শুভঙ্কর বসু, কলকাতা: বাংলায় এক দফায় বিধানসভা ভোট সেরে ফেলতে চায় রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনি আধিকারিকের দপ্তর। সেই মতো প্রস্তাব গিয়েছে নির্বাচন কমিশনের কাছে। এব্যাপারে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিতে ইতিমধ্যে দিল্লির নির্বাচন সদনে তৎপরতা তুঙ্গে। সূত্রের খবর, পশ্চিমবঙ্গে ভোটের জন্য কত সংখ্যক কেন্দ্রীয় বাহিনী মিলবে, সেটির ভিত্তিতেই স্থির হবে ভোটের দফা। তাই আপাতত বাহিনীর হিসাব কষছেন জ্ঞানেশ কুমাররা। আর সেই কারণে অবিলম্বে রাজ্যে স্পর্শকাতর বুথ চিহ্নিত করার নির্দেশ এসেছে দিল্লি থেকে। সেই তালিকা হাতে পাওয়ার পরই ভোটের দফা চূড়ান্ত করে ফেলবে কমিশন।
স্পর্শকাতর বুথ ও এলাকার সংখ্যার উপরই এই সংক্রান্ত পুরো বিষয়টি নির্ভর করে। প্রতিটি বুথে কেন্দ্রীয় বাহিনী থাকে। কিন্তু স্পর্শকাতর এলাকায় ঝামেলা এড়াতে অতিরিক্ত সংখ্যক বাহিনী প্রয়োজন। সেই কারণে অবিলম্বে স্পর্শকাতর বুথ ও এলাকার সংখ্যা চিহ্নিত করতে প্রতিটি জেলাকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ভোটে নজরদারির কাজে নিযুক্ত সবক’টি এজেন্সির কাছেও এই সংক্রান্ত রিপোর্ট চেয়েছে কমিশন। সাধারণত গত নির্বাচনের তারিখের ছ’মাস আগে থেকেই স্পর্শকাতর বুথ ও এলাকা চিহ্নিতকরণের কাজ শুরু হয়। একইসঙ্গে চার মাস আগেই এই কাজের জন্য নিয়োগ করা হয়ে থাকে সেক্টর অফিসার। কিন্তু এবার এসআইআরের কারণে সময়মতো এই প্রক্রিয়া শুরু করা করা যায়নি। গত নির্বাচনে রাজ্যে স্পর্শকাতর বুথ ও এলাকার হিসাব ধরে যাবতীয় পরিকল্পনা চলছিল। বর্তমানে এসআইআরের কাজ শেষের দিকে পৌঁছাতেই কমিশন ভোটের কাজ পুরোদমে শুরু করে দিচ্ছে। অবিলম্বে সেক্টর অফিসার নিয়োগ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। প্রত্যেক সেক্টর অফিসারকে এক-দু’ঘণ্টার মধ্যে ১০-১২টি বুথের পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে এই তালিকা তৈরি করতে হবে। কোথাও অতি স্পর্শকাতর বুথ থাকলে তাও উল্লেখ করতে বলা হয়েছে।
জানা গিয়েছে, প্রাথমিকভাবে তিন দফাতেই পশ্চিমবঙ্গে ভোট করানোর ভাবনা রয়েছে কমিশনের। উত্তরবঙ্গে একদফায় এবং দক্ষিণবঙ্গে দু’টি দফা ভাঙা হবে ভোটগ্রহণ। নির্বাচনি হিংসার অতীত পর্যালোচনা করে নজরে রয়েছে রাজ্যের মোট সাতটি জেলা। উত্তরবঙ্গের কোচবিহার, উত্তর দিনাজপুর এবং দক্ষিণবঙ্গের দুই ২৪ পরগনা, মালদহ, মুর্শিদাবাদ ও বীরভূম।
এছাড়াও কমিশন মাসখানেক আগে থেকেই প্রতিটি জেলাকে সপ্তাহ ভিত্তির আইনশঋঙ্খলাজনিত রিপোর্ট পেশের নির্দেশ দিয়েছিল। সেই মতো প্রতিটি জেলার তরফে সরাসরি সপ্তাহভিত্তিক রিপোর্ট যাচ্ছে দিল্লিতে। সূত্রের খবর, রাজ্যের তরফে স্পর্শকাতর এলাকা ও বুথের সংখ্যা হাতে পাওয়ার পর জেলাশাসকদের পাঠানো আইনশৃঙ্খলা সংক্রান্ত ওই রিপোর্টের তুল্যমূল্য বিচার করবে কমিশন। তারপরই স্পর্শকাতর বুথ সংখ্যা চূড়ান্ত করা হবে। আর সেই অনুযায়ী বাহিনী ও ভোটের দফার সংখ্যা নির্ধারণ করা হবে। ২০২১ সালের বিধানসভা ভোটে এ রাজ্যে প্রায় ১১০০ কোম্পানি কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছিল। সূত্রের খবর, সেই হিসাব ধরেই স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের সঙ্গে বাহিনী সংক্রান্ত আলোচনাও আরম্ভ করেছেন জ্ঞানেশ কুমাররা।