Bartaman Logo
৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

মানব মূত্রের উষ্ণতার জের! খুম্বু হিমবাহে গলেছে ১৫৪ টন বরফ, চিন্তায় বিজ্ঞানীরা

নেপালে মাউন্ট এভারেস্টের পাদদেশে রয়েছে খুম্বু হিমবাহ। এই হিমবাহের উপরে এভারেস্ট বেস ক্যাম্প।

মানব মূত্রের উষ্ণতার জের! খুম্বু হিমবাহে গলেছে ১৫৪ টন বরফ, চিন্তায় বিজ্ঞানীরা
  • ৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

সুমন তেওয়ারি, আসানসোল: নেপালে মাউন্ট এভারেস্টের পাদদেশে রয়েছে খুম্বু হিমবাহ। এই হিমবাহের উপরে এভারেস্ট বেস ক্যাম্প। গবেষণা থেকে উঠে এসেছে এই বেস ক্যাম্পের উপরিভাগের হিমবাহের তাপমাত্রা প্রতি বছর দ্রুতগতিতে বেড়ে যাচ্ছে। লাফিয়ে বাড়ছে পর্বতারোহীর সংখ্যা। যাঁর ফলশ্রুতি প্রতি বছর ২  হাজার ৪৯২ টন বরফ গলে যাচ্ছে। গবেষণায় এই তথ্যও উঠে এসেছে শুধুমাত্র মানুষের মূত্রের উষ্ণতার জেরে ১৫৪ টন বরফ গলেছে। গবেষক দলের সদস্য নেপালের সার্ভেয়ার কিম লাল গৌতমদের দাবি ছিল, হিমবাহের উপর মানুষের এই অবস্থান প্রকৃতির জন্য বিপদজনক। 

Advertisement

শুধু কী এভারেস্ট বেস ক্যাম্প। বিভিন্ন হিমবাহ ট্রেকিংয়ের ঝোঁক লাফিয়ে বাড়ছে সাধারণ মানুষের মধ্যে। রিল বানানোর নেশায় এখন সবাই ‘পর্বতারোহী’। কর্মক্ষেত্রে ছুটি পেলেই পিঠে ব্যাগ নিয়ে বেরিয়ে পড়ছেন হিমবাহ অভিযানে। গঙ্গোত্রী হিমবাহের কাছে গৌমুখ তপোবন ট্রেক, চন্দ্রভাগা গ্লেসিয়ার (হিমবাহ) ট্রেক, পিন্ডারি গ্লেসিয়ার ট্রেক। এমনই বহু হিমবাহ সন্নিকটে যাওয়া ট্রেকের জনপ্রিয়তা তুঙ্গে। মানুষ চেষ্টা করছে কঠিন কঠিনতম স্থানে পৌঁছাতে। আগে নির্দিষ্ট প্রশিক্ষণ নিয়ে পর্বতারোহীরা ট্রেকিংয়ে যেতেন। এখন রিল বানানো, সোশ্যাল মিডিয়ায় ছবি দেওয়ার এমন নেশা অধিকাংশ মানুষকে পেয়ে বসেছে যে জীবনের ঝুঁকি নিয়েও এসব জায়গায় পৌঁছে যাচ্ছেন অনেকেই। এখানেই ঩বিজ্ঞানীরা সতর্ক করছেন। তাঁদের দাবি, তাঁরা শুধু নিজের জীবনের ঝুঁকি নিচ্ছেন না প্রকৃতিকেও ঝুঁকিপূর্ণ করে তুলছেন। 
বিভিন্ন গবেষণায় উঠে এসেছে, হিমবাহের উপর কার্বন ফুটপ্রিন্ট পড়ছে। অর্থাৎ কার্বন সেখানে জমা হচ্ছে। যার পিছনে দায়ী মানুষের অবস্থান। মানুষ সেখানে আগুন জ্বালানো সহ নানা কাজকর্ম করছে যাতে সেই এলাকায় কার্বন জমা হওয়ার সুযোগ তৈরি হচ্ছে। এই কার্বন ফুটপ্রিন্ট সূর্যের তাপ শোষণ করছে। হিমবাহ গলনে কার্বন ফুটপ্রিন্টেরই মূল ভূমিকা।  
শুধু ট্রেকিং নয় অধুনা বাইকারদের উৎপাতও দেখা যাচ্ছে হিমালয়ে। হিমালয়ের দুর্গম স্থানে বাইক নিয়ে পৌঁছে যাচ্ছেন একাংশ। বাইকের জ্বালানির দূষণও বড়ো সমস্যা তৈরি করছে। হিমবাহ গলনে তাঁদেরও বড়ো ভূমিকা রয়েছে। আর এসব অতি উৎসাহী পর্যটকদের মনোরঞ্জনের জন্য বিভিন্ন জায়গায় নিয়ম ভেঙে হোটেল, হোম-স্টে গড়ে উঠছে। বিভিন্ন জায়গায় তৈরি হচ্ছে বেস ক্যাম্প। নদী দখল করে হচ্ছে হোটেল। পর্যটকদের সুবিধার জন্য গড়ে উঠছে চওড়া রাস্তা। পরিকাঠামো উন্নয়নের নামে প্রকৃতিরই বলি চড়ানো  হচ্ছে বলে পরিবেশ বিজ্ঞানীদের দাবি।  আসানসোল গালর্স কলেজের অধ্যক্ষ পরিবেশ বিজ্ঞানী স্বাতী নন্দী চক্রবর্তী বলেন, পর্যটন শিল্প দরকার কিন্তু তা যেন প্রকৃতি ধ্বংস করে না হয়। মানুষের কৃতকর্মের জন্যই হিমবাহে কার্বন ফ্রুট প্রিন্ট জমছে। যা তাপ শোষণ করে হিমবাহকে গলিয়ে দিচ্ছে নিরন্তর।  প্রতীকী চিত্র 

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ