Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

হাওড়ার দাশনগর থানায় অভিযোগ দায়ের, সাইবার প্রতারণা, চার লক্ষের বেশি টাকা খোয়ালেন তরুণী

হাওড়ার দাশনগর থানায় অভিযোগ দায়ের, সাইবার প্রতারণা, চার লক্ষের বেশি টাকা খোয়ালেন তরুণী
  • ৪ জুন, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: ডাক্তার সেজে ভুয়ো প্রোফাইল খুলেছিল সোশ্যাল নেটওয়ার্কিং সাইটে। আদতে সে ডাক্তার বা সামাজিকভাবে প্রতিষ্ঠিত কেউ নয়। জালিয়াতি করে টাকা হাতাতেই ওই অ্যাকাউন্ট খুলেছিল সে। একদিন ফেসবুকে এক তরুণীর গানের অনুষ্ঠানের ভিডিও দেখে লাইক করে। তারপর বন্ধুত্বের অনুরোধ পাঠায়। তা গ্রহণ করতেই নানা কায়দায় টাকা চাইতে শুরু করে সে। বন্ধুত্বের খাতিরে চড়া সুদে নিজের গয়না বন্ধক রেখে কয়েক দফায় টাকা পাঠান ওই তরুণী। ওই টাকা তো ফেরত পাননি, উল্টে ভয় দেখায় সে। শেষমেশ তরুণী বুঝতে পারেন যে, তিনি সাইবার জালিয়াতির শিকার হয়েছেন। এরপর হাওড়ার দাশনগর থানায় অভিযোগ জানালে পুলিস কেস রুজু করে তদন্ত শুরু করেছে।

Advertisement

তরুণী অভিযোগে জানিয়েছেন, সম্প্রতি তাঁর একটি সঙ্গীতানুষ্ঠানের ছবি ফেসবুকে পোস্ট করেছিলেন। তা দেখে ওই জয় সন্দীপ নামের এক ‘ডাক্তার’ লাইক দিয়ে কমেন্টে গায়কীর ভূয়সী প্রশংসা করে। এরপর তাঁকে ‘ফ্রেন্ড রিকোয়েস্ট’ পাঠালে তিনি তা ‘অ্যাকসেপ্ট’ করেন। এরপর শুরু হয় জালিয়াতির খেলা। সে বলে, বন্ধুত্বের প্রস্তাব গ্রহণ করায় কৃতজ্ঞতা স্বরূপ সে আট হাজার ইউরো পাঠাচ্ছে। পাশাপাশি পরে আরও ২০ হাজার ইউরো যাবে। এরজন্য অবশ্য তরুণীর অ্যাকাউন্ট থেকে কিছু টাকা তার অ্যাকাউন্টে পাঠাতে হবে। কয়েকদিন পর ওই যুবক মেসেজ করে তরুণীকে জানায়, দিল্লি বিমানবন্দরে নেমে সে আটকে পড়েছে। তার কাছে টাকা নেই। কিছু টাকা পাঠাতে বলে। সরল বিশ্বাসে কিছু টাকা পাঠিয়ে দেন তরুণী। কিছুদিন পর ফের বলে, তার একটি ড্রাফট ব্যাঙ্কে জমা দিলেও খুঁটিনাটি কারণে সেটি ভাঙানো যাচ্ছে না। ফলে ব্যবসার কাজকর্ম আটকে গিয়েছে। তখন তরুণীকে আর কিছু টাকা পাঠাতে বলে। সন্দেহ হওয়ায় তরুণী তখন টাকা পাঠাননি। এরপর বারবার চাপ দিতে থাকে অভিযুক্ত। বলে, টাকা না পাঠালে আগের টাকা সে ফেরত দেবে না। একইসঙ্গে উপহারও আসবে না। ভয় পেয়ে তরুণী চড়া সুদে গয়না বন্ধক রেখে টাকা পাঠান অভিযুক্তকে। সব মিলিয়ে ৪ লক্ষ ৩৬ হাজার টাকারও বেশি খোয়া গিয়েছে তাঁর। তরুণীর অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্তে নেমে পুলিস সেই সোশ্যাল নেটওয়ার্কিং সংস্থাকে চিঠি পাঠিয়েছে। পাশাপাশি যে অ্যাকাউন্টে টাকা গিয়েছে, সেগুলি কার নামে খোলা হয়েছিল, সেই তথ্য জোগাড় করা হচ্ছে।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ