Bartaman Logo
৩০ মে, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

এল নিনোর প্রভাবে দেশে বর্ষার  বৃষ্টির পরিমাণ নিয়ে চিন্তা বাড়ল

‘এল নিনোর’ প্রভাবে আসন্ন বর্ষাকালে দেশে বৃষ্টির পরিমাণ নিয়ে চিন্তা আরও বাড়ল। কেন্দ্রীয় আবহাওয়া দপ্তর শুক্রবার বর্ষা নিয়ে দ্বিতীয় পর্যায়ের পূর্বাভাস দিয়েছে।

এল নিনোর প্রভাবে দেশে বর্ষার  বৃষ্টির পরিমাণ নিয়ে চিন্তা বাড়ল
  • ৩০ মে, ২০২৬ ০৪:০০

নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: ‘এল নিনোর’ প্রভাবে আসন্ন বর্ষাকালে দেশে বৃষ্টির পরিমাণ নিয়ে চিন্তা আরও বাড়ল। কেন্দ্রীয় আবহাওয়া দপ্তর শুক্রবার বর্ষা নিয়ে দ্বিতীয় পর্যায়ের পূর্বাভাস দিয়েছে। সামগ্রিকভাবে দেশে জুন থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সময়ের বর্ষা মরশুমে দীর্ঘকালীন সময়ের গড় বৃষ্টিপাতের (এলপিএ) তুলনায় ৯০ শতাংশ বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনার কথা বলা হয়েছে। এপ্রিল মাসে প্রথম পর্যায়ের পূর্বাভাসে এটা ৯২ শতাংশ বলা হয়েছিল। আবহাওয়া দপ্তর জানিয়েছে, এটা ৪ শতাংশ এদিক ওদিক হতে পারে। এলপির তুলনায় ৮৬ শতাংশ বৃষ্টিও হতে পারে। ১৯৭১ থেকে ২০২০ সাল পর্যন্ত সময়ে বৃষ্টির গড় পরিমাণের ভিত্তিতে এলপিএ নির্ধারণ করা হয়। বৃষ্টির পরিমাণের নিরিখে এটা ৮৭ সেন্টিমিটার। বর্ষার প্রথম মাস জুনে এলপিএর ৯২ শতাংশ বৃষ্টি হতে পারে।
গতবছর দেশে বৃষ্টি অনেক বেশি হয়েছিল, যা ‌এলপিএর ১০৮ শতাংশ ছিল। অন্তত ৯৪ শতাংশ বৃষ্টি হলে আবহাওয়া বিজ্ঞানে তা ‘স্বাভাবিক’ বলে ধরা হয়। আবহাওয়া দপ্তর জানিয়েছে, দেশের চারটি অঞ্চলের মধ্যে একমাত্র উত্তর-পূর্ব অংশে (যার মধ্যে পূর্ব ও উত্তর-পূর্ব ভারত পড়ছে)  স্বাভাবিক বৃষ্টি হতে পারে। উত্তর-পশ্চিম, মধ্য ও দক্ষিণ অংশে কম বৃষ্টি হবে। আরো উদ্বেগের বিষয় হল, বর্ষাকালীন বৃষ্টির উপর দেশের যে অংশের কৃষিকাজ মূলত নির্ভর করে (মনসুন কোর জোন) সেখানে বৃষ্টিপাত ৯৪ শতাংশের কম হওয়ার সম্ভাবনা আছে। পশ্চিমবঙ্গের বড়ো অংশে স্বাভাবিকের চেয়ে কম বৃষ্টি হবে। আবহাওয়া দপ্তরের পূর্বাভাসে দেওয়া হয়েছে এমনই ইঙ্গিত। 
এদিকে কেরলম হয়ে দেশের মূল ভূখণ্ডে বর্ষার প্রবেশ কবে হবে তা এখনো নিশ্চিত নয়। কিছুদিন আগে আবহাওয়া দপ্তর ২৬ মে নাগাদ এটা হতে পারে এমন সম্ভাবনার কথা জানিয়েছিল। কিন্তু তা হয়নি। বর্ষা এখনো আন্দামান নিকোবর অতিক্রম করে বঙ্গোপসাগর ও আরব সাগরের বিভিন্ন অংশের উপর আছে। কেন্দ্রীয় আবহাওয়া দপ্তরের ডিরেক্টর জেনারেল মৃত্যুঞ্জয় মহাপাত্র শুক্রবার জানিয়েছেন, কেরলমে বর্ষার প্রবেশ দিনসাতেকের মধ্যেই হতে পারে। কেরলমে বর্ষা প্রবেশের স্বাভাবিক দিন ১ জুন। এবার তা দেরিতে হওয়ার সম্ভাবনাই বেশি। 
আবহাওয়া দপ্তর জানিয়েছে, এখনো প্রশান্ত মহাসাগরে ‘এসনো নিউট্রাল’ পরিস্থিতি চলছে। তবে বর্ষা মরশুমের মধ্যে তৈরি হতে চলেছে এল নিনো পরিস্থিতি। কবে নাগাদ তা হবে সেটা না জানালেও বর্ষার মাঝামাঝি বা শেষ সময়ে এল নিনোর নেতিবাচক প্রভাব পড়ার সম্ভাবনা বেশি। এল নিনোর প্রভাবে ভারতসহ বিশ্বের বড়ো অংশে বৃষ্টিপাতের পরিমাণ শুধু কমে না, তাপমাত্রাও বাড়ে। আবহাওয়াবিদরা এখন নজর রাখছেন, ভারত মহাসাগরের ‘ডাইপোল’ পরিস্থিতি—এল নিনোর প্রভাব কিছুটা প্রশমিত করে বৃষ্টির পরিমাণকে অন্তত মন্দের ভালো করতে পারে কি না। ডাউপোল এখন মোটামুটি ‘নিউট্রাল’ থাকলেও বর্ষা মরশুমের মধ্যে তা ‘পজিটিভ’ হতে পারে, এমন সম্ভাবনা আছে। এটা হলে এল নিনোর প্রভাব কিছুটা কমবে। 

Advertisement

 

সম্পর্কিত সংবাদ