শ্রীকান্ত পড়্যা, তমলুক: টাকার বিনিময়ে চণ্ডীপুরে মগরাজপুর খালের ধারে দীঘাগামী জাতীয় সড়ক বরাবর দোকানপাট বসানোর ঘটনায় সরগরম গোটা এলাকা। টাকার বিনিময়ে এই কাজে মদত দেওয়া হচ্ছে বলে স্থানীয় পদ্মপার্টির পঞ্চায়েত প্রধান বিশ্বজিৎ দোলই থানায় এফআইআর করেছিলেন। তার ভিত্তিতে বিজেপির দুই স্থানীয় নেতাকে বুধবার সন্ধ্যা ৭টায় থানায় তুলে নিয়ে যায় পুলিশ। তারপরই অভিযুক্ত দু’জনকে ছাড়ানোর জন্য প্রবল চাপ আসে। পরদিন অর্থাৎ বৃহস্পতিবার দুপুর ১২টা নাগাদ দু’জন মুক্ত হন। থানা প্রাঙ্গণে তখন হাজির ছিলেন জেলা ও মণ্ডল কমিটির নেতারা। ১৭ ঘণ্টা থানায় বসিয়ে রাখার পর এফআইআরে নাম থাকা দু’জনকে ছেড়ে দেয় পুলিশ। এই ঘটনায় এলাকায় শোরগোল পড়ে গিয়েছে। আপাতত খালের ধারে এনএইচ বরাবর ওই জায়গায় কোনো নির্মাণ করা যাবে না বলে পুলিশ হুঁশিয়ারি দিয়েছে।
উল্লেখ্য, চণ্ডীপুর বাজার বৃন্দাবনপুর-১গ্রাম পঞ্চায়েতের অধীনে পড়ে। গত আগস্টের শেষ সপ্তাহে চণ্ডীপুরে অনেক খালপাড় জবরদখল মুক্ত করে খনন করা হয়। দীঘাগামী ১১৬বি জাতীয় সড়ক ধার বরাবর মগরাজ খাল বয়ে গিয়েছে। সেই খালের ধারে জাতীয় সড়ক সংলগ্ন বহু দোকানপাট উচ্ছেদ করে দেওয়া হয়েছিল। দু’মাস বাদে এনএইচ সংলগ্ন উচ্ছেদ হওয়া ওই এলাকায় ফের দোকানপাট বসানোর তোড়জোড় শুরু হয়েছে। সেই কাজে বিজেপির নেতা-কর্মীরাই মদত দিচ্ছেন বলে অভিযোগ। গত ১৭অক্টোবর চণ্ডীপুরে রামকৃষ্ণ বাজারে জাতীয় সড়ক বরাবর দোকানপাট বসানোর উদ্যোগ চলছিল। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে যান বৃন্দাবনপুর-১ গ্রাম পঞ্চায়েতের বিজেপির প্রধান। তিনি নির্মাণকাজে বাধা দেন। সরকারি নিয়ম অনুযায়ী, সরকারি জায়গার উপর কোনো নির্মাণ হবে না বলে জানান। এনিয়ে তাঁর সঙ্গে ধস্তাধস্তি শুরু হয়। বিজেপির স্থানীয় শক্তিকেন্দ্রের প্রমুখ গুরুপদ দাস, দলের নেতা সুজিত মাইতি ও অনুপ প্রধানের সঙ্গে ঝামেলা হয়। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। তারপর পঞ্চায়েত প্রধান ওই তিনজনের বিরুদ্ধে থানায় এফআইআর করেন।
প্রধান বলেন, সরকারি জায়গার উপর দোকান বসানোর জন্য লক্ষ লক্ষ টাকা তোলা হচ্ছে। নিয়ম ভেঙে সরকারি জায়গার উপর নির্মাণ কাজের বিরোধিতা করেছি। সেই জন্য আমাকে গালিগালাজ করা হয়। ধাক্কাধাক্কি করে। তাদের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ নিতে থানায় এফআইআর করেছি। পঞ্চায়েত প্রধানের অভিযোগ পেয়ে চণ্ডীপুর থানার পুলিশ ২১ তারিখ সন্ধ্যা ৭টায় শক্তিকেন্দ্রের প্রমুখ গুরুপদ এবং বিজেপির অপর নেতা সুজিত মাইতিকে তুলে থানায় নিয়ে যায়। ২২তারিখ বৃহস্পতিবার বিজেপির জেলা নেত্রী শ্যামলী সিনহা, কিষান মোর্চার জেলা নেতা শ্যাম মান্না, চণ্ডীপুর-১মণ্ডল কমিটির সভাপতি প্রশান্ত দাস সহ আরও অনেকে ওই দু’জনকে ছাড়ানোর জন্য থানায় পৌঁছে যান বলে গুরুপদবাবুর দাবি। তারপর দুপুর ১২টা নাগাদ দু’জনকে থানা থেকেই ছেড়ে দেওয়া হয়। যদিও মণ্ডল সভাপতির দাবি, তিনি থানায় যাননি। গুরুপদবাবু বলেন, ১৪বছর বিজেপি করছি। দলের প্রধান আমাদের জেলে পুরতে চেয়েছিলেন। কিন্তু, নেতৃত্ব আমার পাশে থাকায় সেই চেষ্টা বিফল হয়েছে। আমি দলের শক্তিকেন্দ্রের প্রমুখ পদে রয়েছি। চণ্ডীপুর থানার ওসি অরুণ পতি বলেন, খালের ধারে নির্মাণ নিয়ে একটা ঝামেলা হয়েছিল। সেনিয়ে অভিযোগ হয়েছে। তবে, মদ খেয়ে ঝামেলা করার ঘটনায় দু’জনকে তুলে আনা হয়েছিল। পরবর্তীতে ছেড়ে দেওয়া হয়।



