


নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: বিজেপির কথা মতো নির্বাচন কমিশন বাংলায় ভয়ের বাতাবরণ তৈরি করছে। সরাসরি এই অভিযোগ আনলেন রাজ্যের মন্ত্রী মানস ভুঁইয়া। সেইসঙ্গে রাজ্য সরকারি কর্মচারী ফেডারেশনের পক্ষ থেকে মানস ভুঁইয়া অভয়বাণী দিয়েছেন, নির্বাচন কমিশন রাজ্যের যে সাতজন সরকারি কর্মচারীকে সাসপেন্ড করেছে, তাঁদের পাশে রয়েছে সংগঠন।
এসআইআর প্রক্রিয়া শুরু হওয়ার প্রথম দিন থেকেই তৃণমূল সরব হয়েছে। গোটা এই প্রক্রিয়ায় বিজেপি ও নির্বাচন কমিশনের চক্রান্ত দেখছে তৃণমূল। গতবছরের ৪ নভেম্বর এসআইআর প্রক্রিয়ায় ইনিউমারেশন ফর্ম বিলি শুরু হয়। সেদিনই কলকাতার রাজপথে মিছিল করেন তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সঙ্গে ছিলেন দলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। এরপর দেখা গিয়েছে, এসআইআর প্রক্রিয়ায় দিন যত এগিয়েছে, তত তৃণমূলের কণ্ঠস্বর জোরালো হয়েছে। তৃণমূলের পক্ষ থেকে স্পষ্টভাবে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে, একজনও বৈধ ভোটারের নাম যেন বাদ না-যায়। সেই সূত্রে সাধারণ মানুষের স্বার্থে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সুপ্রিম কোর্টে যাওয়া গোটা দেশের নজর কেড়েছে। কিন্তু এতসবের পরেও কমিশনের তুঘলকি কাণ্ডকারখানা নিয়ে অভিযোগ তুলেছে তৃণমূল। এসআইআর প্রক্রিয়ায় যুক্ত সাতজন আধিকারিককে কর্তব্যে গাফিলতির অভিযোগে সাসপেন্ড করেছে কমিশন। তাঁরা রাজ্য সরকারি কর্মচারী। তাঁদের সঙ্গে কথা বলেছেন রাজ্য সরকারি কর্মচারী ফেডারেশনের চেয়ারম্যান মানস ভুঁইয়া এবং আহ্বায়ক প্রতাপ নায়েক।
মানসবাবু বলেন, কর্মচারীদের পাশে আমরা আছি। তাঁদের সবরকমভাবে সহযোগিতা করা হবে। আইনিসহ সমস্ত দিক পর্যালোচনা করা হচ্ছে। ওই সাতজনকে আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ দেওয়া হয়নি কেন? আর সাসপেন্ড সংক্রান্ত চিঠিতে কেন কোনো সময়সীমার উল্লেখ নেই? ওরা কি মৃত্যুর আগের দিন পর্যন্ত সাসপেন্ড থাকবেন নাকি নির্বাচন প্রক্রিয়া চলাকালীন, নাকি চাকরিজীবনের পূর্ণ মেয়াদ পর্যন্ত? প্রতাপবাবু বলেন, আগামিদিনে আমরা নির্বাচন কমিশনের কাছে ডেপুটেশন দিতে পারি।
পাশাপাশি বিজেপি ও নির্বাচন কমিশনকে দাঁড়িপাল্লার দুদিকে বসিয়ে আক্রমণ শানিয়েছেন তৃণমূলের দোর্দণ্ডপ্রতাপ নেতা মানস ভুঁইয়া। তাঁর বক্তব্য, বিজেপির বন্ধু হল নির্বাচন কমিশন। ওরা সুপ্রিম কোর্টে ধাক্কা খেয়ে এখন বাংলায় রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক আতঙ্ক এবং ভয়ের বাতাবারণ তৈরি করছে। একইসঙ্গে কমিশনকে মানসের খোঁচা, আমার মায়ের দশজন সন্তান। আমি সপ্তম গর্ভের। আমি কি তাহলে মঙ্গলগ্রহে চলে যাব?