নিজস্ব প্রতিনিধি, চুঁচুড়া: উত্তরপাড়া রেল স্টেশনের পাবলিক অ্যাড্রেস সিস্টেম বা ঘোষণা ব্যবস্থায় বিভিন্ন গন্তব্যের নাম ‘বিকৃতভাবে’ উচ্চারণ করা হচ্ছে। গত প্রায় এক সপ্তাহ ধরে এই ঘটনায় নিত্যযাত্রী থেকে সাধারণ যাত্রী মহলে বিরক্তি তুঙ্গে উঠেছে। কখনও কখনও বিকৃত ওই উচ্চারণ হচ্ছে হাসির খোরাকও। সবচেয়ে বেশি সমস্যায় পড়ছেন অনিয়মিত যাত্রীরা। বিকৃত উচ্চারণের ফলে ঘোষণা হওয়া ট্রেনটি ধরবেন কি না, বুঝে উঠতে হিমশিম খেতে হচ্ছে তাঁদের। যাত্রীমহল তো বটেই, উত্তরপাড়ার বিভিন্ন রাজনৈতিক মহল থেকেও বিষয়টি নিয়ে ক্ষোভের সুর শোনা গিয়েছে।
উত্তরপাড়া-ব্যান্ডেল রেলপথের একটি পরিচিত স্টেশন শেওড়াফুলি। অনেক অনিয়মিত যাত্রী সেই স্টেশনে যান। অথচ ওই স্টেশনটির নাম ঘোষণার সময় বলা হচ্ছে ‘সেবরাফুলি’। যা বুঝতে কালঘাম ছুটছে যাত্রীদের। একইভাবে পাণ্ডুয়া স্টেশনের নাম হয়ে যাচ্ছে ‘পান্ডিয়া’, তারকেশ্বর হয়েছে ‘তাড়কেসর’। এমনকি হাওড়াও ভালো করে না শুনলে ‘হাবড়া’ মনে হচ্ছে। বস্তুত ওই নামে পৃথক একটি জায়গা থাকায় বিভ্রান্তি আরও চরমে উঠেছে। নিত্যযাত্রীরা ট্রেন বুঝে নিতে পারলেও বিপাকে পড়ছেন অনভ্যস্ত যাত্রীরা। সাম্প্রতিক সময়ে পাণ্ডুয়া ও শেওড়াফুলির একাধিক যাত্রী উচ্চারণ বিভ্রাটে ট্রেন ছেড়েও দিয়েছেন। উত্তরপাড়া স্টেশনের কাছেই একটি প্যথলজি ল্যাবে কাজ করেন রাকেশ দাস। প্রতিদিনই উত্তরপাড়া থেকে ট্রেন ধরে নানা জায়গায় যান। তিনি বলেন, ‘বহু বছর ট্রেনে যাতায়াত করছি। প্রথমবার সেবরাফুলি শুনে ভড়কে গিয়েছিলাম। তারপর বিষয়টি বুঝতে পেরে ট্রেন ধরি। অনেকেই বিভ্রান্ত হচ্ছেন। রেলের আরও দায়িত্ববান হওয়া উচিত ঘোষণা নিয়ে।’ কয়েকদিন আগে এমন বিকৃত উচ্চারণ শুনে ট্রেন ‘মিস’ করতে হয়েছে শ্রীরামপুরের সমাজকর্মী সমীর সাহাকে। তিনি বলেন, ‘উত্তরপাড়ায় একটা কাজে গিয়েছিলাম। ওখান থেকে পাণ্ডুয়া যাওয়ার কথা ছিল। স্টেশনে দাঁড়িয়ে কয়েকজনের সঙ্গে গল্প করছিলাম। পাবলিক অ্যাড্রেস সিস্টেমে পান্ডিয়া বলায় গুরুত্ব দিইনি। অনেকক্ষণ ট্রেন না পেয়ে খোঁজখবর নিই। তখন জানতে পারি, পাণ্ডুয়ার ট্রেন চলে গিয়েছে। তখন বুঝতে পারি, পান্ডিয়াই আসলে পাণ্ডুয়া। যাত্রীদের চূড়ান্ত বিভ্রান্তির মধ্যে পড়ছেন।’
উত্তরপাড়া পুরসভার চেয়ারম্যান দিলীপ যাদব বলেন, ‘আমাকেই অনেকে হাসতে হাসতে বিকৃত ওই উচ্চারণের কথা বলেছেন। তবে বিষয়টি হাসির নয়। বাংলার মানুষের জন্য সঠিক বাংলায় ঘোষণা হওয়া উচিত।’ যদিও বিষয়টি ‘জানা নেই’ বলে দাবি করেছেন পূর্ব রেলের মুখ্য জনসংযোগ আধিকারিক শিবরাম মাঝি। তিনি বলেন, ‘স্টেশনের নাম সঠিকভাবে উচ্চারিত যাতে হয়, তা দ্রুত দেখা হবে।’ স্থানীয় বাসিন্দা ও ব্যবসায়ীদের সূত্রে জানা গিয়েছে, কিছুদিন আগে নতুন পাবলিক অ্যাড্রেস সিস্টেম বসেছে উত্তরপাড়া স্টেশনে। তারপর থেকেই এই সমস্যা শুরু হয়েছে। বিকৃত উচ্চারণে প্রতিদিনই যাত্রীদের বিভ্রান্ত হতে হচ্ছে। তৈরি হচ্ছে ক্ষোভ। নিজস্ব চিত্র