিল।

সাজাপ্রাপ্ত জেএমবি জঙ্গি বোমা মিজানকে পৃথক মামলায় ৮ বছর কারাদণ্ডের নির্দেশ
  • ৬ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: বর্ধমানের খাগড়াগড় বিস্ফোরণ মামলায় কলকাতার বিচারভবন জেএমবি জঙ্গি জাহিদুল ইসলাম ওরফে কওসর ওরফে বোমা মিজানকে আগেই ২৯ বছরের কারাদণ্ড দিয়েছিল। কলকাতা নগর দায়রা কোর্ট থেকে প্রেসিডেন্সি জেলে যাওয়ার পথে পালানোর ছক কষার মামলায় এবার সে দোষ কবুল করল। এই মামলায় আদালত ফের সাজা দিল তাকে। বুধবার নগর দায়রা আদালতের মুখ্য বিচারক সুকুমার রায় তাকে দোষী সাব্যস্ত করেন। এদিন তাকে আটবছর সশ্রম কারাদণ্ডের আদেশ শোনানো হল। কোর্টের নির্দেশ, তাকে ওইসঙ্গে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা দিতে হবে, অনাদায়ে হাজতবাসও করতে হবে একবছর। অন্যান্য ধারাতেও তার পৃথক পৃথক সাজা হয়।

Advertisement

তবে আদালতের মন্তব্য, সমস্ত সাজাই একত্রে চলবে। আদালত সূত্রে জানা গিয়েছে, ২০০৫ সালের ২৯ নভেম্বর  চট্টগ্রাম আদালত চত্বরে এক ভয়াবহ আত্মঘাতী বোমা হামলার ঘটনা ঘটে। সেই মামলায় ২০০৭ সালে বাংলাদেশের সন্ত্রাসদমন বিশেষ আদালত তাকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছিল। ২০১২ সালে ত্রিশালে প্রিজনভ্যানে হামলা চালিয়ে তাকে ছিনিয়ে নিয়ে চম্পট দিয়েছিল তার অনুগামীরা। বোমা মিজানকে এনআইএ ২০১৮ সালে বেঙ্গালুরু থেকে পাকড়াও করে।

কলকাতার নগর দায়রা আদালতের মুখ্য সরকারি কৌঁসুলি দীপঙ্কর কুণ্ডু ও বিশ্বজিৎ ঠাকুরতা এদিন জানান, কলকাতায় নাশকতার চেষ্টা সংক্রান্ত এক মামলাতেও উঠে আসে বোমা মিজানের নাম। ২০১৯ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে কলকাতা পুলিশের এসটিএফ সেই মামলায় বোমা মিজানসহ দশজনকে অভিযুক্ত করে। ধৃতদের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র, রাষ্ট্রদ্রোহিতা, বিস্ফোরকসহ একগুচ্ছ অভিযোগ আনা হয়। বিচার চলাকালে আদালতে দোষ কবুলসহ এই বাংলাদেশি জঙ্গির আরজি, ‘আমাকে যেন কম সাজা দেওয়া হয়।’ এই মর্মে তার আইনজীবী মারফত আদালতে পিটিশনও দাখিল করেন। তা নিয়ে চলে দীর্ঘ শুনানি। শুনানি চলাকালে সরকারি কৌঁসুলি বলেন, বোমা বিশেষজ্ঞ এই জঙ্গি একাধিক মামলায় ইতিমধ্যেই সাজাপ্রাপ্ত। তাই আদালত তাকে কড়া সাজাই দিক। সওয়ালে ওই আইনজীবীর বক্তব্য ছিল, প্রিজন ভ্যান থেকে পালিয়ে যাওয়ার যে ছক কষা হয়েছিল, সেই মর্মে তার কাছ থেকে একটি রুট ম্যাপ পাওয়া যায়। এসটিএফ গোয়েন্দারা জেনে ফেলায় ওই মতলব শেষপর্যন্ত ব্যর্থ হয়।  শুনানি চলাকালে বিচারকের মন্তব্য, দোষ কবুল করলেই কম সাজা হবে, আইনে তেমন বিধান নেই। এরপরই বিচারক তাকে দোষী সাব্যস্ত করে তার বিরুদ্ধে সাজা ঘোষণা করেন। এর আগে এই মামলায় দোষ স্বীকার করেই সাজা পেয়েছে ছয়জন। বাকিদের বিরুদ্ধে চলবে মামলার শুনানি।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ