নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট গভীর নিম্নচাপটি মঙ্গলবার প্রত্যাশিতভাবে ঝাড়খণ্ডের উপর সরে গেলেও দক্ষিণবঙ্গে অতিবৃষ্টির উদ্বেগ থাকছেই। জানাচ্ছেন আবহাওয়াবিদরা। দক্ষিণবঙ্গে সকালের পর থেকে বৃষ্টি কমেছে। কিন্তু নিম্নচাপটির প্রভাবে মঙ্গলবার দিনভর দক্ষিণবঙ্গের কাছাকাছি ঝাড়খণ্ডের দামোদর অববাহিকা এলাকায় প্রচুর বৃষ্টিপাতের আশঙ্কা আছে। জানিয়েছেন আবহাওয়া দপ্তরের পূর্বাঞ্চলীয় অধিকর্তা হবিবুর রহমান বিশ্বাস। এটা হলে ডিভিসির মাইথন-পাঞ্চেত থেকে বেশি পরিমাণে জল ছাড়ার ফলে দক্ষিণবঙ্গে দামোদরসহ অন্যান্য নদীগুলিতে জলস্তর বাড়তে পারে। অনুমান বিশেষজ্ঞদের। পাশাপাশি, আগামী সপ্তাহের শুরুতেই উত্তর বঙ্গোপসাগরে পশ্চিমবঙ্গ-বাংলাদেশ উপকূলে নতুন করে একটি নিম্নচাপ তৈরি হতে পারে। এক পূর্বাভাসে জানিয়েছে কেন্দ্রীয় আবহাওয়া দপ্তর। আপাতত আগামী ২৩-২৪ আগস্ট দক্ষিণবঙ্গের উপকূলবর্তী পূর্ব মেদিনীপুর ও দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলায় ভারী বৃষ্টির পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে।
গভীর নিম্নচাপটি বীরভূম, বর্ধমান হয়ে এদিন দুপুরে ঝাড়খণ্ডের হাজারিবাগের কাছে ছিল। এটি আরও পশ্চিম-উত্তর-পশ্চিম দিকে ঝাড়খণ্ড হয়ে বিহারের দিকে সরে যাওয়ার পথে দুর্বল হয়ে পড়বে। মনে করছে আবহাওয়া দপ্তর। দুর্বল হলেও এর প্রভাবে আগামী কয়েকদিনে ওইসব জায়গায় বৃষ্টিপাত বাড়বে। নিম্নচাপটি এগোনোর পথে এদিন সকাল পর্যন্ত বীরভূম, পশ্চিম বর্ধমানসহ দক্ষিণবঙ্গের অনেক জায়গায় প্রচুর বৃষ্টিপাত হয়েছে। সকাল সাড়ে ৮টা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় পশ্চিম বর্ধমানের বার্নপুরে (রাজ্যে সর্বোচ্চ) ২২০ মিমি এবং আসানসোলে ১৭০ মিমি বৃষ্টি হয়েছে। বীরভূমের সিউড়িতে ১৪০ মিমি, মেদিনীপুরে ১১০ মিমি, খড়্গপুরে ৯০ মিমি, ডায়মন্ডহারবারে ৯০ মিমি বৃষ্টি হয়েছে। বাঁকুড়া, পুরুলিয়া, পশ্চিম বর্ধমানের বিভিন্ন জায়গায় ৭০ মিমি বা তার বেশি বৃষ্টি হয়েছে। এইসময়ে সল্টলেকে ৭৫ মিমি ও কলকাতা (আলিপুরে) ৬০ মিমি বৃষ্টিপাত হয়েছে। বেলা গড়ানোর পর দক্ষিণবঙ্গের সর্বত্র বৃষ্টি অনেকটা কমে যায়। আপাতত আগামী কয়েকদিন দক্ষিণবঙ্গে ভারী বৃষ্টির পূর্বাভাস নেই।