নিজস্ব প্রতিনিধি, নয়াদিল্লি: প্রশ্ন ফাঁস থেকে পেট্রল-ডিজেলের দাম বৃদ্ধি। বেকারত্ব থেকে ব্যবসার ক্ষতি। ভোট চুরির পর আসন চুরি। নরেন্দ্র মোদির বিজেপির বিরুদ্ধে এরকম গুচ্ছ অভিযোগ সামনে রেখে এবার দেশজুড়ে পথে নামছে কংগ্রেস। রাজ্য, জেলা, ব্লক স্তরে হবে সরকার বিরোধী প্রচার। চলতি মাসের শেষে তা শুরু হয়ে চলবে দু মাস। সাধারণ মানুষের মাথায় ঢোকাতেই হবে দেশে যা কিছু অঘটন, নেতিবাচক ঘটনা ঘটছে, তার জন্য দায়ী মোদিই। অন্য কেউ নন। কর্মসূচির প্রস্তুতি নিয়ে আলোচনা করতেই বৃহস্পতিবার বিশেষ বৈঠকে বসেছিল এআইসিসি। তৃণমূল কংগ্রেসের সঙ্গে সংযুক্তি বা জোট নিয়ে এদিনের বৈঠকে কোনো আলোচনা হয়নি।
কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়্গের নেতৃত্বে রাহুল-প্রিয়াঙ্কা গান্ধীর পাশাপাশি বৈঠকে ছিলেন এআইসিসির সব সাধারণ সম্পাদক, রাজ্যের ইনচার্জ এবং সব রাজ্যের প্রদেশ সভাপতি। বৈঠকে যোগ দেওয়া তো বটেই, একইসঙ্গে এদিন পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে খাড়্গের সঙ্গে আলাদা বৈঠক করেন পশ্চিমবঙ্গের প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি শুভঙ্কর সরকার। বাংলার বিধানসভার ভোটে খরা কাটিয়ে দুটি আসনে কংগ্রেসের জয় লাভে তাঁকে বাহবাও দেন খাড়্গে।
এদিকে, এআইসিসির ওই বিশেষ বৈঠকের তিন ঘণ্টার আলোচনায় ঠিক হয়, সাম্প্রতিক ইস্যু নিয়ে দেশজুড়ে প্রতিবাদে নামতে হবে। ঘরে বসে বা স্রেফ সোশ্যাল মিডিয়ায় জেহাদ করে কিছু হবে না। সেই মতো রাস্তায় নামার সিদ্ধান্ত। বৈঠকে প্রিয়াঙ্কার বক্তব্য, নির্দিষ্ট ইস্যু ধরে ধরে নামতে হবে। সাধারণ মানুষকেও সঙ্গে নিতে হবে। রাহুল বলেছেন, দেশে যা কিছুই নেতিবাচক ঘটছে, তার জন্য মোদিই দায়ী। তাঁকেই টার্গেট করে নামতে হবে। দেশ চালানোর ব্যর্থতার নায়ক আর কেউ নয়। প্রধানমন্ত্রী। এই মর্মে নামতে হবে। পেপার লিক হোক বা রাজ্যসভার সিট চুরি, মানুষকে বোঝাতে হবে ভিলেন আর কেউ নন। মোদিই।
বৈঠকের পর সাংবাদিক সম্মেলনে দলের পক্ষে দুই সাধারণ সম্পাদক জয়রাম রমেশ এবং কে সি বেণুগোপাল মধ্যপ্রদেশে দলের রাজ্যসভার প্রার্থী মীনাক্ষ্মী নটরাজনের মনোনয়ন পত্র বাতিল নিয়ে সুর চড়িয়েছেন। তাঁদের বক্তব্য, ভোট চুরির পর সিট চুরি করছেন মোদি। একইভাবে বিভিন্ন দল ভাঙানো চলছে। ফলে গণতন্ত্রকে নষ্ট করছে বিজেপি। তাই এসবের বিরুদ্ধে গর্জে উঠতেই পথে নামছে কংগ্রেস।