


নিজস্ব প্রতিনিধি, নয়াদিল্লি: দূরদর্শনে গত ১৮ এপ্রিল জাতির উদ্দেশে ভাষণে বিরোধীদের আক্রমণ কি আদৌ আদর্শ নির্বাচন বিধি লঙ্ঘন? খতিয়ে দেখছে নির্বাচন কমিশন। মঙ্গলবার কমিশন সূত্রে এই খবর জানা গিয়েছে। কমিশনের যে এমসিসি (মডেল কোড অব কনডাক্ট) বিভাগ রয়েছে, তারা বিষয়টি খতিয়ে দেখছে। আলোচনা চলছে আইনজীবীদের সঙ্গে। ‘শীঘ্র’ এ ব্যাপারে কমিশন তাদের মতামত জানাবে বলেই জানানো হয়েছে। যদিও অভিযোগ, কমিশনের ওই ‘শীঘ্র’ সময় ভোট মিটে গেলে হবে। কারণ, এর আগেও প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি নির্বাচনি সভায় সেনাবাহিনীর প্রসঙ্গ উল্লেখ করেও পার পেয়ে গিয়েছিলেন। কমিশন কিছুই করেনি। ফলে কমিশন খতিয়ে দেখছি বলে জানালেও এ ব্যাপারে কোনো শাস্তিমূলক পদক্ষেপ কমিশনের কাছ থেকে আশা করছে না বিরোধীরা। তাই পালটা চাপে রাখতে মঙ্গলবার নরেন্দ্র মোদির বিরুদ্ধে লোকসভায় ‘স্বাধিকার ভঙ্গে’র (প্রিভিলেজ) নোটিস দেওয়া হয়েছে।
একদিকে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার, অন্যদিকে লোকসভার স্পিকার। উভয়ের কাছে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির নামে অভিযোগ জমা পড়েছে। ইস্যু: সংসদে সংবিধান সংশোধন বিল পাশ করাতে ব্যর্থতার দায় বিরোধীদের ঘাড়ে চাপিয়ে দূরদর্শনে ‘জাতির উদ্দেশে’ ভাষণ। জাতীয় প্রচার মাধ্যমে দেশের জনগণের উদ্দেশে ভাষণে আদতে রাজনীতি করেছেন মোদি। যা ভোটপর্বে আদর্শ নির্বাচন বিধি লঙ্ঘন তো বটেই। একইসঙ্গে সংসদের স্বাধিকার ভঙ্গ বলেও বিরোধীদের দাবি। কমিশনের এক কর্তা এদিন জানান, আপাতত সিপিএমের ওই অভিযোগের চিঠিই খতিয়ে দেখছে। বিশিষ্টদের অভিযোগটি নয়। তবে সেই চিঠিও এমসিসি বিভাগে গিয়েছে। অন্যদিকে, লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লাকে প্রধানমন্ত্রীর বিরুদ্ধে স্বাধিকার ভঙ্গের নোটিস দিয়েছেন কংগ্রেস সাংসদ কে সি বেণুগোপাল। তিন পাতার চিঠিতে তাঁর বক্তব্য, বিরোধী সাংসদরা কখনো বলেননি যে, মহিলা সংরক্ষণ সমর্থন করেন না। ২০২৩ সালে সর্বসম্মত মহিলা বিল পাশ হয়েছে। যা এখন আইনে পরিণত। তারপরেও কী করে প্রধানমন্ত্রী দূরদর্শনের মতো জাতীয় মাধ্যমে সম্পূর্ণ মিথ্যাচার করেন? প্রশ্ন তুলে বেণুগোপাল বিষয়টি স্বাধিকার ভঙ্গ দাবি করেই প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে স্পিকারকে অনুরোধ করেছেন।