


নিজস্ব প্রতিনিধি, আরামবাগ: সংরক্ষণের অভাবে নষ্ট হয়ে যায় পেঁয়াজ। তাই কম দামেই চাষিদের উৎপাদিত পেঁয়াজ বিক্রি করে দিতে হয়। পরে পেঁয়াজের দাম বাড়লেও কিছু করার থাকে না। চাষিরা দীর্ঘদিন ধরেই পেঁয়াজ সংরক্ষণের দাবি জানিয়ে আসছিলেন। এবার হুগলি জেলায় সরকারি ভর্তুকিতে তৈরি হবে পেঁয়াজ গোলা। কারা পাবেন পেঁয়াজের গোলা? প্রায় ৩৫০ আবেদনকারীকে নিয়ে আজ, সোমবার লটারি করতে চলেছে হুগলি জেলা প্রশাসন। কৃষি বিপণন দপ্তরের তরফে সার্কিট হাউসে লটারি হবে। এব্যাপারে সংশ্লিষ্ট দপ্তরের মন্ত্রী বেচারাম মান্না বলেন, রাজ্যের অন্যান্য জেলাতেও পেঁয়াজ গোলা হবে। পেঁয়াজ সংরক্ষণে যাতে চাষিদের সুবিধা হয়, সেই জন্য সরকার চাষিদের পাশে দাঁড়িয়েছে। করা হয়েছে ভর্তুকির ব্যবস্থা। পেঁয়াজ সংরক্ষণের মাধ্যমে ফসলের দামও পাবেন চাষিরা।
জেলা কৃষি বিপণন দপ্তরের এক আধিকারিক বলেন, অনলাইন পোর্টালের মাধ্যমেই লটারি হবে। কিছু সময়ের মধ্যেই লটারির ফল প্রকাশ হবে। কোন ব্লকে কত জন চাষি পেঁয়াজ গোলা পাবেন, তা লটারির মাধ্যমেই নিশ্চিত হবে। লটারির পর কাজ শুরুর নির্দেশ দেওয়া হবে। অ্যাসবেসটস বা খড়ের ছাউনি দিয়ে পেঁয়াজের গোলা তৈরি করতে তিন লক্ষের বেশি টাকা খরচ হবে। কাজ শেষের পর জিও ট্যাগ করে ছবি ও বিল পাঠালে ভর্তুকির ১ লক্ষ ২৫ হাজার টাকা উপভোক্তার ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে পাঠিয়ে দেওয়া হবে। আগামী মরশুমে পেঁয়াজের ফলন হওয়ার পর ফসলের জন্য চাষিরা যাতে গোলা ব্যবহার করতে পারেন তারজন্য উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সেই জন্য আগামী ফেব্রুয়ারি মাসের মধ্যে প্রকল্পের কাজ শেষ করার সিদ্ধান্ত হয়েছে।
প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, হুগলি জেলায় ১৭৫ টি পেঁয়াজ গোলা হবে বলে রাজ্য ছাড়পত্র দিয়েছে। এজন্য প্রত্যেক ব্লক থেকে চাষিরা অনলাইনে পেঁয়াজ গোলার বরাদ্দ পেতে আবেদন করেন। খতিয়ে দেখে ৩৪০টি আবেদন গ্রহণ করা হয়। সেগুলির মধ্যেই লটারি করে ১৭৫টি পেঁয়াজ গোলা বণ্টন করা হবে। তবে আবেদনকারীদের মধ্যে আবার অপেক্ষমান তালিকাও প্রস্তুত করা হবে। কোনও উপভোক্তা অনুমোদন পেয়েও গোলা তৈরি না করলে অপেক্ষমান তালিকা থেকে পরবর্তী উপভোক্তাকে বরাদ্দ দেওয়া হবে।
উল্লেখ্য, হুগলি জেলার বিভিন্ন ব্লকে পেঁয়াজ চাষ হয়ে থাকে। আরামবাগ মহকুমারও বেশ কয়েকটি জায়গায় পেঁয়াজ চাষের এলাকা রয়েছে। সেইসব এলাকার চাষিদের অনেকেই এবার পেঁয়াজ গোলার আবেদন করেছেন। অনেকের দাবি, পেঁয়াজ গোলা তৈরিতে ভর্তুকি দেওয়ার খবর তাঁদের জানা ছিল না। যদিও দপ্তরের দাবি, সময়মতো বিভিন্নস্তরে প্রকল্পের প্রচার করা হয়েছে।