


নিজস্ব প্রতিনিধি, তমলুক: পূর্ব মেদিনীপুরে দৈনিক ২৫টি জায়গায় যাত্রীবাহী বাস থেকে আড়াই লক্ষ টাকা ইউনিয়ন ফি-র নামে জোরজুলুম করে তোলা আদায় করা হত। গুরুত্বপূর্ণ স্টপে বাস দাঁড়ালেই ছুটে আসতেন ইউনিয়ন কর্মীরা। বাসের ভিতর থেকে কন্ডাক্টর গেটের সামনে এসে নগদ ২০, ৩০ থেকে ৫০ টাকা পর্যন্ত তাদের হাতে তুলে দিতেন। মেচেদা, তমলুক, নন্দকুমার, কাঁথি, এগরা, দীঘায় গুরুত্বপূর্ণ স্টপে এটাই ছিল নিত্যদিনের ছবি। দীঘা-হাওড়া দূরপাল্লার বাস থেকে তুলনামূলক বেশি টাকা আদায় হত। ওই সব বাস মালিকদের দৈনিক ৭০০ টাকা খরচ হত শুধু ইউনিয়ন ফি দিতে। রাজ্যে পালাবদলের পরও কয়েকটি জায়গায় বাস থেকে টাকা আদায়ের চেষ্টা হচ্ছিল। গত ১৯মে পূর্ব মেদিনীপুর ডিস্ট্রিক্ট বাস ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক সুকুমার বেরা জেলার ১৯ জন তৃণমূলের ইউনিয়ন নেতা-কর্মীর বিরুদ্ধে তমলুক থানায় এফআইআর করেছেন। প্রত্যেকের বিরুদ্ধে জোরকরে চাঁদা আদায়ের নির্দিষ্ট ধারায় কেস হয়েছে। তারপর তমলুক মহকুমায় বাস থেকে তোলাবাজি বন্ধ। এগরা এবং দীঘায় দু’-একটি জায়গায় বাস আটকে টাকা আদায় হচ্ছে রবিবার সুকুমারবাবু অভিযোগ করেছেন।
পুলিশ প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছে। মেচেদা সেন্ট্রাল বাসস্ট্যান্ড থেকে বাস ছাড়ার পরই শহিদ মাতঙ্গিনী ব্লকের শান্তিপুর থেকে ইউনিয়ন ফি-র নাম করে তোলা আদায় শুরু হয়। শান্তিপুর, চিমুটিয়া, রামচন্দ্রপুর, হরশঙ্কর, তমলুক হাসপাতাল মোড়, নন্দকুমার হাইরোড, নরঘাট ব্রিজ, চণ্ডীপুর, হেঁড়িয়া, কাঁথি বাইপাস, কাঁথি সেন্ট্রাল বাসস্ট্যান্ড, দীঘা বাসস্ট্যান্ড, এগরা বাসস্ট্যান্ড সহ বিভিন্ন জায়গায় যাত্রীবাহী বাস থেকে টাকা আদায় করা হয়। প্রতিটি জায়গায় একটা ইউনিয়ন অফিস খুলে সেখানে মমতা ও অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ছবি সমেত ফ্লেক্স ঝুলিয়ে তোলাবাজি চলত। জানা গিয়েছে, বাম জমানায় সিটুর ছত্রছায়ায় এই মডেল কার্যকর করা হয়েছিল। ইউনিয়ন ফি আদায়ের নাম করে যাত্রীবাহী বাস থেকে টাকা আদায় করা হত। ২০১১ সালে রাজ্যে পালাবদলের পর সেইসব সিটু নেতা-কর্মীরা রাতারাতি আইএনটিটিইউসি সংগঠনে নাম লিখিয়ে নেন। তারপর সিটুর ব্যানার খুলে একই ইউনিয়ন অফিসে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ছবি লাগানো ফ্লেক্স বেঁধে পুরনো মডেলেই টাকা তোলা অব্যাহত ছিল। গত ৪মে পালাবদলের পর তোলাবাজি এবং সিন্ডিকেট রাজের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার কথা ঘোষণা করেছে রাজ্য।
শুধু ঘোষণাই নয়, পূর্ব মেদিনীপুরের পুলিশ সুপার অংশুমান সাহা প্রত্যেক থানার আইসি এবং ওসিকে তোলাবাজি ও সিন্ডিকেটরাজ খতম সহ ২৫ দফা নির্দেশিকা পাঠিয়েছেন। যে কারণে পণ্যবাহী গাড়ি আটকে টাকা আদায়, যাত্রীবাহী বাস থেকে ইউনিয়ন ফি আদায়, সাট্টা, জুয়া ও বেআইনি কারবার থেকে পুলিশের একাংশের মাসোয়ারা আদায় প্রায় বন্ধ। নন্দকুমারের দূরপাল্লার বাসের মালিক শ্রীকান্ত সাহু বলেন, আমাদের ১২টি দূরপাল্লার বাস রোজ হাওড়া-দীঘা চলাচল করে। তমলুক থেকে দীঘা পর্যন্ত ১০টির বেশি স্টপে ইউনিয়ন ফি দিতে হয়। এটা বছরের পর বছর ধরে চলে আসছিল। এখন সেই ফি নেওয়া বন্ধ। আমরা সত্যিই খুশি। ডিস্ট্রিক্ট বাস ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক সুকুমার বেরা বলেন, নতুন সরকার তোলাবাজির বিরুদ্ধে। তারপরেও তৃণমূলের শ্রমিক ইউনিয়নের নেতারা তোলা আদায় চালিয়ে যাচ্ছিল।