


শান্তনু দত্ত: পরীক্ষার হলে সিঁড়িভাঙা অঙ্ক করতে বসলে একটা কথা প্রায়ই কানে বাজত। অঙ্কের ধাপে ভুল থাকলেও নীচে সঠিক উত্তরটা লিখে দেওয়া চাই। এ নেহাতই বন্ধুর কুপরামর্শ। তাতে একটা বিষয় অন্তত নিশ্চিত করা যেত, পরীক্ষকের চোখ এড়ালে কিছু নম্বর পাওয়া যাবে। ‘সানি সংস্কারী কি তুলসী কুমারী’ দেখেও সেই একই অনুভূতি হল। শেষে এসে দুইয়ে দুইয়ে চার করে দেওয়া। যেন অঙ্ক না মিললেই মুশকিল! তাতে গল্পের গোরু গাছের বদলে মহাশূন্যে চড়ে যাক, কুছ পরোয়া নেহি! তবে উৎসবের মরশুমে এমন রঙিন, মজাদার, পারিবারিক ছবি দেখতে মন্দ লাগে না।
গল্প সোজাসাপ্টা। সানি (বরুণ ধাওয়ান) ও তুলসী (জাহ্নবী কাপুর) দু’জনেরই প্রেম ভেঙেছে। সানির প্রেমিকা অনন্যা (সানিয়া মালহোত্রা) বিয়ে করছে ধনী বিক্রমকে (রোহিত শ্রফ)। এদিকে বিক্রম আবার তুলসীর প্রাক্তন প্রেমিক। ফলে সানি আর তুলসী মিলে ঠিক করে প্রাক্তনদের বিয়ে বানচাল করবে। বিয়ে ভাঙতে গিয়েই যত কাণ্ড। একে অপরের প্রেমে পড়ে সানি আর তুলসী। ধীরে ধীরে গড়ে ওঠা এই সম্পর্কই ছবির মূল সুর।
রোমান্টিক কমেডি বরুণের চেনা ময়দান। তিনি ছক্কা হাঁকাবেন, তা আশাপ্রদ। এ ছবিতে আবার তিনি পাশে পেয়েছেন পরিচালক শশাঙ্ক খৈতানকে। যাঁর সঙ্গে ‘হাম্পটি শর্মা কি দুলহানিয়া’, ‘বদ্রীনাথ কি দুলহানিয়া’র মতো ছবি করেছেন। ফলে সহজাত ছেলেমানুষি, দুষ্টুমি আর গোবিন্দা ঘরানার কমেডিতে উতরে গিয়েছেন বরুণ। তাঁর সংলাপ, শরীরী ভাষ্য, আত্মবিদ্রুপ পর্দায় দেখতে মজা লাগে। চমকপ্রদ জাহ্নবী। আগের চেয়ে অনেক বেশি পরিণত লাগল তাঁকে। রোহিত ও সানিয়ার নিজেদের জায়গায় যথাযথ। নাচের দৃশ্য হোক বা আবেগঘন মুহূর্ত— চারজনের পারফরম্যান্সেই আন্তরিকতা ধরা পড়ে। তবে রোহিত আর সানিয়ার সংলাপ কেন এত কম, তা ভাবায়।
হালকা ধাঁচের কমেডি এ ছবির গুণ। নেশায় বুঁদ হয়ে চারজনের হামাগুড়ি দেওয়া, বরুণের খারাপ কবিতা, সানিয়া ও জাহ্নবীর আয়নার সামনে রোগা প্রমাণের লড়াইয়ের মতো বেশ কয়েকটি দৃশ্য দেখে হাসতে বাধ্য হবেন। তাছাড়া সানি ও বিক্রমের মধ্যে গড়ে ওঠা বন্ধুত্ব গল্পে আলাদা মাত্রা যোগ করেছে। তবে ছবির দৈর্ঘ্য অনায়াসে কমানো যেত। জোর করে একের পর এক গানের ব্যবহার বিরক্তি বাড়ায়। সাপোর্টিং চরিত্রে অভিজ্ঞ অভিনেতাদের অনুপস্থিতি চোখে লাগে। তার মাঝেও মণীশ পলের চরিত্রটি ভালো। বলিউডি ফর্মুলা মেনে সামাজিক বার্তা চিত্রনাট্যে ঢুকিয়েছেন পরিচালক। তবে তা ভীষণ মেকি মনে হয়। প্রশ্ন জাগে, রোমান্টিক কমেডি ঘরানার ফর্মুলা মানলেই যে ভালো ছবি করা যায় না, এ কথা নির্মাতারা কবে বুঝবেন?