সংবাদদাতা, ডোমকল: কাঠের একটা তক্তা। লোহার রড দিয়ে সেটি আটকানো টোটোর সঙ্গে। সেই তক্তার ওপরে বসে আছে চার শিশু। বয়স বড়জোর পাঁচ থেকে সাত। টোটোর ভিতরে গাদাগাদি করে আরও ১০-১২ জন। কারও হাত বাইরের ঝুলে রয়েছে, কেউ মাথা বের করে রেখেছে জানালা ভেবে। সকালের দিকে ডোমকল মহকুমার বিভিন্ন এলাকায় এভাবেই স্কুলে নিয়ে যাওয়া হয় কচিকাঁচাদের। বেসরকারি নার্সারি স্কুলগুলিতে পড়ুয়াদের পৌঁছে দেওয়ার ‘পুলকার’ হয়ে উঠেছে এই ধরনের টোটো।
গত কয়েক বছরে শহরের পাশপাশি গ্রামীণ এলাকাগুলিতেও ব্যাঙের ছাতার মতো গজিয়ে উঠেছে প্রচুর নার্সারি স্কুল। সেইসব স্কুলের পড়ুয়াদের নির্ভরযোগ্য বাহন এখন এই টোটোই। একটি টোটোতে বড়জোর ৬-৭ জন বসতে পারে। সেখানেই কায়দা করে ১৪-১৫ জন শিশুকে গাদাগাদি করে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। বেশি সংখ্যক শিশুকে নিয়ে যেতে টোটোর সঙ্গে জুড়ে দেওয়া হচ্ছে কাঠের পাটাতন। তাতে আরও ৪-৫ জনকে বসানো হচ্ছে। এভাবেই কচিকাঁচাদের জীবনের ঝুঁকি নিয়ে গ্রামীণ ও রাজ্য সড়কের চলাচল করছে টোটোগুলি। ছোট্ট একটা ঝাঁকুনি বা ব্রেকের কারণেই ঘটে যেতে পারে ভয়াবহ দুর্ঘটনা।
এভাবে টোটোয় পড়ুয়াদের যাওয়া নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন অনেকেই। রানিনগরের আবু তালেব বলেন, টোটোকে এভাবে ব্যবহার করা উচিত নয়। যে কোনও সময়ে বিপদ ঘটে যেতে পারে। প্রশাসনের উচিত টোটোগুলিকে নিয়ন্ত্রণ করা। ছোটখাটো দুর্ঘটনার কথা বাদ দিলেও টোটোতে বাচ্চাদের স্কুল যাতায়াতের ব্যাপারটি যথেষ্ট ঝুঁকিপূর্ণ বলে জানাচ্ছেন অভিভাবকরা। গোয়াসের এক অভিভাবক শামিম শেখ বলেন, ছেলেকে এভাবে স্কুলে পাঠাতে খুব ভয় করে। কিন্তু কী করব, প্রত্যেকদিন স্কুলে নিয়ে যাওয়া আসা সম্ভব নয়। টোটোগুলির আশপাশ একটু ঘিরে রাখলে আর অল্প করে ছেলেমেয়েদের নিয়ে গেলে ভালো হতো। স্কুলগুলির দাবি, অনেক ক্ষেত্রে আর্থিক দিক থেকে অভিভাবকরা স্বচ্ছল না হওয়ার কারণে টোটোর সাহায্য নিতে হয় তাঁদের। একটি স্কুলের এক কর্মকর্তা বলেন, এমনিতেই টিউশনি ফি টানতেই ঘুম ছুটে যাচ্ছে অনেকের, তার ওপর মারুতি ভ্যানের খরচ দিয়ে কীভাবে তাঁরা স্কুলে পাঠাবে? যেখানে টোটোর মাসিক ভাড়া ১৩০ টাকা, সেখানে মারুতি ভ্যানে ভাড়া প্রায় ৬০০ টাকার কাছাকাছি।
কিন্তু নিয়ম অনুসারে পুলকার হিসেবে টোটো কোনওক্ষেত্রেই ব্যবহার করা যায় না। তাহলে এক্ষেত্রে পুলিস প্রশাসনের ভূমিকা ঠিক কী? ডোমকলের এসডিপিও শুভম বাজাজ বলেন, এখনও কোনও অভিযোগ আসেনি। তবে শুনলাম। বিষয়টি আমরা খতিয়ে দেখছি।