অতূন বন্দ্যোপাধ্যায়, কলকাতা: বারাণসী যাত্রাকালে স্বপ্নাদেশ পেয়ে রানি রাসমণি গড়ে তুললেন কালীমন্দির। গঙ্গার তীরে দক্ষিণেশ্বর গ্রামে ১৮৫৫ সালের ৩১শে মে প্রতিষ্ঠিত হল বাংলার নতুন কালীক্ষেত্র ভবতারিণী মন্দির। তার ১৭১ বছর পর সেই দক্ষিণেশ্বরে প্রতিষ্ঠা হতে চলেছে শ্রীরামকৃষ্ণ মন্দির। রথযাত্রার দিন হবে প্রতিষ্ঠা।
জগন্নাথদেবের স্নানযাত্রার পুণ্যদিনে রামকুমার চট্টোপাধ্যায়ের পৌরহিত্যে প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল ভবতারিণী মন্দির। কামারপুকুরের কিশোর গদাধর চট্টোপাধ্যায় দাদার হাত ধরে উপস্থিত হন মন্দিরে। পূজারির দায়িত্বগ্রহণ করার পর ভবতারিণীকে কেন্দ্র করে গদাধরের সাধনজীবন গড়ে ওঠে। হয়ে ওঠেন রামকৃষ্ণ। রানি প্রতিষ্ঠিত কালীক্ষেত্র পরিণত হয় শ্রীরামকৃষ্ণের সাধনক্ষেত্রে। দীর্ঘ ১৪ বছরের সাধনা শেষে শ্রীরামকৃষ্ণ এই পুণ্যভূমি থেকে প্রচার করেন, ‘যত মত তত পথ। ঈশ্বর সত্য। তাঁকে সব পথ দিয়েই লাভ করা যায়।’ তাঁর এই উদার উপলব্ধির আকর্ষণে সে সময় দলে দলে মানুষ উপস্থিত হতেন দক্ষিণেশ্বরে। দীর্ঘ প্রায় ৩০ বছর দক্ষিণেশ্বরে বসবাস করেছিলেন শ্রীরামকৃষ্ণ। ছড়িয়ে দিয়েছিলেন ধর্মের সহজ সত্য। এবার শ্রীরামকৃষ্ণ, সারদা, স্বামী বিবেকানন্দের স্মৃতি বিজড়িত দক্ষিণেশ্বর কালীমন্দিরের অদূরে রামকৃষ্ণ মঠের উদ্যোগে গড়ে উঠছে শ্রীরামকৃষ্ণ মন্দির।
দক্ষিণেশ্বর নিবাসী চণ্ডীনাথ বন্দ্যোপাধ্যায় চেয়েছিলেন দক্ষিণেশ্বরে শ্রীরামকৃষ্ণের স্মৃতিতে একটি মঠ গড়ে উঠুক। তারপর ২০১০ সালে তাঁর বসতবাড়িটি দান করেন সেই উদ্দেশে। ২০১৮ থেকে ২০২২ সাল তাঁর বাড়ি সংলগ্ন অন্য মালিকানাধীন কিছু জমি কিনে কাজ শুরু করে মঠ কর্তৃপক্ষ। ক্রমে বেলুড় মঠের একটি শাখাকেন্দ্র সেখানে গড়ে ওঠে। রামকৃষ্ণ মঠ ও মিশনের বর্তমান সম্পাদক স্বামী সুবীরানন্দ এ বিষয়ে বিশেষ উদ্যোগ নেন। তারপর ২০২৩ সালের শিবরাত্রির দিন যাত্রা শুরু মঠের। ২০২৩ সালের ১ অক্টোবর তা রামকৃষ্ণ মঠের পূর্ণাঙ্গ শাখায় পরিণত হয়। শুরু হয় রামকৃষ্ণ ভাবধারার সেবাকাজ। রামকৃষ্ণ মঠের তৎকালীন অধ্যক্ষ স্বামী স্মরণানন্দজী নতুন মন্দিরের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেছিলেন।
শ্রীরামকৃষ্ণ কথামৃতে উল্লেখিত, দক্ষিণেশ্বর কালীমন্দিরের খিড়কির ফটকের পাশে গড়ে উঠেছে শ্রীরামকৃষ্ণ মন্দির। কুমোরটুলিতে জি পালের স্টুডিওতে শিল্পী অভিজিৎ পালের হাতে গড়ে উঠেছে রামকৃষ্ণের মর্মর মূর্তি। সেটি মন্দিরে প্রতিষ্ঠা করা হবে। রামকৃষ্ণ মঠের বর্তমান অধ্যক্ষ স্বামী গৌতমানন্দ মন্দির উৎসর্গ করবেন। দক্ষিণেশ্বরে শ্রীরামকৃষ্ণের সাধনক্ষেত্রে জগন্নাথের স্নানযাত্রায় প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল ভবতারিণীর মন্দির। আসন্ন রথযাত্রার দিন প্রতিষ্ঠিত হচ্ছেন শ্রীরামকৃষ্ণ।