নিজস্ব প্রতিনিধি, কুলটি: প্রতিবার বিধানসভা নির্বাচনের আগেই কুলটির জল সংকট ভোটের ইস্যু হয়ে দাঁড়ায়। শাসক, বিরোধী দুই শিবিরই নিজের মতো করে এনিয়ে মানুষের কাছে প্রচার করে। তবে, আগের তুলনায় কুলটিতে জলের সমস্যা কমেছে। বাড়ি বাড়ি পানীয় জল পরিষেবার সূচনা হয়েছে। কিন্তু, জলের সংযোগ নিতে গেলে বাড়তি টাকা দিতে হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠছে। যা নিয়ে এবার কড়া বার্তা দিলেন আসানসোল পুরসভার মেয়র বিধান উপাধ্যায়। শনিবার পুরসভার একগুচ্ছ কাজের উদ্বোধনে কুলটি থানার নিয়ামতপুরে আসেন মেয়র। সেখানে তিনি বলেন, জলের সংযোগ দেওয়ার জন্য পুরসভা চার্জ কমিয়ে দিয়েছে। পুরসভার নির্ধারিত মূল্য ছাড়া কেউ বাড়তি টাকা চাইলে পুরসভায় অভিযোগ করুন। আমি পদক্ষেপ নেব। উল্লেখ্য, বাম আমল থেকেই কুলটি বিধানসভা এলাকায় পানীয় জলের প্রবল সংকট। খনি এলাকায় ভূগর্ভস্থ জল উত্তোলন করা যায় না। পুরসভার পাইপ লাইনের জলই ভরসা। অন্যান্য শহরের মতো কুলটি শহরও বাড়ছে। নতুন নতুন এলাকায় জলই পৌঁছায়নি। যা নিয়ে মানুষের ক্ষোভ ছিল। কিন্তু, অম্রুত প্রকল্পের একাধিক জল প্রকল্পে গড়ে পরিস্থিতি ভালো করতে উদ্যোগ নিয়েছে রাজ্য সরকার। কুলটির বিবেকানন্দ পল্লি, কলেজ রোড এলাকায় জলের সমস্যা আগের থেকে কমেছে। কিন্তু, সমস্যা তৈরি করছে অসাধু চক্র। অভিযোগ, পাকাবাড়ি থাকলে আসানসোল পুরসভাকে ৩ হাজার টাকা দেওয়ার নিয়ম। বাড়িতে পাকা ছাদ না থাকলে গরিব পরিবার ৫০০ টাকা দিলেও পুরসভার জলের সংযোগ পাওয়ার কথা। পুরসভার সেই টাকা জমা করলেও বহু মানুষই জলের সংযোগ পাচ্ছে না। বিভিন্ন জায়গায় কাউন্সিলার ঘনিষ্ঠদের বাড়তি টাকা দিয়ে খুশি করতে না পারলে বাড়িতে পুরসভার জলের সংযোগ আসছে না। বিজেপির জেলা সাধারণ সম্পাদক কেশব পোদ্দার বলেন, কুলটির বহু মানুষ পুরসভার কাছে বাড়তি টাকা চাওয়ার অভিযোগ করেছে। কিন্তু, কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। এদিনই আসানসোল পুরসভার তরফে কুলটি বিধানসভা এলাকায় ১৩ কোটি টাকায় বিভিন্ন কাজের শিলান্যাস করেন মেয়র। আসানসোল পুরসভার ২৮টি ওয়ার্ড কুলটি বিধানসভার অন্তর্গত। তিনটি বরো অফিস রয়েছে। এদিন নিয়ামতপুর থেকে তিনটি বরোর একাধিক কাজের শিলান্যাস করেন মেয়র। ‘আমাদের পাড়া আমাদের সমাধান’ প্রকল্পে পাড়ায় পাড়ায় নতুন রাস্তা হচ্ছে। পথবাতি বসছে।



