নিজস্ব প্রতিনিধি, নয়াদিল্লি: আসন্ন রাজ্যসভা নির্বাচনের মনোনয়ন জমা দেওয়া শুরু হয়েছে বৃহস্পতিবার থেকে। চলবে আগামী ৫ মার্চ পর্যন্ত। তাই কোথায় কাকে প্রার্থী করা হবে, তা নিয়ে সিদ্ধান্ত নিতে আগামী শনি-রবিবার বৈঠকে বসছে এআইসিসি। পশ্চিমবঙ্গ সহ ১০ রাজ্যের ৩৭ আসনে ভোট আগামী ১৬ মার্চ। হিমাচল প্রদেশ, হরিয়ানা, তেলেঙ্গানা, ছত্তিশগড়ে এবার আসন পাবেই বলে ধরে নিয়েছে কংগ্রেস। তবে শেষ মুহূর্তে যাতে কোনোভাবেই তা ‘হাত’ছাড়া না হয়, তার জন্য দলীয় বিধায়কদের সঙ্গে লাগাতার যোগাযোগ রাখছে শীর্ষ নেতৃত্ব। যদিও কিছু ক্ষেত্রে সামান্য সংখ্যক ভোট কম থাকায় পরেও জয় নিশ্চিত করতে একদিকে যেমন রাজনৈতিক ব্ল্যাকমেলের মুখে পড়তে হতে পারে, তেমনই আত্মত্যাগও করতে হবে কংগ্রেসকে।
তেলেঙ্গানায় সরকার কংগ্রেসের। তাই দু’টি আসনেই জয় একপ্রকার নিশ্চিত। যদিও দ্বিতীয় আসনটি মসৃণভাবে জিততে কম পড়ছে চারটি ভোট। তাই আসাদউদ্দিন ওয়েইসির দলকে পাশে চাই। কিন্তু ওয়েইসি কি বিনা বাক্যে তা ছেড়ে দেবেন? এককথায় উত্তর, না। তাই তিনিও পালটা বিহার নিয়ে দরাদরি শুরু করেছেন। বিহারে পাঁচটি আসনে নির্বাচন। ভোট দরকার ৪২টি করে। বিজেপি-জেডিইউ-চিরাগ পাসোয়ানের দল মিলিয়ে রয়েছে ২০২ জন বিধায়ক। তাই পাঁচ আসনেই জিততে তাদের কম পড়ছে আট ভোট। তাই ওয়েসির চাল, বিহারে তিনি প্রার্থী দিতে চান। সেই প্রার্থীকে সমর্থন দিক কংগ্রেস, আরজেডি, সিপিআইএমএলের ৩৪ জন বিধায়ক। বিহারে ওয়েইসির রয়েছে পাঁচ বিধায়ক। ফলে তেলেঙ্গানায় জয় নিশ্চিত করতে কংগ্রেস কি ওয়েইসির প্রস্তাবে সাড়া দেবে? জল্পনা তুঙ্গে।
অন্যদিকে, অসমের তিন আসনেই বিজেপি জিততে চায়। যদিও তৃতীয় আসনটি জিততে কম পড়ছে ১৩টি ভোট। আসন জিততে দরকার ৩৩টি ভোট। কংগ্রেসের রয়েছে ২২। তাই তার কম পড়ছে ১১টি। ফলে কংগ্রেস পড়েছে ফাঁপড়ে। অসমে আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনে কংগ্রেস একা লড়ছে। আবার রাজ্যসভার এক আসন জেতার সম্ভাবনা রয়েছে যদি এআইইউডিএফ সুপ্রিমো বদরুদ্দিন আজমলের সমর্থন সম্ভব হয়। বদরুদ্দিনের রয়েছে ১৫ বিধায়ক। ফলে তাঁর হাতে পায়ে ধরা ছাড়া কংগ্রেসের গতি নেই। কিন্তু বদরুদ্দিন কি সমর্থন দেবেন? নাকি বিজেপিকে জেতাবেন? কৌতুহল রাজনৈতিক মহলে।