নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: সকাল থেকেই আকাশের মুখ ভার। বৃহস্পতিবার দিনভর বৃষ্টির জেরে গন্তব্যে পৌঁছতে শহরবাসীর কাল ঘাম ছুটেছে। আবার ফেরার পথে দীর্ঘ প্রায় এক ঘণ্টা মহানগরীর লাইফ লাইন বন্ধ থাকায় যাত্রীদের দুর্ভোগ চরমে ওঠে। এদিন বিকেল ৪টে ৪৯ মিনিট নাগাদ রবীন্দ্র সদন মেট্রো স্টেশনে দক্ষিণেশ্বরগামী রেক ঢুকছিল। আচমকাই মেট্রোর সামনে ঝাঁপ দেন এক যুবক। নাম শৌভিক মণ্ডল। আত্মহত্যার উদ্দেশ্যে ট্র্যাকে লাফ দিলেও বরাত জোরে প্রাণে বেঁচে যান তিনি। যদিও এই ঘটনায় প্রত্যক্ষদর্শীরা রীতিমতো ঘাবড়ে যান। মেট্রো চালকের তৎপরতায় শেষ মুহূর্তে ইমার্জেন্সি ব্রেক কাজ করে। কিন্তু ওই যুবক মারাত্মক আহত হন। তারপরই মেট্রো লাইনের বিদ্যুৎবাহী থার্ড লাইন বন্ধ করে দেওয়া হয়। রেল কর্মীরা ওই যুবককে উদ্ধার করতে ট্র্যাকে নামেন। এই সময় প্রায় ঘণ্টা খানেক আপ ডাউনে নর্থ-সাউথ মেট্রোর একটা বড় অংশ অচল হয়ে পড়ে। সেন্ট্রাল থেকে মহানায়ক উত্তমকুমার পর্যন্ত অংশে মেট্রো চলাচল সাময়িকভাবে বন্ধ করে দেওয়া হয়। যার জেরে অফিস ফেরত হাজার হাজার যাত্রীর চরম নাকাল হন। পরবর্তী সময়ে কবি সুভাষ থেকে মহানায়ক উত্তমকুমার এবং সেন্ট্রাল থেকে দক্ষিণেশ্বর রুটে বিক্ষিপ্ত পরিষেবা চালু হয়। যদিও ততক্ষণে স্টেশনে স্টেশনে যাত্রীদের ভিড় উপচে পড়েছে। টোকেন ফেরত কিংবা স্মার্ট কার্ড আন-লক করানোর জন্য হুড়োহুড়ি শুরু হয়ে গিয়েছে। একাধিক স্টেশনে অধিকাংশ টিকিট কাউন্টার বন্ধ থাকায় মেট্রো কর্মীদের সঙ্গে বচসায় জড়ান বহু যাত্রী। রাগের মাথায় একাধিক স্টেশনের কর্মীরা গোটা অব্যবস্থার দায় মেট্রো ভবনের ঠান্ডা ঘরে বসে থাকা মোটা মাইনের অফিসারদের উপর চাপান।



