নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: প্রথমবার পশ্চিমবঙ্গে বসতে চলেছে প্রবাসী ভারতীয় দিবসের সম্মেলন। ২০২৭ সালের ৭ থেকে ৯ জানুয়ারি, তিনদিন ধরে কলকাতা জুড়ে চলবে ১৯তম প্রবাসী ভারতীয় দিবস কনভেনশন। বিদেশ মন্ত্রক এই অনুষ্ঠানের মূল উদ্যোক্তা হলেও বাংলা থেকে আয়োজক সংস্থা হিসেবে থাকছে রাজ্যের শিল্প উন্নয়ন নিগম। এই অনুষ্ঠানে এবার বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে অঙ্ক এবং আয়ুর্বেদকে।
১৯১৫ সালের ৯ জানুয়ারি মহাত্মা গান্ধী দক্ষিণ আফ্রিকা থেকে দেশে ফিরেছিলেন সেই স্মৃতিকে মনে করেই এই দিবস উদযাপন করা হয় দেশে। প্রধানমন্ত্রী থাকাকালীন অটলবিহারী বাজপেয়ী ২০০৩ সালে এই উৎসবের সূচনক করেন। এর মূল উদ্দেশ্য বিশ্বের তিন কোটিরও বেশি প্রবাসী ভারতীয়ের সঙ্গে সম্পর্ক মজবুত করা, তাঁদের অবদানকে স্বীকৃতি দেওয়া এবং বিনিয়োগ, জ্ঞান ও সংস্কৃতির আদান-প্রদান। ২০১৫ সাল থেকে প্রতি দুবছর অন্তর মূল কনভেনশন হয়। এর আগে ১৮তম আসর হয়েছিল ২০২৫ সালে ভুবনেশ্বরে। থিম ছিল ‘বিকশিত ভারতে প্রবাসীদের অবদান’। এত বছর ধরে দিল্লি, মুম্বই, কোচি, ভুবনেশ্বর, ইন্দোরের মতো শহরে হলেও পশ্চিমবঙ্গে কখনো মূল কনভেনশন হয়নি। এমনকি, অন্যান্য রাজ্য অংশ নিলেও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের আমলে প্রবাসী ভারতীয় দিবসের অনুষ্ঠানে যোগ দেয়নি বাংলা।
এবার শহরজুড়ে চারটি কেন্দ্রে ভাগ করা হয়েছে মূল অনুষ্ঠান। মিলনমেলা প্রাঙ্গণে হবে মূল অনুষ্ঠান। উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। তিন দিনের অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকার করা রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু, বিদেশমন্ত্রী এস জয়শংকর ছাড়াও একাধিক কেন্দ্রীয় মন্ত্রীর। উপস্থিত থাকবেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীও। এখানেই চলবে বিভিন্ন আলোচনা সভা। প্লেনারি সেশন, সায়েন্স সিটিতে গড়ে উঠবে এগজিবিশন হাব, যেখানে প্রদর্শনী থাকবে বিছিন্ন রাজ্যের। এখানেই থাকছে মিডিয়া সেন্টার। মিলনমেলা ঘেঁষা একটি পাঁচতারা হোটেলে চলবে কূটনৈতিক আলোচনা। প্রধানমন্ত্রীর আমন্ত্রণে সেখানে নৈশভোজের আমন্ত্রণ জানানো হবে বিশিষ্টদের। বিশ্ব বাংলা কনভেনশন সেন্টারে চলবে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। সেখানেই মুখ্যমন্ত্রীর আয়োজনে থাকবে নৈশভোজের ব্যবস্থা। একইসঙ্গে বিদেশমন্ত্রীর আমন্ত্রণেও নৈশভোজের আসর বসবে এখানে।
এবারের অনুষ্ঠানে অঙ্ক ও আয়ুর্বেদে বিশেষ জোর কেন? সংশ্লিষ্ট কর্তাদের কথায়, এবারের সম্মেলনের সবচেয়ে বড়ো আকর্ষণ ভারতীয় জ্ঞান বা প্রজ্ঞার পরম্পরা। সেই কারণেই বেছে নেওয়া হয়েছে এই দুটি বিষয়কে। মানব সভ্যতায় ভারতীয় গণিতে অবদান নিয়ে যেমন বিশেষ প্রদর্শনী থাকবে, তেমনই দক্ষিণ এশীয় পুঁথিতে আরোগ্য ও সুস্থতা নিয়ে থাকবে বিশেষ প্রদর্শনী। দেখা যাবে আসল পাণ্ডুলিপি। জানা গিয়েছে, শূন্যের আবিষ্কার, আর্যভট্ট, ব্রহ্মগুপ্ত থেকে রামানুজন—ভারতীয় গণিত কীভাবে বিশ্বকে পথ দেখিয়েছে, তা দেখানো হবে। পাশাপাশি ভেষজ চিকিৎসা ও ওয়েলনেস টুরিজম নিয়ে বিনিয়োগ সংক্রান্ত বৈঠকও হবে। ভারতীয় আয়ুর্বেদকে বিশ্ব মনচিত্রে নিয়ে আসাই এর অন্যতম লক্ষ্য, এমনই দাবি করা হয়েছে।



