পুরুলিয়ার প্রত্যন্ত গ্রামে বড় হয়েছেন চিকিৎসক দীপঙ্কর সান্যাল। স্ত্রী শালিনী ও তিন বছরের কন্যাকে নিয়ে মফস্সলের একটি মেডিক্যাল কলেজের প্রফেসরের চাকরি ছেড়ে কলকাতায় চলে আসেন প্র্যাকটিস করতে। বাকি সব উন্নত শহুরে সন্তানদের মতো তাঁদের সন্তানকেও সব রকম সুযোগ-সুবিধা দিয়ে বড় করে তোলা তাঁর উদ্দেশ্য। শহুরে বিলাসিতা, প্রতিপত্তির মোহ আর আরও উন্নতির নেশা ধীরে ধীরে গ্রাস করে সান্যাল দম্পতিকে। পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছয় যে, নিজেরাই ভুলতে বসেন নিজেদের। এভাবেই কেটে যায় বারোটা বছর। এই ইঁদুর-দৌড়ে পিছিয়ে পড়ে তাঁদের টিনএজার মেয়ে দিশা। নিজের পরিচয় খোঁজা আর একাকিত্ব ভোলার উপায় হিসেবে সে বেছে নেয় আজকের সাইবার জগৎ। তখনই ঘটে ঘোর বিপত্তি। সত্যের মুখোমুখি হতে দীপঙ্কর ও শালিনী ফিরে যান নিজেদের শিকড়ে। প্রথমে নিজেদের ভুলের সঙ্গে, তারপর গোটা সমাজের সঙ্গে লড়াই শুরু হয়।
এভাবেই ‘প্রত্যাবর্তন’ ছবির চিত্রনাট্য লিখেছেন সমর্পণ সেনগুপ্ত। পরিচালনার দায়িত্বও তাঁর। পরিচালকের কথায়, ‘আপনি সময়কে গুরুত্ব দেবেন, নাকি আপনার গুরুত্বগুলোকে সময় দেবেন? ইদানীং সময়ের এই ছোট্ট কিন্তু বড্ড কঠিন প্রশ্নের উত্তরের প্রতিচ্ছবি হল ‘প্রত্যাবর্তন’। এই গল্প কোনও একক পরিবারের নয়—এ আমাদের সময়ের গল্প। দ্রুত বদলে যাওয়া শহর, সাফল্যের দৌড়, সোশ্যাল মিডিয়ার ঝলকানি আর ভালো থাকার সংজ্ঞার ভেতরে হারিয়ে যাওয়া মানুষের গল্প। আমার ছবির চরিত্ররা কাল্পনিক নয়। তারা আমাদেরই প্রতিবিম্ব।’
এই ছবি অঞ্জন দত্ত, রূপা গাঙ্গুলি, অপরাজিতা আঢ্য, খরাজ মুখার্জি, কনীনিকা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মতো শিল্পীর অভিনয়ে সমৃদ্ধ। চিত্রগ্রহণের দায়িত্বে গোপী ভগত। শিল্প নির্দেশনা করেছেন তন্ময় চক্রবর্তী। সঙ্গীত পরিচালনায় বনি চক্রবর্তী। সহ চিত্রনাট্যকার অনির্বাণ ঘোষাল ও অভিজিৎ চ্যাটার্জি। পোশাক পরিকল্পনা করেছেন প্রীতি রক্ষিত। প্রযোজনার ভার অভিজিৎ চ্যাটার্জির। ‘এই ছবি দর্শককে দোষী করে না, বরং আয়নার সামনে দাঁড় করায়। আমি চাই দর্শক থিয়েটার থেকে বেরিয়ে শুধু গল্প নয়—নিজেদের জীবন, নিজেদের সম্পর্ক এবং নিজেদের ভালো লাগাগুলোকেও সঙ্গে করে নিয়ে যাক’, বললেন সমর্পণ। ‘প্রত্যাবর্তন’ মানুষের অদম্য জীবনীশক্তি এবং প্রতিকূলতার বিরুদ্ধে জয়ী হওয়ার গল্প। জীবন যতই কঠিন আঘাত হানুক না কেন, মানুষের অদম্য প্রাণশক্তি এবং জীবনের প্রতি ভালোবাসা তাকে কখনও পরাজিত হতে দেবে না—তাকে করে রাখবে ‘অপরাজিত’।