নিজস্ব প্রতিনিধি, দক্ষিণ ২৪ পরগনা: এসআইআরের কাজের মধ্যেই বিধানসভা নির্বাচনের অন্যান্য প্রস্তুতি চলছে জোরকদমে। ভোটের দিন ভোটকর্মীদের পাওয়া নিয়ে প্রতিবারই দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলায় ডামাডোলের পরিস্থিতি তৈরি হয়। কারণ কতজনকে পাওয়া যাবে, বুথে কতজন যাবেন ইত্যাদি প্রশ্ন উঠতে থাকেই। এবার যাতে তেমন কোনো পরিস্থিতি তৈরি না হয়, তাই আগেভাগেই ভোটকর্মী জোগাড়ের কাজ সেরে ফেলেছেন জেলার নির্বাচনী আধিকারিকরা। জানা গিয়েছে, জেলার প্রায় ৮ হাজার ৮০০ বুথের জন্য ৬২ হাজার ভোটকর্মী দরকার। ইতিমধ্যেই তাঁদের চিহ্নিত করা হয়েছে।
এমনিতেই একটি বুথে চারজন করে ভোটকর্মী লাগে। একজন প্রিসাইডিং অফিসার এবং তিনজন পোলিং অফিসার। এছাড়াও কয়েকজনকে রিজার্ভে রাখা হয়। সেইসব হিসেব করেই ৬২ হাজার ভোটকর্মী নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে। এক আধিকারিকের কথায়, এবার ভোট গ্রহণের জন্য বেশি সংখ্যক শিক্ষক ও সরকারি কর্মী নেওয়া হয়েছে। কারণ প্রতিবার টায় টায় লোকবল থাকে। শেষ বেলায় অনেকে বাদ যান। তখন সমস্যা হয়। এছাড়াও ভোট কর্মীদের একটি অংশ প্রভাব খাটিয়ে নাম বাদ দেওয়ার চেষ্টা চালান। এসব মাথায় রেখেই যতটা সম্ভব অতিরিক্ত লোকবলের ব্যবস্থা করা হচ্ছে।
জেলা সূত্রে খবর, ১২০০ ভোটার পিছু একটি বুথ হলে মোট বুথের সংখ্যা গিয়ে দাঁড়াত প্রায় সাড়ে ন’হাজার। এবার এসআইআরের ফলে বিভিন্ন বুথে ভোটারের সংখ্যা কামেছে। তার উপর অনেকে এখনও ‘বিচারাধীন’। তাঁদের মধ্যে কতজনের নাম চূড়ান্ত তালিকায় ঠাঁই পাবে, তা এখনও স্পষ্ট নয়। তাই আপাতত ১২০০ ভোটার অনুপাতে বুথের বিন্যাসের প্রক্রিয়া স্থগিত রেখেছে কমিশন। কেবলমাত্র আবাসনে ১৫টি বুথ বাড়ছে। তাই ৮ হাজার ৮৭৪টি বুথের হিসেব করে ভোটকর্মী নেওয়া হয়েছে।আরও একটি বিষয় হল, দক্ষিণ ২৪ পরগনার ছ’টি শহুরে বিধানসভা কেন্দ্রের জন্য ভোটকর্মী পেতে সমস্যা হয়। কারণ কলকাতা উত্তর ও দক্ষিণের একাধিক বিধানসভা কেন্দ্রে ভোটকর্মী হিসাবে সরকারি কর্মীদের নিতে সবাই আগ্রহ দেখায়। তখন কাকে কোন দিকে দেওয়া হবে, তা নিয়ে দড়ি টানাটানির পরিস্থিতি তৈরি হয়। তাই দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলা প্রশাসন আগেভাগেই ভোটকর্মীদের চিহ্নিত করার কাজ সেরে রেখেছে।