নিজস্ব প্রতিনিধি, নয়াদিল্লি: অন্তর্বর্তী নির্বাচন চাই! এই প্রথম সরাসরি লোকসভা ভেঙে দিয়ে নতুন করে ভোটের দাবিতে সরব হল কংগ্রেস। দেশের মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগ, প্রধানমন্ত্রীর ইস্তফা ইত্যাদি থেকে আরও কয়েক ধাপ অগ্রসর হয়ে শনিবার কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়্গের দাবি, সাম্প্রতিককালের সব নির্বাচন ভুয়ো। সেগুলি অসম্পূর্ণ ভোটার তালিকায় হয়েছে। ভোটার তালিকা প্রস্তুতের প্রক্রিয়া বেআইনি। ভোটগ্রহণ বেআইনি। সুতরাং সেই ভোটে তৈরি হওয়া সরকারও বেআইনি। নরেন্দ্র মোদি একজন বেআইনি প্রধানমন্ত্রী। অমিত শাহ একজন বেআইনি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। অবৈধ ভোটের মাধ্যমে জিতে আসা সমস্ত মুখ্যমন্ত্রীও বেআইনি। তাই লোকসভা এবং সব রাজ্যের বিধানসভা ভেঙে দেওয়া হোক। আর তারপরই অবিলম্বে শুরু করতে হবে অন্তর্বর্তী নির্বাচনের প্রক্রিয়া। আর সেটাও ব্যালট পেপারে। কর্ণাটকের কালবুর্গিতে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে খাড়্গের আরও অভিযোগ, লক্ষ লক্ষ মানুষ নিজেদের মতপ্রকাশের সুযোগ পায়নি। ভোটযন্ত্রের উপর মানুষের আস্থা নেই। যারা ভোট দিয়েছে, তাদের সেই ভোট সঠিকভাবে গণনায় প্রতিফলিত হয়েছে কি না, তা নিয়ে যথেষ্ট সন্দেহ ও অবিশ্বাস রয়েছে দেশজুড়ে। আর তাই লোকসভা এবং বিধানসভা কোনো ভোটেই সঠিক জনাদেশের প্রতিফলন হয়নি।
শাসক-বিরোধীদের সাম্প্রতিক সংঘাত শুরু হয়েছিল নির্বাচন কমিশনের অভ্যন্তরীণ এক বিবাদ প্রকাশ্যে চলে আসা নিয়ে। মুখ্য নির্বাচন কমিশনারকে টার্গেট করে সমস্ত বিজেপি বিরোধী দল রাস্তায় নেমেছে। জ্ঞানেশ কুমারের ইস্তফা দাবি করা হচ্ছে। ককরোচ জনতা পার্টি স্পষ্ট হুঁশিয়ারি দিয়েছে যে, ধর্মেন্দ্র প্রধানের পর এবার জ্ঞানেশ কুমারকেও সরাতে হবে। তবে তারা আন্দোলন থামাবে। মুম্বইয়ের সফল আন্দোলনের পর ১০ অক্টোবর তারা আবার দিল্লির পথে। পুনরায় যন্তরমন্তরে সমবেত হবে জেন জি। বামপন্থী সহ বিভিন্ন দলের বিক্ষোভ যন্তরমন্তরে এখনও চলছে। বিরোধী মহাজোট ‘ইন্ডিয়া’ শুরু করে দিয়েছে তাদের আন্দোলন। রাষ্ট্রপতির সঙ্গে দেখা করে দেওয়া হবে দাবিপত্র। হবে পদযাত্রাও। ঠিক এই সময় খাড়্গের নতুন দাবি বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ। খাড়্গে স্বয়ং নরেন্দ্র মোদিকে বিস্ফোরক তকমা দেওয়ার পর দিনভর কংগ্রেস প্রচার করেছে— ‘ইললিগাল প্রাইম মিনিস্টার’কে ইস্তফা দিতে হবে। কংগ্রেস সভাপতি এও বলেছেন, বর্তমানে গোটা দেশ পরিচালিত হচ্ছে বেআইনিভাবে হওয়া ভোটের মাধ্যমে গঠিত একটি সরকারের দ্বারা। আর তাই বিচ্ছিন্নভাবে শুধুই প্রধানমন্ত্রী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী, মুখ্য নির্বাচন কমিশনারের ইস্তফা দাবি করা হচ্ছে না। বরং কংগ্রেস এবার সবথেকে জোরালো রাজনৈতিক দাবি তুলেছে—লোকসভা ভেঙে নতুন করে ব্যালটে ভোট করতে হবে। নির্ধারিত সময়ে নির্বাচনের জন্য আর অপেক্ষা করা যাবে না।
১৯৭৫ সালে রামধারী সিং দিনকরের একটি কবিতার অংশ বেছে নিয়ে সম্মিলিত বিরোধীদের ‘ইন্দিরা হটাও’ বিক্ষোভ কর্মসূচি থেকে স্লোগান উঠেছিল, ‘সিংহাসন খালি করো কি জনতা আতি হ্যায়!’ কংগ্রেস কি এবার সেই ‘জেপি মুভমেন্ট টু’-এর পথেই?