নিজস্ব প্রতিনিধি, শিলিগুড়ি ও সংবাদদাতা, বাগডোগরা: দীর্ঘদিন ধরে ভারত বিরোধী কাজ করছে কংগ্রেস। তারা দেশের সুরক্ষা দিতেও পারেনি। তাদের সময় দেশে একাধিকবার হামলা হলেও জবাব দিতে পারেনি। বৃহস্পতিবার বাগডোগরায় সাংবাদিক সম্মেলনে এভাবেই কংগ্রেসকে আক্রমণ করেন কেন্দ্রীয় জলপথমন্ত্রী সর্বানন্দ সোনোয়াল। একইসঙ্গে তাঁর দাবি, পাকিস্তানকে হামলার পালটা জবাব দিয়েছে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সরকার। এর থেকেই স্পষ্ট মোদির নেতৃত্বেই দেশ সবচেয়ে সুরক্ষিত।
বিজেপি শাসিত কেন্দ্রীয় সরকারের বিরুদ্ধে একজোট হয়েছে বিরোধীরা। দিল্লিতে ইন্ডিয়া জোট লাগাতার আন্দোলন করছে। এমন প্রেক্ষাপটে গণতন্ত্র বাঁচাও, অরাজকতা হঠাও কর্মসূচি নিয়েছে বিজেপি। মঙ্গলবারই মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর নেতৃত্বে তারা শিলিগুড়িতে মিছিল করেছে। ওই কর্মসূচির অঙ্গ হিসাবে এদিন বাগডোগরায় সাংবাদিক সম্মেলন করেন মন্ত্রী। তিনি কংগ্রেস সহ ইন্ডিয়া জোটকে তীব্র আক্রমণ শানেন।
কেন্দ্রীয় নৌপরিবহণ ও জলপথমন্ত্রী বলেন, পাকিস্তানের বিরুদ্ধে ভারতীয় সেনা যেভাবে অ্যাকশন নিয়েছে, সেখানে সমগ্র ভারতবাসী গর্ব বোধ করেছে। আর কংগ্রেস সমালোচনা করেছে। এর থেকেই বোঝা যায় কংগ্রেস ভারতের ভালো চায় না। কংগ্রেস ফর কমিউনিজম, কংগ্রেস ফর কনফ্লিক্ট। তাই বিভিন্ন জায়গায় নির্বাচনে পরাজয় হয়েছে কংগ্রেসের। তামিলনাড়ু, বাংলা সব বিভিন্ন রাজ্যে কংগ্রেস জেতেনি এবং আর জিততেও পারবে না। রাহুল গান্ধী ও তাঁর টিম প্রত্যেক ভোটেই হারছেন। ভোটে পরাজিত হওয়ার পর নির্বাচন কমিশন, সুপ্রিম কোর্টের বিরোধিতা করছে কংগ্রেস। যে ইনস্টিটিউশন জনগণকে একটা বলার জায়গা দিয়েছে, গণতান্ত্রিক অধিকার দিয়েছে, সেই ইনস্টিটিউশনকে ভাঙতে চাইছে। কাজেই, দেশের ভালো চাইতে পারে না কংগ্রেস।
এখানেই খান্ত হননি মন্ত্রী। যুবকদের ভুল পথে পরিচালিত করার অভিযোগ তুলেছেন কংগ্রেসের বিরুদ্ধে। বলেন, কংগ্রেস, তৃণমূল দেশের যুবদের নষ্ট করতে উদ্ধত হয়েছে। ইন্ডি জোট বা কংগ্রেস দেশ মজবুত করার জন্য নয়, শুধুমাত্র নিজেদের স্বার্থসিদ্ধির জন্যই ক্ষমতায় আসতে চাইছে। এর জবাব দেবে জনগণ। কংগ্রেস দারিদ্র দূর করতে স্লোগান দিলেও কিছু করেনি। বাংলায় অনুপ্রবেশের বিরুদ্ধে কোনো অ্যাকশন হয়নি।
কেন্দ্রীয় মন্ত্রীর দাবি, বাংলায় শুভেন্দু অধিকারীর সরকার তৈরি হতেই অনুপ্রবেশকারীদের বিরুদ্ধে অ্যাকশন নিতে দেখা গিয়েছে। মোদি সরকার ৫০ কোটি মানুষকে আয়ুষ্মান ভারত কার্ডের সুবিধা দিয়েছে। কংগ্রেস ৬০ বছরে যা করতে পারেনি। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির পাওয়ারফুল ভিসন রয়েছে। তাই ভারত নিজের শক্তি দেখাতে পারছে। কাজেই, ইন্ডিজোটের নামে যে অরাজকতা চলছে, তার বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াতে হবে।
একইসঙ্গে তিনি প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সমালোচনা করেন। তিনি ছাড়াও সাংবাদিক সম্মেলনে দার্জিলিংয়ের সাংসদ রাজু বিস্তা, বিজেপির শিলিগুড়ি সাংগঠনিক জেলা কমিটির সভাপতি অরুণ মণ্ডল, দলের রাজ্য মিডিয়া কনভেনর অনুপম ঘোষ প্রমুখ ছিলেন। • নিজস্ব চিত্র।



