নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: বদলেছে সরকার। এরপরে ‘ভালো তৃণমূলে‘ নাম লিখিয়েও রেহাই মিলল না। প্রাতিষ্ঠানিক দুর্নীতির তদন্তে এবার কমিশনের স্ক্যানারে প্রাক্তন মেয়র ফিরহাদ হাকিম। বৃহস্পতিবার টালিগঞ্জ সার্কুলার রোডে পলিমার কারখানায় হানা দেন তদন্তকারীরা। জানা যায়, ওই কারখানার অধিকর্তা প্রাক্তন মেয়র ফিরহাদ হাকিম। অভিযোগ, ওয়াকফ জমি বেআইনিভাবে দখল করে ওই কারখানা তৈরি করেছিলেন ফিরহাদ। দুর্নীতির এই অভিযোগকে কেন্দ্র করেই এদিন প্রাথমিক পর্যায়ের অনুসন্ধানে যায় প্রাক্তন বিচারপতি বিশ্বজিৎ বসুর নেতৃত্বাধীন তদন্ত কমিশন। কারখানার বেশ কিছু নথিপত্র সংগ্রহ করেন তদন্ত কমিশনের তিন সদস্যের দল। যদিও ঘনিষ্ঠ মহলে ববি হাকিম জানিয়েছেন, ১৯৬৫ সাল থেকে ওই কারখানা চলছে। যুবদের স্বনির্ভর সংক্রান্ত লোন নিয়ে সেই সময় এই ব্যবসা শুরু করেছিলাম। ওটা ব্যক্তিগত মালিকানাধীন জমি, ভাড়া নিয়ে ব্যবসা চালাই।
আগেও গার্ডেনরিচে ফিরহাদ হাকিমের একটি জমি দখলকে কেন্দ্র করে অভিযোগ উঠেছিল। বিজেপি সরকারের আমলে এবার টার্গেট টালিগঞ্জ সার্কুলার রোডের পলিমার কারখানা। ৩৩,টালিগঞ্জ সার্কুলার রোডে এই কারখানাটি অবস্থিত। এই ঠিকানা ঠিক পাশেই রয়েছে আরও একটি মার্বেলের গোডাউন। দুটি জমিই ওয়াকফ বোর্ডের। এই দুটি জমি দখল করে নিজস্ব ব্যবসা চালানোর অভিযোগ উঠেছে প্রাক্তন মেয়রের বিরুদ্ধে। কারখানার দেওয়ালে লেখা হাকিম পলি মেকার প্রাইভেট লিমিটেড। কোম্পানির ওয়েবসাইটের লিংক দেওয়া রয়েছে সেই দেওয়ালেই। সেই ওয়েবসাইট খুলতেই তাতে লেখা, এই কোম্পানি ফিরহাদ হাকিমের মালিকানাধীন। শুধু তাই নয়, কোম্পানির অ্যাডমিনিস্ট্রেশন অফিসের বাইরে টাঙানো রয়েছে একটি তথ্যপঞ্জি। এই পলিমার কারখানায় কী কী তৈরি হয়, তাতে কোন কোন উপকরণ ব্যবহৃত হয়, কীভাবে তার উৎপাদন হয়, সমস্তটাই লিখিত রয়েছে। নীচে ডিরেক্টর বা অধিকর্তার সই। ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখা গিয়েছে, সেই সইয়ের ওপর একটি সাদা কাগজ সেঁটে দেওয়া হয়েছে। কোম্পানির কর্মচারীদের সে নিয়ে প্রশ্ন করা হলে তারা নিরুত্তর থেকেছেন। এদিন দুপুর বারোটা নাগাদ তদন্ত কমিশনের বিশেষ টিম ঘটনাস্থলে এসে পৌঁছয়। ছিলেন একজন ইনস্পেক্টর পদমর্যাদার অফিসার। অ্যাডমিনিস্ট্রেশন অফিসে গিয়ে কোম্পানির যাবতীয় তথ্য ও নথিপত্র চান। কোম্পানির এক কর্মচারী জানিয়েছেন, তদন্তকারী আধিকারিকরা যে সমস্ত তথ্য প্রমাণ ও নথিপত্র চেয়েছেন, তার সমস্ত কিছুই কোম্পানির কাছে রয়েছে। সেই সমস্ত নথিপত্রের ফটোকপি আধিকারিকদের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে। পলিমার কারখানার পাশাপাশি মার্বেলের গোডাউনের যাবতীয় নথিপত্র সংগ্রহ করেন তদন্তকারীরা। সূত্রের খবর, মূলত জমির মালিকানাধীন সংক্রান্ত যাবতীয় নথিপত্র নেওয়া হয়েছে। তদন্তকারী আধিকারিকদের দাবি, জমি নিয়ে নির্দিষ্ট কিছু অভিযোগ রয়েছে। তার প্রাথমিক অনুসন্ধানের জন্যই তারা সেখানে এসেছিলেন। থেকে বেশ কিছু নথিপত্র সংগ্রহ করা হয়েছে। এই বিষয়ে প্রতিক্রিয়া জানতে প্রাক্তন মেয়র তথা প্রাক্তন পুরমন্ত্রী ফিরহাদ হাকিমকে যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হলে তিনি ফোন ধরেননি।