সংবাদদাতা, ডোমকল: দলবিরোধী কাজের অভিযোগে পঞ্চায়েত প্রধানকে কংগ্রেস থেকে পাঁচ বছরের জন্য বহিষ্কারের চিঠি দিলেন ব্লক সভাপতি। পাল্টা, ব্লক সভাপতির এমন সিদ্ধান্ত নেওয়ার এক্তিয়ার নিয়েই প্রশ্ন তুললেন প্রধান। এনিয়ে জেলা কংগ্রেস নেতৃত্বকে চিঠিও দিয়েছেন ওই প্রধান। সাগরপাড়ার সাহেবনগরের পঞ্চায়েত প্রধান মজিবর রহমান বিশ্বাস ও জলঙ্গির ব্লক কংগ্রেস সভাপতি আব্দুর রাজ্জাক মোল্লা!- দুই কংগ্রেস নেতার এই সংঘাত ঘিরে কংগ্রেসের অন্দরে শুরু হয়েছে চাপানউতোর।
জলঙ্গি ব্লকের অন্তর্গত সাহেবনগর পঞ্চায়েতের প্রধান মজিবর রহমান বিশ্বাস। ২০২৩ সালের পঞ্চায়েত নির্বাচনে কংগ্রেসের টিকিটে জয়ী হয়ে প্রধান হন তিনি। দলবিরোধী কাজের অভিযোগে গত ২৯ অক্টোবর মজিবরকে পাঁচ বছরের জন্য দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে বলে দাবি ব্লক নেতৃত্বের। পাশপাশি চিঠিতে জানানো হয়েছে, ২৭ অক্টোবর জলঙ্গি ব্লক কংগ্রেসের সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারক কমিটির বৈঠকে উপস্থিত সদস্যদের সর্বসম্মত সিদ্ধান্তেই এই পদক্ষেপ করা হয়েছে।
বহিষ্কারের এই চিঠিতে একাধিক অভিযোগের কথা উল্লেখ করেন ব্লক সভাপতি। তাঁর দাবি, বুথ কমিটির বৈঠকে জলঙ্গি ব্লক কংগ্রেসের কার্যকরী সভাপতিকে শারীরিকভাবে হেনস্তা করেছিলেন মজিবর। এনিয়ে তাঁকে কারণ দর্শানোর নোটিস দেওয়া হলেও কোনো জবাব দেননি তিনি। এছাড়া পঞ্চায়েতের কাজকর্মে দলীয় সদস্যদের অবজ্ঞা করা, উন্নয়নমূলক কাজের ক্ষেত্রে সরকারি নিয়মকানুন উপেক্ষা করে নিজের ইচ্ছামতো সিদ্ধান্ত নেওয়া এবং দলীয় অনুশাসন না মানার অভিযোগও তোলা হয়েছে।
তবে ব্লক কংগ্রেসের তরফে তাঁকে বহিষ্কারের এই সিদ্ধান্ত নিয়ে পাল্টা প্রশ্ন তুলছেন মজিবর রহমান বিশ্বাস। মজিবর সাহেব বলেন, রাজনৈতিক ও সাংগঠনিক প্রতিকূলতার মধ্যেও কংগ্রেসের আদর্শ থেকে বিচ্যুত হইনি। আমার বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ এবং বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত সম্পূর্ণ উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ও ব্যক্তিগত আক্রোশের বহিঃপ্রকাশ। কংগ্রেসের সংবিধান অনুযায়ী একজন ব্লক সভাপতির কাউকে দল থেকে বহিষ্কারের এক্তিয়ার নেই। শুনেছি ব্লক সভাপতি ২০ বছর বয়স থেকে রাজনীতি করছেন। ব্লক সভাপতি ব্যক্তিগত স্বার্থে দলের গঠনতন্ত্র উপেক্ষা করে একতরফা সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। গোটা ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত, বহিষ্কারের আদেশ প্রত্যাহার এবং সাংগঠনিক অনিয়মের বিরুদ্ধে ব্যবস্থার দাবি জানিয়ে অধীররঞ্জন চৌধুরী ও জেলা কংগ্রেস নেতৃত্বকে চিঠি দিয়েছেন বলে জানান ওই প্রধান।
অন্যদিকে, ব্লক কংগ্রেস সভাপতি আব্দুর রাজ্জাক মোল্লার কথায়, আমাদের ব্লক কংগ্রেসের কার্যকরী সভাপতিকে শারীরিকভাবে হেনস্তা করেছিলেন মজিবর। সেই বিষয়ে তাঁকে শো-কজ করা হয়েছিল। কিন্তু তিনি জবাব দেওয়ার প্রয়োজন মনে করেননি। কংগ্রেস নেতৃত্বকে হেনস্তা করা এবং দলবিরোধী কাজের অভিযোগেই তাঁকে বহিষ্কার করা হয়েছে। ব্লক সভাপতি হিসেবে এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার এক্তিয়ার আমার রয়েছে।
জেলা কংগ্রেস সভাপতি আব্দুল্লাহিল কাফি বলেন, পুরো বিষয়টি শুনেছি। আমাদের তরফে ওই চিঠির দাবি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তবে হ্যাঁ, ব্লক কংগ্রেস বহিষ্কার করতে পারে।



