নিজস্ব প্রতিনিধি, হাওড়া: তারাতলায় বিপর্যয়ের পর মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী কলকাতা সংলগ্ন জেলাগুলির পাশাপাশি হাওড়ায় বিশেষ করে গঙ্গার পাড় লাগোয়া নির্মীয়মাণ বহুতলগুলির কাজ সাময়িকভাবে বন্ধ রেখে সমীক্ষার নির্দেশ দিয়েছিলেন। সেই নির্দেশ কার্যকর করতে ইতিমধ্যেই তৎপর হাওড়া পুরসভা। শহরের পাঁচতলার বেশি উচ্চতার ৩০টি নির্মীয়মাণ বহুতলের কাজ আপাতত বন্ধ করেছে পুরসভা। একইসঙ্গে প্রতিটি প্রকল্পের নিরাপত্তা, নির্মাণের মান ও অনুমোদন প্রক্রিয়া খতিয়ে দেখতে গঠন করা হয়েছে তিন সদস্যের বিশেষ কমিটি।
পুর কমিশনার তেজস্বী রানার উপস্থিতিতে সম্প্রতি পুরসভার আধিকারিক ও ইঞ্জিনিয়ারদের বৈঠকে এই সিদ্ধান্ত হয়। কমিটিতে রয়েছেন একজন জিওলজিস্ট, একজন লাইসেন্সপ্রাপ্ত বিল্ডিং সার্ভেয়ার এবং একজন স্ট্রাকচারাল ইঞ্জিনিয়ার। জানা গিয়েছে, পরিদর্শনের সময় সংশ্লিষ্ট বহুতলের মালিক বা নির্মাতা সংস্থার প্রতিনিধিকেও উপস্থিত থাকতে হবে। কমিটি নির্মাণস্থলের মাটির মান ও ধারণক্ষমতা, কাঠামোর দৃঢ়তা, নির্মাণ সামগ্রীর গুণমান, অগ্নিনির্বাপণ ও বজ্র নিরোধক ব্যবস্থা খতিয়ে দেখছে। পাশাপাশি বহুতলের অনুমোদনের ক্ষেত্রে পুরসভার কোনো গাফিলতি ছিল কি না, তাও পরীক্ষা করে দ্রুত পুর কমিশনারের কাছে রিপোর্ট দিতে বলা হয়েছে।
বিশেষ নজরে রাখা হয়েছে গঙ্গার পাড় লাগোয়া বহুতলগুলিতে। পুরসভা জানিয়েছে, ১ থেকে ৭ নম্বর বরো এলাকায় কাজ বন্ধ হওয়া ৩০টি বহুতলের মধ্যে ১৩ নম্বর ওয়ার্ডের আচার্য তুলসী মার্গের চারটি নির্মীয়মাণ বহুতল বিশেষ নজরে রয়েছে। এগুলি বাণিজ্যিক উদ্দেশ্যে তৈরি করা হচ্ছিল। নির্মাণকারী সংস্থার বিরুদ্ধে পুরসভার নর্দমা বুজিয়ে পাঁচিল তোলার অভিযোগ উঠেছিল। তাই ওই প্রকল্পগুলিতে মাটি পরীক্ষা থেকে শুরু করে গোটা কাঠামোর স্থায়িত্ব ও নির্মাণের মান খুঁটিয়ে দেখার নির্দেশ দিয়েছে কমিটি। পুরসভা সূত্রে খবর, সবকটি বহুতলের সার্ভে রিপোর্ট রাজ্যের পুরদপ্তরে পাঠানো হবে। এনওসি মিললে তবেই ওইসব বহুতলে ফের নির্মাণকাজ শুরু করার অনুমতি দেওয়া হবে।