নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: রাতভর আকাশ ভাঙা বৃষ্টিতে ভাসল কলেজ স্ট্রিট। উম-পুনের বিপর্যয় কাটিয়ে ঘুরে দাঁড়িয়েছিল মহাদেশের প্রাচীনতম বইপাড়া। কিন্তু পুজোর মুখে ফের সেই প্রাকৃতিক দুর্যোগের কবলে ক্ষতির মুখ দেখতে হল বই প্রকাশকদের। ব্যবসায়ীরা জানাচ্ছেন, মজুত বিপুল বইপত্র সোমবার সারারাতের প্রবল বৃষ্টিতে ভিজে গিয়েছে।
ধানসিড়ি প্রকাশনের কর্ণধার পলাশ দে বলেন, ‘আমাদের ধানসিড়ি বইঘর বিপর্যস্ত। বইপত্রগুলো জলে ভাসছে। উম-পুনের ক্ষত সেরে উঠেছিলাম। কিন্তু পুজোর আগে আবার এই ধাক্কা।’ তবে বাংলার বই প্রকাশকরা আশাবাদী। তাঁরা বলছেন, উম-পুন থেকে যেভাবে আমরা উঠে দাঁড়িয়েছিলাম, এবারও এখান থেকে ঘুরে দাঁড়াতেই হবে। সামনে পুজো বলেই, প্রকাশনা সংস্থাগুলো বইয়ের স্টক তুলে রেখেছিল। যাঁরা একতলায় বই রাখেন, তাঁদের সমস্ত বইপত্রই জলে ভিজে গিয়েছে। অভিযান প্রকাশনার কর্ণধার মারুফ হোসেন বলছিলেন, ‘অভিযান বুক ক্যাফেতে জল ঢুকে গিয়েছে। এত উঁচু সিঁড়ি করেও কোনও লাভ হল না। বিভিন্ন প্রকাশনার পুজো সংখ্যা, বই, লিটল ম্যাগাজিন, অভিযানের সব বই নষ্ট। পুজোর আগে বিপুল ক্ষতি হল।’
কলেজ স্ট্রিটের অলিগলিতে বইয়ের দোকানগুলো বিপুল ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছে। বই প্রকাশনা সংস্থা ‘প্রতিক্ষণ’-এর তরফে জানানো হয়েছে, পূর্বাভাস থাকলে তবুও কিছুটা প্রাক্প্রস্তুতি নেওয়া যেত। অনেক প্রকাশনা সংস্থারই দাবি, এত ভারী বৃষ্টিপাত যে হবে তার কোনও পূর্বাভাস ছিল না। তেমনটা থাকলে আগাম কিছু ব্যবস্থা করাই যেত।
প্রতিক্ষণের তরফে অন্যান্য প্রকাশকদের পাশে দাঁড়ানোর বার্তা দেওয়া হয়েছে। তারা ফোন নম্বর দিয়ে জানিয়েছে, কারও বই বা কাগজ স্থানান্তর করার প্রয়োজন থাকলে তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করা যাবে। বড় ব্যবসায়ীরা যেমন সমস্যায় পড়েছেন, তেমনই কলেজ স্ট্রিটের ছোট জামাকাপড়ের দোকানি থেকে ছোট প্রকাশন ব্যবসায়ী অনেকেই ব্যাপক ক্ষতির মুখে পড়েছেন। তাঁরা বলছেন, পরদিন সকালে যে এই দৃশ্য দেখতে হবে, সোমবার সন্ধ্যায় দোকান বন্ধ করে আসার সময় তা ভাবতেই পারিনি!
বিপর্যয় যতই আসুক, এককাট্টা হয়ে কলেজ স্ট্রিটের সমস্ত প্রকাশক এই বিপর্যয়ের মোকাবিলা করতে বদ্ধপরিকর।