Bartaman Logo
৩০ মে, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

শিল্পাঞ্চলে সব্জির দামে হাত পুড়ছে সাধারণ মানুষের, অভিযানে প্রশাসন

বেগুনের দাম কত? আধিকারিকদের প্রশ্ন শুনে বার্নপুর দৈনিক বাজারের সব্জি বিক্রেতা মনোজিৎ সাউয়ের বিনয়ী উত্তর, ‘৪০টাকা কেজি, স্যার’। ‘বেশ। কম দাম নিচ্ছ, বেশি বেশি সব্জি এনে বিক্রি কর।

শিল্পাঞ্চলে সব্জির দামে হাত পুড়ছে সাধারণ মানুষের, অভিযানে প্রশাসন
  • ৯ জুলাই, ২০২৫ ০৪:০০

নিজস্ব প্রতিনিধি, আসানসোল: বেগুনের দাম কত? আধিকারিকদের প্রশ্ন শুনে বার্নপুর দৈনিক বাজারের সব্জি বিক্রেতা মনোজিৎ সাউয়ের বিনয়ী উত্তর, ‘৪০টাকা কেজি, স্যার’। ‘বেশ। কম দাম নিচ্ছ, বেশি বেশি সব্জি এনে বিক্রি কর। তোমার মতো বিক্রেতারাই দাম নিয়ন্ত্রণ করতে পারবে’-প্রশংসা করে এগিয়ে গেলেন প্রশাসনিক কর্তারা। তাঁরা কিছুটা এগিয়ে যেতেই এক ক্রেতা প্রশ্ন করলেন, ৪০টাকা কেজি বেগুন তো, আমাকে দু’কিলো দিন। বিনয়ী মনোজিৎ তখন স্বমহিমায়। মেজাজ চড়িয়ে বললেন, আপনি ভুল শুনেছেন, বেগুন ৬০ টাকা কেজি। কয়েক মুহূর্তের মধ্যেই বেগুনের দাম বাড়ল কেজিতে ২০ টাকা!

Advertisement

বার্নপুর ডেইলি মার্কেটে পাণ্ডাবাবুর দোকানে তখন পৌঁছে গিয়েছেন প্রশাসনিক কর্তারা। ডেপুটি ম্যাজিস্ট্রেট নির্দেশ দিলেন, সব্জিগুলোর দাম বলুন। পাণ্ডাবাবু ঝড়ের গতিতে বলে গেলেন, কেজি প্রতি লাউ ৫০, ঝিঙে, কাল্লা ও বেগুন ৮০, বরবটি ও ওল ১০০, বিট-গাজর ৪০ টাকা কেজি। দাম শুনে আধিকারিকরা বলেন, ‘পাইকারি বাজারের চেয়ে থেকে দাম যথেষ্ট বেশি। দাম কম নিন।’ তাঁরা দোকান ছাড়তেই কমার বদলে দাম বেড়ে গেল। বিট-গাজর ৫০টাকা কেজি হয়ে গেল। বেগুন ৮০ থেকে লাফ দিয়ে ১০০তে পৌঁছল। এভাবেই পুলিস ও প্রশাসনের আধিকারিকদের কম দাম বলে ‘টুপি’ পরালেন ব্যবসায়ীদের অনেকে।
আসানসোল হোক বা বার্নপুর-শিল্পাঞ্চলের বাজারে সব্জির দাম আগুন। ক্রেতারা দরদাম করলেই ব্যবসায়ীদের উত্তর, বৃষ্টিতে সব্জি নষ্ট হয়ে গিয়েছে। তাই এই অবস্থা। ফলে বাজার করতে মধ্যবিত্তদের পকেটে টান পড়েছে।
বিষয়টি বুঝতে পেরেই জেলাশাসক পোন্নমবলম এস পশ্চিম বর্ধমান জেলার সমস্ত বড় সব্জি বাজারে অভিযান চালানোর নির্দেশ দেন। মঙ্গলবার প্রথমে আসানসোল বাজার, পরে বার্নপুর বাজারে অভিযান চলে। কৃষি বিপণন দপ্তরের কর্মী-আধিকারিকদের পাশাপাশি আসানসোল মহকুমার ডেপুটি ম্যাজিস্ট্রেট, পুলিসের এনফোর্সমেন্ট ব্রাঞ্চের আধিকারিকরা এতে অংশ নেন। তাঁদেরই যেভাবে কিছু ব্যবসায়ী বোকা বানালেন, তাতে সাধারণ ক্রেতাদের কী হাল হয়, তা সহজেই বোঝা যায়। তবে অভিযানের একেবারেই প্রভাব নেই তা নয়। ক্রেতারা জানান, অভিযানের আগে আরও বেশি দাম নেওয়া হচ্ছিল। অভিযানে আসার খবরে কিছুটা হলেও দাম কমেছে।
বার্নপুরের আদা-রসুন বিক্রেতা মনোজিৎ সাউ আধিকারিকদের কাছে চাঞ্চল্যকর অভিযোগ করেন। তিনি বলেন, আমি বাজারে আদা ও রসুনের সঠিক দাম নিচ্ছি। প্রতি কেজি ২০টাকা মার্জিন রেখে বিক্রি করছি। কিন্তু পাশের অসাধু ব্যবসায়ীরা পাইকারি বাজার থেকে প্রায় দ্বিগুন দামে সব্জি বিক্রি করছে। তারা আমাকে সস্তায় সব্জি বিক্রি বন্ধ করতে হুমকি দিচ্ছে। এমনকী, পুলিস দিয়ে ভয় দেখানোর চেষ্টা করছে। তাঁকে নিজের মোবাইল নম্বর দেন এগ্রিমার্কেটিং বিভাগের অ্যাসিস্ট্যান্ট ডিরেক্টর দিলীপ মণ্ডল। তিনি বলেন, কেউ বেশি দাম নেওয়ায় বাধ্য করলে আমরা পদক্ষেপ নেব। বাজারে দাম নিয়ন্ত্রণে রাখতে এবার প্রয়োজনে ক্রেতা সেজে অভিযান হবে।  বাজারে অভিযানে প্রশাসনের কর্তারা। নিজস্ব চিত্র

সম্পর্কিত সংবাদ