সংবাদদাতা, কাটোয়া: পথশ্রী প্রকল্পের কাজ শুরু হয়েছিল। কোথাও রাস্তা খোড়া হয়েছে, কোথাও স্তূপাকার হয়ে পড়ে রয়েছে ইট। সিমেন্টের বস্তা নষ্ট হচ্ছে পড়ে পড়ে। কাটোয়ার আলমপুরে তো রাতারাতি পথশ্রী প্রকল্পের বোর্ডই উধাও! ক্ষোভ বাড়ছে গ্রামের বাসিন্দাদের৷ আলমপুর অঞ্চলের প্রধান মোল্লা নজরুল হক বলেন, কিছু সমস্যার জন্য রাস্তার কাজ বন্ধ করেছিল ঠিকাদাররা৷ আমরা তাদের বলেছি, কাজ যেন বন্ধ না হয়৷ ফের কাজ শুরু হবে৷
তৃণমূল সরকারের আমলে পথশ্রী প্রকল্পে গ্রামীণ রাস্তার হাল ফেরানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল৷ বহু গ্রামে রাস্তার কাজ শুরু হয়েছিল চলতি বছরের জানুয়ারি মাস থেকেই৷ কিন্তু রাজ্যে পালাবদল হতেই রাতারাতি কাজ বন্ধ করে দিচ্ছে ঠিকাদাররা। মালপত্র কাজের জায়গায় ফেলে রেখেই উধাও হয়েছেন তাঁরা। বিজেপির দাবি, দুর্নীতি ঢাকতেই সবাই কাজ বন্ধ করে পালাচ্ছে৷ অর্ধসমাপ্ত রাস্তায় চলাচল করতে দূর্ভোগ বাড়ছে মানুষের৷ অবিলম্বে তদন্ত করার দাবি তুলেছে বিজেপি। কাটোয়া-১ ব্লকের আলমপুর গ্রামে নিমাই হালদারের বাড়ি থেকে বটতলা পর্যন্ত ১ কিমি ২৫০ মিটার রাস্তার অনুমোদন হয়েছিল৷ রাস্তাটি বিটুমিনাস দিয়ে হওয়ার কথা৷ কাজের জন্য রাজ্যের গ্রামোন্নয়ন দপ্তর থেকে পথশ্রী প্রকল্পে ৪১ লক্ষ ৯৫ হাজার ৬৭০ টাকা বরাদ্দ হয়েছিল৷ রাস্তায় ভাঙা ইটের টুকরো ফেলে চলতি বছরের ৩০ জানুয়ারি থেকে কাজ শুরু করেছিল ঠিকাদার৷ অভিযোগ, ভোটের ফল প্রকাশের পর কাজ বন্ধ করে দিয়েছে। দু’ দিন আগে রাতারাতি ডিসপ্লে বোর্ড থেকে পথশ্রী প্রকল্পের স্টিকার উধাও হয়ে গিয়েছে৷ এখন ওই রাস্তায় চলাফেরা করতে গিয়ে দুর্ভোগ বাড়ছে বাসিন্দাদের৷
স্থানীয় বাসিন্দা উৎপল ঘোষ, চণ্ডীচরণ ঘোষ বলছেন, আমাদের মনে হচ্ছে দুর্নীতি ঢাকতেই রাস্তার কাজ বন্ধ করে দিয়েছে৷ সামনেই বর্ষা আসছে৷ অর্ধসমাপ্ত রাস্তায় চলাচল করা মুশকিল হবে৷ আমরা চাই বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হোক৷ তবে সংশ্লিষ্ট ঠিকাদার নিউটন শেখ বলেন, আমি পথশ্রী প্রকল্পে বেশ কয়েকটি এলাকায় কাজ করেছি৷ একটা বিলও পাইনি৷ তাছাড়া আলমপুর গ্রামে কিছু সমস্যা থাকার জন্য রাস্তার কাজ বন্ধ আছে৷ আশাকরি খুব শীঘ্রই আবার শুরু করব৷
অন্যদিকে আলমপুর অঞ্চলের বরমপুর গ্রামেরও একই অবস্থা৷ এখানে নন্দনপুর প্রাথমিক স্কুল থেকে বরমপুর বাস স্ট্যান্ড পর্যন্ত ১ কিমি ৬৫০ মিটার রাস্তার অনুমোদন হয়েছিল৷ তারজন্য ১ কোটি ২৯ হাজার ১৩৬ টাকা বরাদ্দ করা হয়েছিল৷ কাজ শুরু হয়েছিল ১৩ জানুয়ারি। ওই রাস্তারও কাজ অর্ধসমাপ্ত রেখে উধাও ঠিকাদার৷ গ্রামের স্কুলের একটি ঘরে এক হাজার সিমেন্টের বস্তা দিনের পর দিন পড়ে পড়ে নষ্ট হচ্ছে৷। বরমপুর গ্রামের বাসিন্দা সুমিত্রা সাহা, ভূপেন্দ্রনাথ সাহা, সমীর সাহা বলছেন, ভোটের ফল প্রকাশের পর থেকেই ঠিকাদার পালিয়েছে। রাস্তার কাজ অসম্পূর্ণই রয়ে গিয়েছে৷ এখন আমরা ওই রাস্তায় চলাচল করব কীভাবে৷ আমরা চাই প্রশাসন ব্যবস্থা নিক।