কোনও তত্ত্ব বা তকমায় তাল ঠুকতে চাননি। পরিচালক সুমন মুখোপাধ্যায় নব্বই বছর আগে লেখা কালজয়ী উপন্যাস ‘পুতুল নাচের ইতিকথা’কে চিত্রায়িত করেছেন সমসাময়িক প্রেক্ষাপটে। সেখানে রাজনীতি অনেকাংশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করলেও এই ছবি অনেকটাই সামাজিক-রাজনৈতিক। ‘উপন্যাস তথা ছবির মানুষগুলোর কুসংস্কার। তার বিরুদ্ধে শশীর লড়াইয়ের চেষ্টা এবং আটকে যাওয়া— এই সমস্তটাই এক ধরনের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট তৈরি করে। যে রাজনীতির সঙ্গে সমাজের একটা গূঢ় সম্পর্ক আছে’, বলছিলেন সুমন। পরিচালক বহুদিনের ইচ্ছে পূরণের অন্তিম লগ্নে দাঁড়িয়ে। ২০০৬-এ মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ‘পুতুল নাচের ইতিকথা’ নিয়ে শ্যুটিং ফ্লোরে নেমে পড়ার পরিকল্পনা ছিল সুমনের। কিন্তু কখনও কপিরাইট নিয়ে সমস্যা, কখনও সমমানসিকতার প্রযোজকের অভাবে দীর্ঘায়িত হয়েছে প্রতীক্ষার প্রহর। অবশেষে প্রযোজক সমীরণ দাসের আগ্রহে এই ছবির শ্যুটিং শেষ হয় ২০২২ সালে। এরপর সুদীর্ঘ পোস্ট প্রোডাকশন পর্ব অতিক্রম করে অবশেষে আগামী ১ আগস্ট বাণিজ্যিকভাবে মুক্তি পেতে চলেছে ছবিটি।
‘২০০৬ সালে ‘পুতুল নাচের ইতিকথা’র চিত্রনাট্য লিখেছিলাম। তার মানে এই নয় যে এটা একটা স্থবির চিত্রনাট্য। সময় পাল্টেছে। ইতিহাস পাল্টেছে। রাজনৈতিক, সামাজিক প্রেক্ষাপটে নানারকম পরিবর্তন এসেছে। সেই সঙ্গে চিত্রনাট্যও বদলেছে’, বললেন সুমন। উপন্যাস থেকে চলচ্চিত্রে রূপান্তর নিয়ে পরিচালকের বিশ্লেষণ, ‘উপন্যাসের যে বিশাল প্রেক্ষিত, সবটা তো চলচ্চিত্রে আনা যায় না। পরিচালকের একটা চয়ন থাকে। আমি শশী-কুসুমের গল্প বলেছি। যাদব পণ্ডিতের গল্প বলেছি।’
গল্পের প্রধান চরিত্র ‘শশী’ আবীর চট্টোপাধ্যায়ের অকপট স্বীকারোক্তি, ‘প্রথমে কিছুটা ভয় পেয়েছিলাম। আবার এটাও জানতাম, যেখানে সুমন মুখোপাধ্যায়ের মত শিক্ষক আছেন, আমাকে দিয়ে ঠিক করিয়ে নেবেন। শশী অন্তর্দ্বন্দ্বে ভোগা একটি চরিত্র। আমার আপনার সবার মধ্যেই শশী হয়তো কোথাও আছে। যে সারাক্ষণ নিজের সঙ্গে কথা বলে। সে কারণেই শশী সমসাময়িক।’
সুমনের হাত ধরে এই ছবির ‘কুসুম’ হয়ে উঠেছেন জয়া আহসান। তাঁর ব্যাখ্যা, ‘সব অভিনেতার জীবনে কুসুম একটা আরাধ্য চরিত্র। চরিত্রটি যাপন করতে গিয়ে বুঝলাম খুব আধুনিক, সমসাময়িক চরিত্র। সৃষ্টির নব্বই বছর পরও।’ জয়ার অনুরোধ, ‘উপন্যাস পাঠের নিরিখে নয়, চলচ্চিত্রের প্রেক্ষিতে কুসুমকে বিচার করুন।’ ছবির ‘যাদব পণ্ডিত’ ধৃতিমান চট্টোপাধ্যায় বললেন, ‘পুতুল নাচের ইতিকথা নামটার মধ্যেই রয়েছে একটা অন্তর্নিহিত অর্থ, গভীর তাৎপর্য। সমসাময়িকতার জন্যই কালোত্তীর্ণ। তাই ছবি দেখে গঠনমূলক, বিশ্লেষণধর্মী সমালোচনা করুন।’ এছাড়াও গোপাল দাসের চরিত্রে অভিনয় করেছেন শান্তিলাল মুখোপাধ্যায়, কুমুদের ভূমিকায় পরমব্রত চট্টোপাধ্যায়। সেনদিদি হয়েছেন অনন্যা চট্টোপাধ্যায়। এই ছবির সঙ্গীতকার প্রবুদ্ধ বন্দ্যোপাধ্যায়।
প্রিয়ব্রত দত্ত